

লন্ডন অফিস : ৭২ এর ধর্ম নিরেপক্ষ সংবিধানে ফিরে যাওয়ার আহবান, সনাতনধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব, শারদীয় দূর্গা পূজায়, গুজবছড়িয়ে, পরিকল্পিত ভাবে ধারাবাহিক সাম্প্রদায়িক হামলারপ্রতিবাদে লন্ডনে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটি যুক্তরাজ্য শাখার ডাকে পূর্বলণ্ডনে আলতাব আলী পার্কে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে শতাধিক মানুষ সমমনা বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে এসে জড়ো হন। প্রতিবাদসভায় গণসংগীত ও প্রতিবাদী গান পরিবেশন করেন যুক্তরাজ্য উদীঁচী ও সত্যেনসেন স্কুল অব পারফর্মিং আর্টস। সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী কবিতা আবৃত্তি করেন যুক্তরাজ্য নির্মূল কমিটির কার্যকরী সদস্য বাচিক শিল্পী মুনীরা পারভীন।
সংগঠনের সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রুবি হকের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন নির্মুল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আনসার আহমেদ উল্লাহ, যুক্তরাজ্য কমিটির সহ সভাপতি সৈয়দ আনাস পাশা, যুগ্নসম্পাদক স্মৃতি আজাদ, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও বাংলাদেশ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি হরমুজ আলী, যুক্তরাজ্য সিপিবির সম্পাদক কমরেড আবেদ আলী, উদীচীশিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি রফিকুল হাসান খান, সত্যেন স্কুলের সভাপতি গোপাল দাশ, সেকুলার বাংলাদেশ মুভমেন্টের সভাপতি কাউন্সিলর পুষ্পিতা গুপ্তা, সাধারণ সম্পাদক সাহিত্য পাল, বাংলাদেশ হিন্দু এসোসিয়েসন ইউকের সভাপতি প্রশান্ত পুরকায়স্থ, সাধারণ সম্পাদক সুজিত চৌধুরী, যুক্তরাজ্য জাসদ সহসভাপতি মুজিবুল হক মনি, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্সকাউন্সিল ইউকের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত দাশ, বি হিউম্যান ফাস্টমুভমেন্টের সভাপতি অজন্তা দেব রায়, মানবাধিকার নেতা সলিসিটর সৈয়দ ইকবাল, বারিস্টার সৈয়দ রুম্মান, ইঞ্জিনিয়ার প্রশান্ত দাশগুপ্ত, বারিস্টার কামরুল হাসান তুষার, জাসদ নেতা সাবুল শামসুজ্জামান, মাহমুদুর রহমান শাহনুর, ইউনাইটেড হিন্দুকালচারাল এসোসিয়েশনের সভাপতি গণেশ ঘোষ, মানবাধিকার নেতা সলিসিটর সাইদুজ্জামান সাঈদ, মোস্তফা কামাল মিলন, লেবার পার্টির নেতা মুরাদ কোরেশি, নারী নেত্রী সৈয়দা নাজনীন শিখা, হিন্দু ওয়েলফেয়ার এসেসিয়েশনের তপন মণ্ডল , বাংলাদেশছাত্রলীগ যুক্তরাজ্য শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির আখতারুজ্জামান, বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স কাউন্সিলের যুক্তরাজ্য শাখার সাধারণ সম্পাদক সুশান্ত দাশ প্রশান্ত এবং ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন সামাজিক রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া নারকীয় তান্ডবের প্রতিঘৃণা জানাতে কোন দল বা সংগঠন নয়, মানুষ হিসাবে, বাঙালি হিসাবে এখানে সমবেত হয়েছেন। রাজনৈতিক দোষারোপ ও সুষ্ঠবিচার না হওয়ার সংস্কৃতি এবং আমাদের প্রগতিশীল শক্তিসমুহেরঅনৈক্যের কারনে বারবার সুবিধা আদায় করেছে বিভিন্নরাজনৈতিক সংগঠন এবং একটি নির্দিষ্ট সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী।বক্তারা বলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার পুজা মন্ডপ ওহিন্দু বাড়িঘরে আক্রমণের দায় কোনভাবেই এড়াতে পারে না।একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে সপ্তাহব্যাপী এই নারকীয় তান্ডবলীলা সরকার ও প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যার্থ হয়েছে। আমরা এই বাংলাদেশ চাই না বলে বলে এই বাংলাদেশটিকে আমরা সাম্প্রদায়িক শক্তির হাতে তুলে দিচ্ছি।
রামু, নাসির নগর, শাল্লাসহ অতীতের কোন সাম্প্রদায়িক আক্রমণের সুষ্ঠ বিচার না হওয়ায় বক্তারা গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সভা থেকে অবিলম্বে ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী রাজনীতিনিষিদ্ধ ঘোষণা ও সংখালঘু সংরক্ষণ আইন পাশ ও সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের জোর দাবী জানানো হয়। ৭২ এর ধর্ম নিরেপক্ষ সংবিধানে ফিরে যাওয়ার আহবান জানানো হয় সভা থেকে।