

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: আফগানিস্তানের নতুন তালেবান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী শেখ মৌলভী নূরউল্লাহ মুনির বলেছেন, আফগানিস্তানে পিএইডি ও মাস্টার্স ডিগ্রির খুব মূল্যবান নয়; কারণ মোল্লাদের এসব ডিগ্রি নেই; তথাপি তারা ক্ষমতায় এবং সবার চেয়ে শক্তিশালী। ডিএনএ ইন্ডিয়া বুধবার এ খবর জানায়।
তালেবান মন্ত্রীর এ বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল বিতর্ক চলছে। নতুন তালেবান সরকারের এ মন্ত্রী বলেন, ‘কোনো পিএইচডি, মাস্টার্স ডিগ্রি এখন মূল্যবান নয়। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন যে, মোল্লা আর তালেবানরা এখন ক্ষমতায়, তাদের কোনো পিএইচডি, এমএ অথবা উচ্চ মাধ্যমিক ডিগ্রি নেই; কিন্তু তারা সবার সেরা।’
আফগানিস্তানের নতুন সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর এ ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। টুইটারে সাইদ সুলেইমান আশনা নামের এক ব্যক্তি ভিডিওটি পোস্ট দিয়েছেন, যা এক লাখের বেশি মানুষ দেখেছেন।
গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। এর পরপরই তারা ঘোষণা দেয় যে, তাদের সরকার গণতান্ত্রিক হবে না; চলবে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী। প্রায় তিন সপ্তাহ পর মঙ্গলবার আফগানিস্তানকে ‘ইসলামিক আমিরাত’ ঘোষণা করার পর অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছে তালেবান।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, তালেবান সরকারে এমন ব্যক্তিও রয়েছেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় আছেন বা যার ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নতুন তালেবান সরকারে হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা আছেন শীর্ষ নেতা হিসেবে। ২০১৬ সালের মে মাসে তালেবানের ‘সর্বোচ্চ নেতা’ হিসেবে নির্বাচিত হন তিনি।
তালেবান সরকারের প্রধানমন্ত্রী পদে মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ। ১৯৯৪ সালে যে চারজন মিলে আফগানিস্তানে তালেবান প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, মোল্লাহ মোহাম্মদ হাসান আখুন্দ তাদের একজন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে রয়েছেন সিরাজুদ্দিন হাক্কানি। তিনি মার্কিন তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকায় রয়েছেন।
তালেবান সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আছেন আবদুল গনি বারাদার। তিনি তালেবানের একজন সহ-প্রতিষ্ঠাতা। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর অভিযানে তালেবান ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি তাদের একজন প্রধান ব্যক্তিতে পরিণত হন।
বারাদার ছাড়াও এ অন্তর্বর্তী সরকারে আরও একজন উপ-প্রধানমন্ত্রী আছেন। তিনি হচ্ছেন মৌলভী আবদুল সালাম হানাফি।
নতুন তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে আছেন মোল্লা মোহাম্মদ ইয়াকুব। তিনি তালেবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লাহ ওমরের সন্তান।
তালেবানের অন্তর্বর্তী সরকারে আরও যারা রয়েছেন, তাদের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আছেন মৌলভী আমির খান মুত্তাকি; অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে আছেন মোল্লাহ হিদায়াত বদ্রী, বিচারমন্ত্রী হিসেবে আছেন আবদুল হাকিম ইশাকজী ও তথ্যমন্ত্রী হয়েছেন খাইরুল্লাহ সাইদউয়ালি খয়েরখা। নতুন তালেবান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন মওলাউই নূরউল্লাহ মুনির। সরকারে কোনো নারীর অংশগ্রহণ নেই।