

স্টাফ রিপোর্টার: মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি এম এ জি ওসমানীর জন্য ‘বঙ্গবীর’ খেতাব সংরক্ষণের দাবি উঠেছে তার জন্মবার্ষিকীর এক আলোচনা সভায়।
ওই সভায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ওসমানীর নামে করার দাবিও তোলা হয়।
বুধবার ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ওসমানীর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করে ‘বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি পরিষদ’।
পরিষদের মহাসচিব এম এ রকিব খানসহ কয়েকজন বক্তা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ওসমানীর নামে করার দাবি জানান।
তারা বলেন, স্বাধীনতার পরে ‘বঙ্গবীর’ উপাধি শুধু ওসমানীকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন আব্দুল কাদের সিদ্দিকীও এই উপাধি ব্যবহার করেন।
ওসমানীর জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবিও জানান পরিষদের নেতারা।
পরিষদের সহ সভাপতি সৈয়দ মশিউর রাব্বানী আপেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
‘বঙ্গবীর’ উপাধি ওসমানীর জন্য সংরক্ষণে পরিষদের নেতাদের দাবি শুনে মন্ত্রী বলেন, “এটা সরকারের কাছে বিবেচনাধীন আছে। তবে একটু সময় লাগে। কারণ অনেক জঞ্জাল সৃষ্টি হয়েছে।”
এসময় তিনি পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, “একটানা ২০টি বছর দেশের মূল ইতিহাসটাকেই বিকৃত করা হয়েছিল। এগুলো পরিষ্কার করতে একটু সময় লাগে।”
মান্নান বলেন, “আমাদের যিনি (প্রধানমন্ত্রী) পরিচালনা করছেন, তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে ঠাণ্ডা মাথায়, কৌশলের সঙ্গে …
“মাঝে মাঝে কেউ কেউ বিরক্ত হয়ে বলেন- এটা করছেন না ওইটা করছেন না, এদেরকে ধরেন না কেন, মারেন না কেন? উনি সেটা করতে পারেন না। উনি একজন প্রধানমন্ত্রী, তিনি মানুষের নেতা। উনি আইনের অধীনে কাজ করেন।”
স্বাধীনতা সংহত রাখার জন্য সবাইকে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “আমাকে মন্ত্রী বা শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী রাখার জন্য নয়, বরং স্বাধীনতা সংহত ও দৃঢ় করার জন্য আমাদের ঐক্যের প্রয়োজন।

এম এ জি ওসমানী
ওসমানীকে নিয়ে মান্নান বলেন, “পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বাঙালি অফিসার নেওয়া হত মাত্র ২ শতাংশ। তারমধ্যে কাউকে মেজরের উপরে উঠতে দিত না। কিন্তু ওই সময়েও আমাদের একজন কর্নেল ছিলেন, তিনি ওসমানী। আমাদের গর্ব হত যে আমাদের একজন কর্নেল আছে।
“তিনি মানুষ হিসেবে (আকারে) ছিলেন ছোট, কিন্তু গোঁফ ছিল অনেক বড়, তার আত্মা ছিল আরও অনেক বড়। আর বাঘের মতো সাহস ছিল।