

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর চালুর ব্যবস্থা করা হবে। মেডিকেল কলেজ স্থাপন, আইটি হাব গড়ে তোলো হবে। এছাড়াও ঠাকুরগাঁও বাসীর প্রাণের দাবি ক্যাডেট কলেজ স্থাপনের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন।
উত্তরাঞ্চল কৃষিপ্রধান এলাকা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আমরা চাই এ এলাকাগুলোতে যাতে সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। যাতে তারা চাকুরী-বাকুরী করে স্বাচ্ছন্দে থাকতে পারে। সেকারণে আমরা বলেছি কৃষিকার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে যেমন আমরা দাড়াবো ঠিক তেমনি এই এলাকাকে কৃষি নির্ভর শিল্প এখানে বিকোশিত করবো। কৃষির সাথে জড়িত যতগুলো প্রতিষ্ঠান আছে, কল কারখানা আছে সেগুলো আমরা গড়ে তুলতে চাই। যাতে করে এই এলাকার মানুষের কর্মসস্থান সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয় এ এলাকায় বহু তরুন, যুবক ভাই-বোনেরা আছে যাদের কাছে শিক্ষার আলো আছে কিন্তু তারা বেকার হয়ে বসে আছে। আমরা এ এলাকার তরুন-যুবকদেরকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করতে চাই। সেটা কৃষিতে হউক, যন্ত্রাংশে হোক সেটা বিভিন্ন বিষয় হোক না কেনো, তাদেরকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যেনো তারা দেশে হোক বা বিদেশে হউক তারা যাতে নিজেদের জন্য পরিবারের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে।
আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আন্দোলন, সংগ্রাম করেছি, জনগণকে সাথে নিয়ে, দেশের মানুষকে সাথে নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। দেশকে খাদ্যে সাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। মা বোনদেরকে শিক্ষিত এবং তার পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে চাই। তবে এ কাজগুলি করতে হলে এ দেশের যারা মালিক, অর্থাৎ জনগনের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজগুলি করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ মঞ্চে দাড়িয়ে আমি সহযোগিতা চাচ্ছি, সমর্থন চাচ্ছি ধানের শীষের জন্য ভোট চাইছি। আমরা যে পরিকল্পনাগুলো আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম সেই পরিকল্পনাগুলো যাতে আমরা দেশের মানুষের জন্য বাস্তবায়ন করতে পারি।
ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের বিভিন্ন দাবির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, আমরা পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে যে, চিনিকল, রেশম কারখানা, চা শিল্পগুলো আছে সেগুলো আবার চালু করতে চাই। যাতে করে এ এলাকার মানুষ বেকার না থাকে। যাতে করে তারা হালাল রুজি করে বেঁচে থাকতে পারে। স্থানীয় যে কৃষিজাত পন্য আছে অনেক সময় এগুলো মজুত করার সময় কৃষক ভাই-বোনদের সমস্যায় পরতে হয়। এ কারনে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড়-দিনাজপুরের যে সব জায়গায় প্রয়োজন সেখানে কৃষকদের উপযোগী করে হিমাগার তৈরীর ব্যবস্থা করা হবে। যাতে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পন্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে পারেন। এ এলাকায় অনেক শিক্ষত যুবক আছে যারা আইটিতে কাজ করে থাকেন। সে কারনে আমরা তাদের জন্য আইটি পার্ক বা আইটি হাব গড়ে তুলতে চাই। এ সকল কাজ আমাদের একার পক্ষে করা সম্ভব না। এ কাজগুলি করতে হলে আপনাদের সহযোগিতা, দোয়া, সমর্থন ও ধানের শীষের পক্ষে ভোট প্রয়োজন।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন , ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মো: আসাদুল হাবীব দুলু, ঠাকুরগাঁও-২ আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা: মো: আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী মো: জাহিদুর রহমান, পঞ্চগড়-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, পঞ্চগড়-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দিনাজপুর-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব মো: মঞ্জুরুল ইসলাম প্রমুখ।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: পয়গাম আলী, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: আব্দুল হামিদ, সাধারণ সম্পাদক মো: মাহাবুব হোসেন তুহিন, পৌর বিএনপির সভাপতি মো: শরিফুল ইসলাম শরিফ, সাধারণ সম্পাদক তারিক আদনান, স্বেচ্ছাসেবকদলের সভাপতি মো: মাসুদুল ইসলাম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম কামু, জেলা যুবদলেল সভাপতি মো: আবু হানিফ মুক্তা, সাধারণ সম্পাদক মো: জাহিদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো: কায়েসসহ জেলা, বিভিন্ন উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ২১ বছর পর তারেক রহমান ঠাকুরগাঁও জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নেন । সকাল সাড়ে ১১টায় তাকে বহনকারী হেলিকাপ্টার ঠাকুরগাঁও সরকারী বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করেন। পরে তিনি নির্বাচনী জনসভায় যোগদান করেন। এর আগে সকাল থেকেই সমাবেশস্থলে জেলা, পাশ্ববর্তী জেলার মানুষজন জড়ো হতে থাকেন। জনসভা চলাকালে মাঠ কানাই কানাই পুর্ন হয়ে যায়।