

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে রিসোর্টে হামলা ভাংচুর, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির পর রিসোর্টের সর্বস্ব দখলে নিয়ে নারী উদ্যোক্তাকে রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রিসোর্টের নারী উদ্যোক্তা ও কর্মচারীদের মারপিট করে বের দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে জায়গার মালিকের বিরুদ্ধে। শনিবার (৩১ জানুয়ারী) অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন রিসোর্টের নারী উদ্যেক্তা ঢাকার মহাখালী নিবাসী লাবনী ইয়াছমিন।
লাবনী ইয়াছমিন জানান, গত ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রিসোর্ট ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্বামীর সাথে রিসোর্ট ব্যবসার জন্য শ্রীমঙ্গলের মোহাজিরাবাদ এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা ইউসুফ খা’র কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা সাব্যস্ত করে ৮৬ শতাংশ জমি ২০ বছরের জন্য লীজ নেন। প্রতি ৫ বছর পর পর লীজের টাকা পরিশোধ করার শর্ত রেখে একটি চুক্তিও সম্পাদিত হয়।
লাবনী ইয়াছমিন বলেন, প্রায় ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ‘অরণ্যবাস ইকো রিসোর্ট’ নামে একটি রিসোর্ট তৈরি করে পর্যটকদের ভাড়া দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। তবে তৃতীয় দফার ১০ লক্ষ টাকার মধ্যে নির্ধারিত সময়ের ২ মাস পর স্থানীয় লোকজনদের মাধ্যমে ৬ লক্ষ টাকা ৫০ হাজার টাকা জরিামসানাসহ পরিশোধ করা হয়। কিন্তু বাকি ৪ লক্ষ টাকা পরিশোধ করতে গেলে ভুমি মালিক শর্ত ভঙ্গের অজুহাতে টাকা নিতে অস্বীকার করে রিসোর্ট খালি করে দিতে চাপ সৃষ্টি করে। এনিয়ে গত ২৬ নভেম্বর ভুমি মালিক ইউসুফ খা, রাজেস, মামনুসহ লোকজন নিয়ে রিসোর্টে গিয়ে রিসোর্ট খালি করে দেয়ার জন্য চাপ দেয়। এতে অস্বীকার করলে রিসোর্টে হামলা ভাংচুর ও মারপিট করে মালিক লাবনী ইয়াছমিন ও তার স্বামীকে জোর করে রিসোর্ট থেকে বের করে দেয়।
এনিয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের সহায়তায় তারা রিসোর্ট ফিরে পায়। এনিয়ে তৎকালিন ওসি আমিনুল ইসলাম ও স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামলা হোসেনের মাধ্যমে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে গেলে ইউসুফ খা টাকা না নিয়ে রিসোর্ট খালি করার দাবী করে। গত ২৪ জানুয়ারী শনিবার পুলিশ থানা থেকে ফোন করে রিসোর্টের অংশিদার স্বামী কামরুজামানকে থানায় ডেকে নেয়। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে মৌলভীবাজার আদালতে পাঠায়। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।
লাবণী ইয়াছমিন বলেন, স্বামীকে জেলে পাঠানোর পর তিনি জানতে পারেন জমির মাালিক তাদের দুজনকে আসামী করে একটি মামলা করেছে। পরদিন তারা জামিনে মুক্ত হন।
লাবনী অভিযোগ করে বলেন, গত ২৯ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে জমির মালিক ইউসুফ খা ২৫/৩০ জন লোক নিয়ে ফের রিসোর্টে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি করা হয়। এসময় আমার জামা ধরে টানা হেচরা করে মাটিতে ফেলে পেটে ও শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে লাথি কিল ঘুষি, শ্লীলতাহানি ও রিসোর্টের স্টাফ সিয়ামকে বেধরক মারপিট করে আহত করে’।
হামলাকরীরা রিসোর্ট থেকে ৫ লক্ষ টাকা ও জরুরী কাগজ পত্রও ডিভাইস লুটে নেয়। পরে প্রাণ নাশের হুমকি দিয়ে রিসোর্ট থেকে জোর করে তাদের এক কাপড়ে বের করে দেওয়া হয়। এরপর ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে সাহায্য চাইলে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের নির্দেশানা অনুসরণ করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু অদ্যাবধি থানা পুলিশ অভিযোগ রেকর্ড না করে তালবাহানা করতে থাকে। একদিকে আইনি সহায়তা না পাওয়া- অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের করা অভিযোগ দ্রুত আমলে নিয়ে স্বামীকে জেলে নেয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেন লাবনী।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাবণী বলেন, রিসোর্টে প্রায় ৬০ লাখ টাকার বিনিয়োগ হারিয়ে তিনদিন ধরে এক কাপড়ে তারা বিচার চেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। থানা পুলিশের সহায়তা না পেয়ে, এএসপি সার্কেল থেকে শুরু করে এসপি ইউএনও পর্যন্ত সহায়তা চেয়েও কারো কোন সহয়ায়তা পাইনি।
জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, মারধরের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, একই সাথে রিসোর্টের মালিকানা বিষয়ে আদালতে মামলা রয়েছে, আদালত ফায়সালা দেবে।
জমির মালিক ইউসুফ খাঁ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার কাছে কাগজপত্র আছে। আদালতে মামলা রয়েছে, আদালতেই এর সমাধান হবে।