শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
নবীগঞ্জে ভারতীয় পন্য সহ আটক ১ দবিরুল ইসলাম ওবিই এর মৃত্যুতে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের শোক প্রকাশ মৌলভীবাজারে ধামতিপুরী (রঃ) এর ইসালে সওয়াব মাহফিল অনুষ্ঠিত বিশ্ব নন্দিত আলেম শামসুল উলামা আল্লামা ফুলতলী ছাহেব ক্বিবলাহ রহঃ’র সংক্ষিপ্ত জীবনী বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে মাছ পাচারকালে ইলিশ সহ দুই ট্রাক আটক জালালাবাদ রোটারী ক্লাবের উদ্যোগে বিনামূল্যে প্লাস্টিক সার্জারী সেবা প্রদান শুরু সিলেটে ড. ওয়ালী তসর উদ্দিন এমবিই সংবর্ধিত না ফেরার দেশে বিশিষ্ট সমাজসেবক দবিরুল ইসলাম চৌধুরী বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে সেলিমা রহমান হাবিব ও মাহবুবের সাক্ষাতের রজনী

বেনাপোলে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে মাছ পাচারকালে ইলিশ সহ দুই ট্রাক আটক

শাহারুল ইসলাম ফারদিন
  • খবর আপডেট সময় : বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ১৮ এই পর্যন্ত দেখেছেন

বেনাপোল স্থলবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় ভারতীয় ইলিশ আমদানির ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ পাচারচক্রের কার্যক্রম সামনে এসেছে।

কাস্টমস ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা শুল্ক ফাঁকি, নিয়ন্ত্রিত পণ্য পাচার এবং কাস্টমসের ভেতর-বাইরের অসাধু চক্রের সুসংগঠিত অপরাধের অংশ।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের ৩১ নম্বর কাঁচামাল শেডে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দুটি ভারতীয় ট্রাক (ডই২৫ক-৩০২৯ ও ডই১১ঊ-৫০২৭) আটক করা হয়। পণ্য খালাসের সময় অসঙ্গতি ধরা পড়লে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিক কায়িক পরীক্ষা চালানো হয়।

কাস্টমস সূত্র জানায়, ঘোষণাপত্রে বোয়াল, ফলিও ও বাঘাইর মাছ উল্লেখ থাকলেও ট্রাকের ভেতর থেকে উদ্ধার হয় ২২৫ প্যাকেজের মধ্যে ৫৪ প্যাকেজ ভর্তি প্রায় সাড়ে ৩ টন ভারতীয় ইলিশ। উদ্ধার করা মাছের বাজারমূল্য আনুমানিক ৩০ লাখ টাকা। ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার ভয়াবহ অমিল ধরা পড়ায় পুরো চালানটি জব্দ করা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, চালানটির ভারতীয় রপ্তানিকারক ছিল মেসার্স আরজে ইন্টারন্যাশনাল। বাংলাদেশি আমদানিকারক হিসেবে দেখানো হয় সাতক্ষীরার মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজকে। কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে যুক্ত ছিল বেনাপোলের সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান লিংক ইন্টারন্যাশনাল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই তিন পক্ষের যোগসাজশেই উচ্চমূল্যের ও নিয়ন্ত্রিত ইলিশ মাছ কম শুল্কে খালাসের অপচেষ্টা চালানো হচ্ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট বেনাপোল বন্দরে সক্রিয়। তারা কাস্টমসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহায়তায় মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য খালাস করে আসছে। প্রতিটি চালানের বিপরীতে মোটা অঙ্কের ঘুষ ও মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, প্রায় ৩০ লাখ টাকার ইলিশ জব্দের ঘটনাটি সেই অপরাধচক্রের অস্তিত্বেরই স্পষ্ট প্রমাণ। শুল্ক গোয়েন্দাদের প্রাথমিক তদন্তেও পাচার কার্যক্রমে কিছু কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান বলেন, ঘোষণাপত্রের সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার গুরুতর অমিল পাওয়া গেছে, যা শুল্ক আইনে ফৌজদারি অপরাধের শামিল। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আমদানিকারক, সি অ্যান্ড এফ এজেন্টসহ সবাই তদন্তের আওতায় রয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, তদন্তে যদি কাস্টমসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অপরাধে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102