বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:১৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র উদ্দোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত ঢাকায় ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো লন্ডনে এইডেড হাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত ৭১-এর অপরাধের দায় জামায়াত এড়াতে পারে না— মির্জা ফখরুল সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উন্নয়ন বিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনু‌ষ্ঠিত ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন ও শেখ হাসিনা — ড. এ কে আব্দুল মোমেন শেখ হাসিনা দেশে থাকলে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বজায় থাকত বর্নাঢ্য আয়োজনে তেতুলিয়ায় ‘চ্যানেল এস টিভির বর্ষপূর্তি উদযাপিত

অভিযোগ পরিচালক ও সহ সভাপতির বিরুদ্ধে

পঞ্চগড়ে মাদ্রাসার জন‍্য জমি দখলে শিক্ষার্থীদের ব্যবহার

পঞ্চগড় সংবাদদাতা
  • খবর আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ এই পর্যন্ত দেখেছেন

পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলায় জমি দখলে নিতে মাদরাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে মাদরাসার পরিচালক ও সহসভাপতির বিরুদ্ধে। উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের ভাউলাগঞ্জ বাজার সংলগ্ন ভাউলাগঞ্জ জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানা সংলগ্ন এলাকায় এঘটনাটি ঘটে। এসময় মাদরাসা সংলগ্ন জমিতে থাকা একটি টিনশেড ঘর ও ঘর সংলগ্ন দেয়াল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙ্গে দেন মাদরাসা শিক্ষার্থীরা। ঘরের টিনের বেড়া ও ইট দূরে সড়িয়েও রাখেন তারা।

এনিয়ে কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠিসোটা নিয়ে মাদরাসা শিক্ষার্থীরা দাড়িয়ে আছেন। পরে এনিয়ে দেবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন জমির মালিক মনিরুজ্জামান মানিক। অভিযোগ করা হয়, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জমি দখলে নিতে নির্দেশদাতা ছিলেন মাদরাসাটির পরিচালক হাফেজ মাওলানা নুরুল আলম সফিক ও মাদরাসাটির সহসভাপতি মমিনুল হক প্রামাণিক।

এদিকে, জমি দখলে নিতে মাদরাসা ছাত্রদের ব্যবহার করায় স্থানীয়রা এঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন। যদিও অভিযুক্তরা দাবি করেছেন, মাদরাসার রান্না ঘরের প্রয়োজনীয়তা থাকায় সহসভাপতি মমিনুল হক প্রামাণিক ঘর সহ জমি দান করেছেন।

সরেজমিনে ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে ৪৩৬ দাগে ১ একর ৪৬ শতক জমি ক্রয় করেন সিরাজুল ইসলাম প্রামাণিক। পরে ওই জমির মধ্যে ৪৬ শতক জমি বুঝে না পাওয়ায় তার নামে এক একর জমি রেকর্ড হয়। পরবর্তীতে তিনি ছোট ছেলে মনিরুজ্জামান মানিকের নামে ৪০ শতক জমি দেন। অবশিষ্ট জমি তিনি বিভিন্ন জনের নিকট বিক্রি করেন। এই ৪০ শতকে মানিকের গোডাউন, বাড়ি সহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। গত সোমবার ওই জমিতে থাকা একটি টিনশেড ঘর দখলে নিতে লাঠিসোটা ও হাতুড়ি দিয়ে দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হয়। এছাড়া ওই জমিতে বাস করা এক ব্যাক্তিকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে বাড়ি ভেঙ্গে চলে যেতে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভূক্তভোগী মনিরুজ্জামান মানিক বলেন, আমার বাবা আমার নামে ৪০ শতক জমি দিয়েছেন। এখানে ২০ শতক জমি নিয়ে বড় ভাই মমিনুল মালিকানা দাবি করছেন। অথচ তিনি কোন জমির মালিক নন। তিনি মাদরাসার হুজুর সহ ছাত্রদের দিয়ে আমার জমিতে থাকা বির্ভিন্ন স্থাপনা ভাংচুর করে একটি ঘর দখল করেছেন। মাদরাসার ছাত্ররা লাঠিসোটা নিয়ে হাতুড়ি দিয়ে আমার দেয়াল সহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলে। মাদরাসা ও মসজিদ আমার বাবার দান করা জমিতে আছে। এছাড়া মমিনুল ও হুজুর সবাইকে হুমকী দিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা আমার অনেক টাকার ক্ষতি করেছে। আমি এর বিচার চাই।

শরিফা বেগম নামে এক নারী বলেন, মাদরাসার কয়েকজন হুজুর ও মমিনুল ছাত্রদের বলতেছেন তোমরা ভাঙ্গো। আর তারা দাড়িয়ে আছেন। এভাবে জমি দখল করতে মাদরাসার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করা কখনোই ঠিক হয়নি। ছোট থেকে বাচ্চারা এসব শিখলে বড় হয়ে তারা কি হবে কি করবে। এসব কি তাদের শেখানো ঠিক হয়েছে।

অভিযুক্ত মমিনুল হক প্রামাণিক বলেন, আমি এ আমার বাবা জমি মাদরাসাকে দিয়েছি। শিক্ষার্থীরা সেখানে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করছিল। এখানে কাউকে হামলা করা হয়নি। উল্টো তারাই আমার উপর হামলা করেছে। ছাত্রদের ধাওয়া করেছে। আমি এর বিচার চাই।

ভাউলাগঞ্জ জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা লিল্লাহ বোর্ডিং ও এতিমখানার পরিচালক হাফেজ মাওলানা নুরুল আলম সফিক বলেন, মাদরাসার শিক্ষার্থীদের জন্য রান্না করার জায়গা নেই। সেখানে কিছু জমি মমিনুল সাহেব দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা সেটি পরিস্কার করছিল। কিন্তু যারা মাদরাসা চায়না এমন একটি চক্র দ্বীনি শিক্ষা বন্ধ করে দিতে চক্রান্ত করছে। আমাদের কাছে সব কাগজপত্র আছে জমির। কাগজপত্র যাচাই বাছাই সাপেক্ষে যে পাবে তাকে দেয়া হোক এতে আমাদের কোন আপত্তি নেই।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102