

ক্লোডিয়াস ঢেউয়ের ভেতর
মুক স্তব্ধ হলে নিজস্বী স্মৃতি স্তবকেরা ছায়ার ভেতর পায়ে পায়ে কাছে চলে এলে ; ইথার ভাষ্যে আজনবী শিতারিষ্ট যন্ত্রের কান মোলে নিপুন প্রণয়ে !
রোজ যাকে দেখি চেনা রাস্তায় ; চোখের মধ্যে রাখি সঞ্চিত পাপ , তাপ , মায়াবী অভিমান , এসব ভেতরেই চুপ একই অদৃশ্যতায় বিশ্রামহীন ; অপটু আদর্শে দর্পণের কাছে ঋণস্বীকার করে !
মৃত্যুর পর অন্য এক অদেখা অশরীর ছদ্মবেশ ; এই চেনা চৌরাস্তায় আমাকেও অচেনা দেখি গল্পের ফাঁদে ব্যথাতুর বিবর্ণ পাঁচালি নিয়ে এপাড়া – ওপাড়া অজ্ঞাত অবিচল শূন্যতায় ক্লেডিয়াস ঢেউয়ের ভেতর !
বহুদিন পর নিজে নিজেই নিখোঁজ হলাম ,—– এই ঘরে আমার আত্মগোপনের হদিশ পায়নি নিজের প্রিয়জন এবং স্ত্রী ও সন্তান ; তবুও এভাবেই মৃত্যু মৃত্যু উদাস অন্তরে ভিজে ওঠে মনের দু’চোখ !
কথা হয়েছিল এক যুগ আগে ; তোমার সাথে ! তখন কবিতার ভেতর দূর্দান্ত মুগ্ধতায় আগুনের কথা ভুলেই গেছি ,—– সময়টা আপাদমস্তক উড়ণচন্ডি ছিল ; প্রেম ছিল , প্রার্থনা ছিল , সুগন্ধ ছিল চারপাশ ঘিরে ….. তবুও এই মন ভালোবাসার দৃশ্যমানতা প্রত্যন্তে কতবার হিসেবহীন এঁকেছে স্বযত্নে ; সেটা মন বোঝে নি !
এভাবেই কতবার তোমার জন্য সখ করে মিথ্যেই মরেছি , সেটাও নাবুঝে এ-ভা-বে-ই নবনীতা !
এই যে এই ঘরে আমার উচ্ছ্বিষ্ট অতীত ; তারাও অবিবেচক , তা না হলে কেনোইবা ওরা মৃত্যুর পর স্মৃতিস্বপ্ন মেলে ধরে কথা না বাড়িয়ে ,—–
শ্মশান থেকে ওরা ফিরে এসে ছিল আমাকে দাহ করে ! নিম পাতা – লোহা – আগুন ছুঁয়ে এ বাড়ির চৌকাঠ ডিঙিয়ে ছিল ; ওদের ঠিক পিছন পিছন আমিও চলে এসেছিলাম এই ঘরে অযান্ত্রিক একক ! অথচ প্রিয় মুখগুলোর বিমূর্ত নাটক দেখে সব হারানো রাত রাত গন্ধে অনির্দিষ্ট মোচড় খেলাম ….. !
যখন এই শরীরটা পুড়ে উঠছিল ; স্মৃতিবাস স্বপ্ন গুলো একবার বাঁচার ইচ্ছাতে চিৎকার করে আমার অভ্যন্তরে তোমার নাম করে কেঁদে উঠেছিল নবনীতা !
সেদিনের সন্ধ্যায় শিলাবৃষ্টির ভেতর এই ঘরে প্রথম স্পর্শের ছোঁয়ায় আঁধার বিগ্রহের বুকে ফাঁটল দেখেছিলাম !
তুমি তোমার হাত এগিয়ে দিয়েছিলে ভালোবাসতে ,—- অথচ আজ হঠাৎ বাতাসে উড়ে গেল কবিতার খাতার শেষ তোমাকে নিয়ে লেখা কবিতা ; নবনীতা !
কতদিন কেটেছে এভাবে তুমিহীন দহনে – পীড়ণে – দুঃখে ও জ্বালায় ,—– এই ঘরে স্বপ্নরা এসে খোঁজ নিয়ে গেছে ; আমি আর ফিরবো না কোন ভাবে !!
_________________________________
দ্বন্দ্ব সমাস এবং দর্পণের রূপকথা
অন্যমনস্ক এক স্তব্ধতা ; মধ্যে সহজ সত্য বিস্তৃত লম্বা একটা দরজা খোলা বারান্দা ! এখানে পশ্চিমি বাতাস মাঝে মধ্যে বিষাদ গেয়ে চলে কমনরুমের চাঁদ দেখে মন্ত্রঃপুত ডোবার জলে ; প্রণয় নিবেদনে !
অলৌকিক অক্ষরগুলো মনের সাজঘরে ট্যাটু আঁকে ……. এই প্রিয়জন অসুখ স্পষ্টতঃ নিছক স্বপ্নাভ তরুণ ৷ অতএব ওদিকে জ্বলছে বিন্দু বিসর্গের কাব্য ! ধ্যানস্থ ছিল আমার সবটুকুই ; শুধুমাত্র হাত ফেরোত সমৃতিগুলো দুনিয়ার আয়ুরেখা মুছে দিয়ে নিজেই বৈরাগ্য নিয়েছে !
ঘাস ফড়িং ও অন্য প্রজাতির পতঙ্গরা এভাবেই ভুলেছে প্রত্যন্তের আচার আচোরণ ; অথচ শস্যবীজ ফেঁটে নিঃশব্দের রাত ছায়াময় শরীর নিয়ে চলে আসে ভূত এবং দয়াময় দেবতার মধ্যেখানে ! এটা দিয়েই প্রথম লেখা হল নির্বাসিত সমৃতির মহাকাব্য গুলো , …… গলছে ভেতরের ব্যক্তিগত দৃশ্যগুলো ; একা একা বিও বাসনা ! তবুও হাওয়ার মধ্যে ভাসে তপস্যার বৈদিক প্রহর !
কিছু কি চেয়েছি চোখ পেতে ; অন্য ঘরের প্রাচীন নাটক নানাবিধ আঁকার নিয়ে জেগে বসে আছে অনন্ত নির্ঘুম , ….. সেই যে একটানা লম্বা রাস্তায় ক্ষমাপ্রার্থীরা মুখ নিচু করে উলঙ্গ দাঁড়িয়েছে ; অভিন্ন একপ্রকার ! সেই থেকে অন্তহীন জটিল নিরবতায় আমিও মরেছি একা ও একক !
এখান দিয়ে এগিয়ে চলে এলে শ্মশানও গত জন্মের আঁধার পেতে বসে , ….. ! দু’বেলাই ঘিরেছে আনাত্মীয় অন্ধকার ; প্রেম এবং আকণ্ঠ সর্বনাশ কথা হারিয়ে বোবা একপ্রকার ! আত্মবীজ এই নষ্ট জ্যোৎস্নায় আমাকে পোড়ায় কবিতার ঘরে ; তবু মরি না মরার আগে বিচ্ছেদ গৌরবে !
এই অপ্রমেও সন্ধিক্ষণ বরাবরই অলৌকিক ! হয়তো ছায়াশূন্য এক বিকলাঙ্গ শরীর বাতাসে নেচে ওঠে ; গোপনাঙ্গ কানাপুকুরে ডোবে বৃষ্টির আদর পেতে !
এই দর্পণে বেমালুম আমার প্রতিবারের মৃত্যুগুলো একান্নবর্তী এভাবেই স্বপ্নহীন থাকে , ….. শেষ একবার প্রতিহত স্বপ্ন থেকে বেঁচে উঠি আর একটা মৃত্যু পাব বলে !
এই রাত নিশ্ছিদ্র নিরব ; তবু এখানে আমিও পুনশ্চ নপুংশক !
যদি মরি ; নিছক মৃত্যুর স্বপ্ন দেখে , সেটাই এক অপরিবর্তীত বায়োটেকনোলজির অন্য সম্ভাবনায় প্রদর্শন যোগ্য হবে !!
_________________________________
ষড়রিপু এবং কবিতার জরায়ু
ভাঁজপত্রের ওপ্রান্ত দিয়ে ভেতর গুপ্ত পদচারণা ; নত হয়ে মাটির কাছে চেয়েছি জ্ঞানপুস্তক ! শরীর গন্ধে বাতাস ভেসেছে ওই সেখানে , হাত ধরে নিয়ে এলাম পদ্মচক্রের সাতরঙা পরীকে …..
কবিতার জরায়ু থেকে মন পোড়া দুরগন্ধ চিরমুগ্ধ দর্পণে নৃশংস সুন্দর দেখায় ; তবুও এঁকে নিতে হয় বিজ্ঞাপনের নগ্ন প্রতীমার ঋতুবতী কুমারী সোহাগ !
বৃষ্টির ভেতর চাঁদ ভাসে দস্যুমেঘের বুকে ,—- ওর মুন্ডু – রক্ত – ধড় বিনম্র একেকার ! তাই কালনিসিন্ধা পাতা চিবিয়ে অন্য ঘরে উঁকিমামার স্বভাব ভুলি ; অন্য এক শরীর সামনে ধরা পরলে !
শেষ স্তবকে শুদ্ধ শব্দের রূপকথা ; যোনির উপমা ভরা স্বপ্লাভ প্লাবন ,—- সেখানেও স্পষ্টতই অন্তহীন শূন্যতা ; যতদূ-র বোধের মধ্যে হৃদয়ঙ্গম অসুখ নির্ঘুম – নির্ঘুম !
এবার নাভিমূলে জেগে ওঠে প্রেতীনীরা ! ওখানে কিছু কিছু রাত তারাদের ঠুনকো উপহাস ; অচেনা অন্ত্যমিলে লেখা ৷
সেখানে আমিও কবিতার নির্মাণ নিয়ে কাঙালপনা করেছি রক্তাক্ত হৃদয়ের কাছে !
নিঃশব্দে ঈশ্বরের হাত চেপে ধরতেই ; গোপনাঙ্গ পেঁচিয়ে ধরে স্মৃতিসর্পিনী ,——
আমার সাথে অসংজ্ঞায়িত যাবতীয় অশরীর স্মৃতি ও প্রতিটা জন্মের মৃত্যুর ; সেজন্য সময় কাটেনা দুঃখে – অভিমানে !
মনের পোশাক খুলে উলঙ্গ হয়ে ঘুরেছি বেশ কিছু কাল ; কবিতাগুলো অসুখের ভেতর অহর্নিশ এভাবেই মৃত অথচ জীবীত ,——
বেঁচে উঠি সম্পূর্ণ বায়বীয় হয়ে ; যেভাবে উচ্চারণ করি বৃষ্টির ভেতর প্রিয় কবিতার শেষ লাইন ! সেটাও ভিজে ওঠে আমার কান্নায় …..
চোখের মধ্যে হঠাৎ যেন বিধিবদ্ধ পাপ কথা বলে !!
_________________________________
রোদ্দুর বেলার ইতিকথা
অন্তের ধৃষ্টতা মেঘ ধূসর না হলেও প্রিয় স্বপ্নের ভেতর – ভেতর প্রাণহীন কিছুটা কলঙ্ক আঁকা ছিল !
যে হাতটা অন্য হাতের কাছে সহজ কৌতুকে অবিশ্বাস নিয়ে বেঁচেবর্তে থাকলেও ; পোশাকের ভেতর সুচারু নগ্নতা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষগুলোকে প্রতিশব্দে হিজরে বলেই সম্বন্ধন করবেই !
হাঁটার ইচ্ছা হলে উঠোন তখন রোদে মাখামাখি ; তবুও তাপের গন্ধ ছুঁয়ে ছুঁয়ে চিনে নিতে হয় সন্তর্পনে ,—– তারকাটা লোকটা চুইনগাম চিবিয়ে দূরের শূন্যতাকে গাম্ভীর্য দান করেছিল বিগত দুপুরে !
কথার যাবতীয় রিংটোন শিশির শব্দের হেয়ালী না বুঝেই লকডাউনে নির্জন মধ্যহ্নে রাস্তার ধারের মল্লিক বাড়ির দেওয়াল ভাসিয়ে পেচ্ছাপ করার সময় ডাক পিওনের সাড়ে পাঁচ ইঞ্চি লিঙ্গটা মাক্স পড়ার স্বপ্ন ছায়াবৃত্তে সভ্যতাকে বিনম্র ধাতুগন্ধে সজাগ করে !
সুতরাং তিন দশক আগের বৃষ্টি হঠাৎ ফিরে এলে ; মুরগীর খোয়ারে এক মহা বেয়াদপ্ ঢেমনা সরীসৃপ নিঃশব্দে ছানাপোনা গুলোকে কালক্ষেপ না করে গিলে খায় !
এভাবে এক উন্মাদিনী প্রতিবন্ধি ল্যাংড়ি মেয়েমানুষ বহুকাল বন্ধ থাকা স্কুলবাড়ির ভেতর চারজন মদ্যপ লম্পটের কাছে সমস্ত দুপুর ধর্ষণের স্বীকার হয় ! এভাবেই ছড়িয়ে যায় মহাভয় জ্বালা ; অতলান্তে মরণপোনায় মাতে গোটা দিনটা ,—— কোথাকার এক আদেখা সর্বনাশ মশাল হাতে নিয়ে বারুদ হয়ে ওঠে !
বৃষ্টির ডাকে সারাশব্দ না দিয়ে পাশের পাড়াটা সেভাবেই ভিজে ওঠে ; যেভাবে ওরা দুটো মন একদিন ফুলশয্যা পর দিন উলঙ্গ হয়ে ভিজে ছিল স্নান ঘরে ; একমাত্র সেদিনের সেই ভিজেদৃশ্য বাথ্ রুমের কামুক টিকটিকিটা নিঃস্পলক দেখেছিল ,—- !
কোন একবার ইহলোক থেকে পরলোকের ছায়াপথের দিগনির্ণয় প্রাচীন দর্পণে স্পষ্ট হয়ে ভেসে উঠতেই ; ওধারে বিপরীত মেরুকরণের জেব্রাক্রশিং সীমাহীন মৌনাতায় খিস্তি করছিল মহাশূন্যে ওজোনোস্পিয়ারে ভাসা পূর্বপুরুষদের ! এটাও একপ্রকার অর্ধেকনিঃশব্দে ঘটেছিল !
উপবীতের আড়ালে ভাঙা পাঁজরের ইতিহাস ; সম্ভবত দীর্ঘশ্বাসে উড়ে যায় ! অথর্ব বেদের পাতায় সোহাগ চন্দনের প্রাচীন পৌঢ়ত্ব ; স্পর্শহীন অন্তরায় আস্ত দুর্বোধ্য বহতাময় !
ফিরে দেখার চোখ যখন ছিলোই , মনোযোগী কিট-পতঙ্গরা নম্র অভিমানে মধ্যবিত্ত বাতাসের পেছনে দৌড়াতোনা !
যেটুকু অবশিষ্ট ছিল ছারপোকারা ঘিরেছে চারধার ,—- তবুও মানতে হয় ; নিরবতার আর এক নাম সহজে মেনে নেওয়া !
এক এক করে রাস্তা পাল্টে আমৃত্যু শূন্য পর্যন্ত এভাবেই অলৌকিক চৌচির হয় জীবন ; তবুও গল্প গড়ায় নতুন জিজ্ঞাসা মৃত বাল্মিকী নিয়ে নতুন ভাবে বেঁচে ওঠে !
হঠাৎ কিছু শব্দের মত মননে উচ্চারণ হলে ; একপাল শিশিরেরা পরস্পরে উচ্ছ্বিষ্ট অতীত নিয়ে পরপাড়ের বেস্যাদের গল্প শোনায় ! শেষ প্রহরে সমাধি থেকে উঠে আসে নগ্ন কিছু প্রেত ও ঈশ্বর ,—– সমস্ত রাতের ভেতর কিছু কিছু দাগ কাটা স্বপ্ন বেমালুম ভাবে আমাকে নগ্ন দর্পণ দেখায় !!
_________________________________
অশ্রু এবং চিন্তা চোখ
খোলা জানলার ওপিঠ ওধারে
স্মৃতিছুট্ গল্প চুপ নিঃশব্দে এসে দাঁড়ায় ,—-
চোখের পাতায় বিবর্ণ আবেগ গুছিয়ে তোলা থাকে ; অন্য দূরের কাব্যরেখা গুলো ধুয়ে যায় বহুরূপী অশ্রুতে ! অথচ অন্য এক অবুঝ পঙ্-তি নির্জন গোলার্ধে ঘুরে মরে নবনীতা নামের মেয়েটার ; প্রেম পেতে !
এভাবে চিন্তাচোখ মন আগুনে দগ্ধ পুড়ে ওঠে ,—-
কিছু অপাড় প্রশ্নে আমিত্ব ডোবে দারুণ সর্বনাশে !
খোলা জানলার এপাস আড়ালে বিবেক নিঃশব্দ নিয়মে অকৃপণ হেসে ওঠে , ……
শেষ একবার ওদিকের কৃষ্ণ কালো আকাশ আমাকে দেখায় একশ বছর আগের উলঙ্গ নর্তকী ! তবুও তো পৃষ্ঠা ছেড়া কবিতাগুলো ভালোবাসার অপ্রমেয় গন্ধ মেখে উত্তাপ গোচর করে ……
ঘরের দর্পণে অবাক বিস্ময়ে উল্টো ভেসে ওঠে অ – আ – ক – খ !!
শেষ একবার মনে – মনে আঁকা হয়ে ছিল ওর শরীরী ; তবু মৃত্যুর ঠিক পাঁচ মিনিট পর নবনীতা এসে দাঁড়ালো হাত ধরতে !!
_________________________________
পরবাস্তব এবং হৃদয়তান্ত্রিক পদ্য
চোখের কাছে অচেনা সর্বনাশ
ভেতর থেকে দৃশ্যের বিচ্ছেদ
মনের মধ্যে যন্ত্রণার অলি-গলি
নামহীন যত কান্নার নির্দেশ !
এখন থেকে অন্তরে তুমি থাক ; বিম্বা অতলে হৃদয় মেলে রাখ ….
এইবেলা যদি স্পর্শে ওঠো কেঁপে , আকাশ থেকে বৃষ্টি আসুক ঝেঁপে ,—
গভীরের সুখ সময়ের পথ ধরে
চলতে – চলতে কোন অতলান্ত ভোরে
স্বপ্নের কথা নিজেকে বলতে – বলতে ; ঘুম ভেঙে যায় মনের অজান্তে !
কোথায় যেন পুড়ছে অচেনা স্মৃতি , মিথ্যে – মিথ্যে বিষণ্ন দুটি চোখ ,—-
কোথায় যেন নামহীন পৃথিবীতে
ভোরে আছে যত মৃত্যুর প্রতিশোধ !
হঠাৎ যদি ফুল – পাখি – চাঁদ দেখে ; সময়ের সাথে একা একা পথ চলি ,—-
কবিতার কাছে আশ্রয় খুঁজে নিয়ে ; তিন প্রহরের যন্ত্রণা তাকে বলি !
এসব কথা আত্মায় ঘোরে – ফেরে ; তবুও কেন মন বোঝে না তাকে ,—– চতুর্দিকের অগণন স্মৃতিগুলো আদিগন্ত ভালোবাসা হয়ে থাকে !
চলে যাব ব’লে চোখ ভিজে আসে জলে ; চুপচাপ শুধু নীরবতা নিয়ে থাকি ,—-
চেনা – অচেনার অনেকেই কাছে থাকে
মৃত্যুর পাখি করে যায় ডাকিডাকি !
নতুন ক’রে আসব আবার ফিরে ; ডাকবে কাছে নতুন নামে যখন , সেই পুরাতন স্মৃতির ফাঁকে – ফাঁকে
আগের আমিকে পড়বে কি মনে তখন ?________________________________
ক্যালেন্ডারে পঁচিশটা রাত
একটু ঝুঁকেছি যেই ; ওধারে দেখান্দ্রিয়ের শুক্লা চতুর্দশীর কথা ঋতুগন্ধ ছড়ায় ! যদিও মন বেঁধে বেঁধে প্রায় শব্দহীন আমি , তবু পুজারীর আসোনের পাশে কোঁষাকুশি এভাবেই অবিবেচক নিরব ! পুজ্যপাদ প্রিয় পুরুষ প্রতিবিম্বের বিপরীতে নপুংশক ; অথচ সমবেত ইচ্ছাগুলো এর ভেতর মাথা ঠেলে উস্কানি দিতোই , যদি আমি নগ্ন হতাম ….. !
আমিতো অশারীরীক হয়েই স্মৃতি নির্ঘুম এবং প্রত্যন্তে নির্জন !
রোমকূপ থেকে জন্ম এক ঋষি কন্যা ; যার যোনিপদ্মের ঘ্রাণে ভূত – প্রেত – অপ্রমেও দেবতারাও প্রতিপলে হস্তমৈথুন করে কল ঘরে রোজ !
এভাবেই ক্যালেন্ডারে রাত ডুবে সকাল দেখা দিলে হৃদয় খুলে বেরিয়ে আসতে কিছুটা সময় হারিয়ে যায় ; প্রচীন শিক্ষক রতি মিলনের সিলেভাস নিয়ে ছোটে প্রিয়তমা ছাত্রীর দেহগন্ধ নিতে ছাদের রেলিং এর তারে ঝোলানো ছেঁড়া ফ্রকে !
এতোকাল চলেছে আমাকে নিয়ে খেলা ; বাসর ঘরে নগ্ন হবার ডাক আসে কাপুরুষের চোখের ভাষায় !
গভীরে বীজ পুঁতে দেয় আদেখা ঈশ্বরের নামে ; এর পর দশ মাস , দশ দিন ….. !
একটা জীবনেই নারী হয়ে ওঠা ! একটা শরীরে চলে মন পোড়া দহন !
এভাবেই পুরুষ পোকারা আমার রক্ত চোষে অতৃপ্ত রাতে – রাতে – রাতে এবং সূর্য ওঠার কিছু আগে !
বেঁচে আছি নিভৃতে এভাবেই ; খেলনা ঘরের পুতুল গুলো মুখস্ত মুদ্রার মতই অপাঠ্য হু-হু শূন্যতায় মাখা , তবুও স্বপ্ন থেকে বেরিয়ে না আসার কঠিনতম নিপুন ব্যাকরণ ছোট থেকেই পুরুষের চোখের খিদে মেটায় !
বরং ওষধি স্বপ্নের ভেতর অনন্ত ভিখারি , আমরা সমস্ত যুগের নারীরা !
শরীর ও মন নিয়ে অবুঝ শিকারী ; পোশাকের ভেতর খোঁজে আমাদের নির্জন কঙ্কাল …… ! প্রতিদিন এই ঘরে বিষজ্বালায় পুড়ে উঠি ; আমাকেও আত্মঘাতী করে ভাসমান সময় ! আমাকেও প্রভূত কষ্টে নরক দেখাতে নিয়ে আসে যাবতীয় স্তব্ধতা ,
অথচ ওরাই অর্থাৎ পুরুষ দেহগুলো যোনিগর্ভ থেকে বেরিয়ে এসে প্রথম আমাদের মা বলে ডাকে !! তবু কত শত বছরের ক্যালেন্ডার স্বভাবতই এভাবেই বোবা হয়ে থাকে !!!
_________________________________
কথা দর্পণে অন্য কেউ
পাঁচবার ডেকেছি প্রিয় নাম ধরে , বারবার মহান হতে চেয়ে মহাশূন্যে উড়িয়ে দিয়েছি একবুক চারমিনারের ধোওয়া …… ভেতর থেকে গোপন বিরহে ছিঁড়েছি সব বয়সের শোক ; সেটা একবারও দেখেনি শহরতলীর কাকপক্ষী !
এভাবে নিয়ম করে
সুরক্ষিত হয় লবণ সমুদ্রে
কান্নার চিহ্ন , ….. ইচ্ছা হয় সর্বনাশ এবং জটিল অন্ধকার এই অস্বিত্বে প্রাণ পাক ৷ বীজমন্ত্রে প্রহরী হয়েছে পুড়ে যাওয়া স্মৃতি ; সেও কি আমার যাবজ্জীবনের ঘটে যাওয়া পাপ ! বহুতল উর্দ্ধে আকাশপথ ; চোখে দেখা চকিতে হারিয়ে যাওয়া লুকানো অন্তরীক্ষ শেষে ,….. শেষ একবার এই অপ্রমেয় পথে গত জন্মের আয়না ভাঙার শব্দ পেতেই শিশুকালের বাতাস শরীরে লুকিয়ে ছিল !
কথার সূক্ষ্ণতায় বিশেষ স্বপ্নগুলো বিদেহী ভাসমান ; বিবর্ণ এলোমেলো , ….. সেই থেকে অতলান্তিক আমিও অসহনীয় দীর্ঘ নির্ঘুমে গভীরে চোখ বুজে আছি !
সাদা পাতায় শব্দ ছড়িয়ে দিতেই ওপাড়ের অর্ধেক আকাশ ভ্রাম্যমান মেঘের কাছে অবিন্যস্ত পিছিয়ে পড়া ভুলগুলোকে মৃদুস্বরে বলেছে ; জন্ম নিলে দেখা করে যেও ! মন খারাপ নিয়ে ঘুম ভাঙলে সংখ্যাতীত প্রবাহে উড়ে যায় যাবতীয় অশরীর কথা , ….. সেই দর্পণে উলঙ্গ হয়ে জ্বলে ওঠে আমার কয়েকটা মৃত্যুর ছবি ! কবিতার মায়াজাল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে আমার জামা – কাপড় হীন প্রেত ; সেও বুঝে গেছে প্রতিজন্মে এভাবেই মৃত্যু নিয়ে ঘুম ভাঙে আমার আমিটার !
শহরের সব রাস্তায় অনন্তকালের অসুখ , ….. অর্থাৎ নিষ্পলক দৃষ্টিহীন হয়ে থাকার কথা ব্যক্তিগত চোখে চেয়ে নিলাম !
রোজ কেউ না কেউ এই দর্পণে দিয়ে ফিরে যায় দরজা ডিঙিয়ে : রোজ ঘুমের পথে প্রিয় মুখগুলো নির্বোধ হয়ে ঘোরে নানান প্রবাহে ৷ বাকি একটু পথ ; ওখানে পৃথিবীর ছিন্নভিন্ন শ্মশান – আঁধার , …..
এই একান্ত বহুকালের নির্ঘুম জীবন ; এর মধ্যে পকেটভর্তি নিঃশ্বাস – প্রশ্বাস , এসব আমার কবিতার সঙ্গে অদল – বদল হয়ে থাকে !
শহরটা এখন চেনা যায় না ; প্রতিদিনের ভাসমান পরিতাপ কপালের বলিরেখা থেকে উঠে এলে কাঙালের মতো মধ্যরাতে নিভৃতে চোখ বুজে ক্ষমা প্রার্থনা করে নিজের কাছে নিজেই ; নতুন করে বাঁচার স্বপ্নে !!
_________________________________
জাফরানি রঙ পরছায়া
এই অভিন্ন ভাসমান নির্জনতায় ; একান্তে অবুঝ ! তবুও নিভৃতে একক নির্ঘুম নীরব ,—- নির্নিমেষ কথা চলে চোখে চোখে ম্যাকডেভিড ছাড়িয়ে অদ্ভুত উচ্চারণে …… I
এই বেশ সতত প্রেম অতীব চোখচুপ ছিমছাম হৃদয় পোড়া আক্ষরিক আত্মনীরর ! কোথাও এভাবে দুঃখডোবা অমনস্ক ভূষিত আবেগ ; অলৌকিক ফ্যাকাশে ৷ তাই বিরতি নিতে চেয়ে চোখ অন্য দিকে ঘুরে গেল , এভাবেই পরছায়া স্মৃতি এবং প্রাচীন কাপড় চোপড় ; বিশ্রী একই রকম নিঃসঙ্গ একক ! এখানের কবিতাগুলো অস্তিত্বহীন ও ব্যক্তিগত আবেগ নিয়ে অভিন্ন নিঃস্ফল আকুল ,—- তাই বেশিটুকু সময় অন্য চাঁদের জ্যোৎসা পান করে দেবতার ছদ্মবেশ নিয়ে !
এই চোখ বেমালুম আঁকছিল তোমায় ; তুমিও শেষ নিঃশ্বাস আমার ঠোঁটেতে ফেলে স্তদ্ধ নীরবতায় হীম এভাবেই নিথর অশরীর ! তাই ভালোবাসার কাছে আমিও পাথর হয়ে আছি , —-
কোথাকার জীবন এই মাটির মধ্যে অক্ষরলিপি ছড়িয়ে দিয়েছে প্রতিজন্মে ! এই ধৃষ্টতা প্রতিবার খুন হয় মনুষ্যতের পরিচয় দিতে গিয়ে ,—- সবটাই মূল্যহীন ; তীব্র বঞ্চনায় কষ্টের দাগ গুলো দর্পণে ভেসে ওঠে অসুখ বিসুখের স্তবক নিয়ে ! সেখানে আমিও নির্বাক ; অনেকটাই নিঃশব্দ ! অবুঝ ইচ্ছা গুলো মৃত্যু মৃত্যু স্তব্ধ নির্জনে ব্যক্তিত্বহীন নির্বাক থাকে আজীবন ; অথচ সেই কতকালের প্রেম শরীরহীন শাস্ত্রদর্শী এভাবেই !
ছুঁয়েছি তোর স্বপ্নের শরীর ; ভিতরে ডেকেছি তোকে স্নান ঘরের শ্রাবণ জলচ্ছাসে ,— |
তুই ও তোর প্রতিবারের উপেক্ষা ব্বির্ণ ভৌতিক ; তবু আমি ভালোবাসি প্রতিবার তোর কাছে মৃত্যু নিতে নিতে !
এই চোখ দুটো শূন্যতা চিনতে শিখেছে ; মৃদু ভাস্যে ছড়িয়েছে কাতকালের কলঙ্কিত স্মৃতি ৷ তবু এই মন চোখের লজ্জা মাখেনি কখনো ! শেষ রাতে আমি যেন একা থাকার কাব্য নিয়ে তোর কাছে উলঙ্গ হয়ে কেঁদেছি , অথচ প্রাণহীন তুই লাশকাটা ঘরে শরীরী গোপনাঙ্গ খুলে ফিনাইল সুবাসে এভাবেই নিথর হয়ে ছিলি !
কতবার তোকে জাগাবার ইচ্ছায় মরে যাবার নাটক করেছি ; সেজন্য গোটা রাতটা অন্য কোন অনিয়মে বিশ্রামহীন নীরব হয়ে আছে ৷
শেষ রাতে কিছু কিছু ভুল এই দর্পণে ভেসে ওঠে ! কিছু কিছু স্মৃতি অমাইক উচ্চারণ গুলি প্রতিদিনের মরণকে ডাকে . একক একান্তে ! মৃত্যু ঘুম থেকে ভালোবাসা উঠে এলে ওর সমস্ত স্বপ্ন পুড়ে ওঠে কবিতার পাতায় পাতায় !!
[ বিঃদ্রঃ ~ কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক এর এই একগুচ্ছ কবিতা যেগুলো ১৯৯৮ থেকে ২০২৩ এর সময়ের মধ্যে রচিত ]
লেখক পরিচিতি : কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক
এই সময়কার বাংলা কাব্য সাহিত্যের অন্যতম একজন জনপ্রিয় কবি হলেন বিদ্যুৎ ভৌমিক ৷ জন্ম ১৬ ই জুন , ১৯৬৪ পশ্চিমবঙ্গের হুগলী জেলার সাংস্কৃতিক পিঠস্থান শ্রীরামপুরের ঝিলবাগান অঞ্চলের “কুসুম কুঞ্জ”- নিবাসে এক সম্ভ্রান্ত ও শিক্ষিত পরিবারে ৷ পিতা ৺পিযুষ কান্তি ভৌমিক এবং মাতা ৺ ছায়ারাণী ভৌমিক ৷ ছাত্র জীবনের হাতেখড়ি শ্রীরামপুরের পূর্ণচন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয় ৷ মাত্র আট বছর বযসে সত্যজিৎ রায় সম্পাদিত সন্দেশ পত্রিকা’- য় প্রথম “রেলগাড়ী”- শীর্ষক ছড়া লেখা দিয়ে তাঁর আত্মপ্রকাশ ৷ পরবর্ত্তী সময়ে বাংলা কাব্য সাহিত্যের সব শ্রেণীর পত্র-পত্রিকা , কবিতা সংকলনে একমাত্র কবিতা ও শিশু- কিশোরদের জন্য ছড়া লিখে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক দু’ই বাংলার পাঠকদের মনের মণি কোঠায় পৌঁছে গেছেন ৷ তাঁর কবিতার মধ্যে নিজস্ব একটা ব্যতিক্রমী ঘরানা তিনি সৃষ্টি করেছেন ৷ তাঁর অন্যতম কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ১ ) কথা না রাখার কথা ২) নির্বাচিত কবিতা ৩) গাছবৃষ্টি চোখের পাতা ভিজিয়েছিল ৪ ) নীল কলম ও একান্নটা চুমু ,— ইত্যাদি ৷ কবিতা লেখা এবং নিয়মিত সাধনচর্চা’-র জন্য পেয়েছেন কবি হিসেবে বেশ কিছু সম্মান ও পুরস্কার ৷ ১৯৯৭ “দক্ষিণ কোলকাতা ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক পরিষদ”- থেকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি হিসাবে স্বীকৃতি ও ব্রোঞ্চ পদক , এবং সেই বছরে নীল সুষমা পত্রিকা থেকে স্বারস্বত শিরোমনী পত্র ১৯৯৭ সম্মান ৷ 2015 পেয়েছেন “বাংলা শ্রী” কাব্য সম্মান ৷ 2021 California TV অর্থাৎ CA TV USA এর একটি LIVE অনুষ্ঠানে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক তাঁর কবিতা লেখনীর শ্রেষ্ঠত্বের জন্য এবং বাচিক শিল্পী হিসাবে পেয়েছেন বিশেষ সম্মান ৷ সম্প্রতি 2022 পেয়েছেন “সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় সাহিত্য সম্মান” ৷ কবিতাচর্চা পাশাপাশি তিনি একজন বাচিক জগতের অন্যতম বিশিষ্ট আবৃত্তিকার ৷ বেতার , দূরদর্শন , বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল , বিভিন্ন youtube channel , মঞ্চ সহ সোসাল মিডিয়াতে কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক”- এর স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি পাঠক ও শ্রোতাদের মনরঞ্জন করে চলেছেন ৷ Ukbd Tv র পক্ষ থেকে আমাদের প্রিয় কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক এর প্রতি অতলান্তময় শ্রদ্ধা ও শুভ কামনা রইলো।