বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০২ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে

ভোটার নিবন্ধনে ‘সেভ’ অ্যাক্ট বাতিলে কংগ্রেসে চিঠি

হাকিকুল ইসলাম খোকন
  • খবর আপডেট সময় : শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১১১ এই পর্যন্ত দেখেছেন

নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসসহ ১৮ জন অ্যাটর্নি জেনারেল সেফগার্ড আমেরিকান ভোটার এলিজিবিলিটি (সেভ) অ্যাক্টকে ভোটার দমন আইন অভিহিত করে অবিলম্বে তা বাতিলের আহবান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসনাল নেতৃত্বের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে এ সংক্রান্ত বিল প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানান তারা।

এই আইনটি ন্যাশনাল ভোটার রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টে (এনভিআরএ) সংশোধনী এনে ভোটার নিবন্ধনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে চায়। যদিও ইতিমধ্যেই অনাগরিকদের ভোট দেওয়া অবৈধ এবং প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে ভোটার তালিকা থেকে অনাগরিকদের বাদ দেওয়ার জন্য।

নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং অন্যান্যরা যুক্তি দেন যে প্রস্তাবিত আইনটি অপ্রয়োজনীয় এবং জটিল শর্ত আরোপ করবে, যার ফলে দেশে লাখ লাখ যোগ্য ভোটার বাস্তবিকভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। তারা আরও বলেন, এই আইন প্রয়োগ করলে ন্যাশনাল ভোটার রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টের অধীনে গত তিন দশকে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা উল্টে যাবে। এই অ্যাক্টের মূল লক্ষ্য ছিল ভোটার নিবন্ধনে প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়ানো।

ভোটাধিকার আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি। কিন্তু এই বিলের মাধ্যমে কংগ্রেস সেই অধিকার হুমকির মুখে ফেলছে,’ বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস। ‘সেভ অ্যাক্ট তথাকথিত হলেও, এটি প্রকৃতপক্ষে সংখ্যালঘু, স্বল্পআয়ের এবং অন্যান্য দুর্বল জনগোষ্ঠীর ওপর অসম প্রভাব ফেলবে। এটি একটি বিপজ্জনক নজির তৈরি করবে এবং ভোটার দমন ছাড়া আর কিছুই নয়। আমি কংগ্রেসের প্রতি আহ্বান জানাই, এই বিল প্রত্যাখ্যান করুন এবং প্রতিটি আমেরিকানের মৌলিক ভোটাধিকার রক্ষা করুন।

স্পিকার মাইকেল জনসন এবং মাইনোরিটি লিডার হাকিম জেফরিজ-এর কাছে পাঠানো চিঠিতে অ্যাটর্নি জেনারেলরা সতর্ক করে দেন যে এই আইন প্রয়োগ করলে যোগ্য ভোটারদের জন্য বিশাল প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে- এই আইন প্রয়োগ করলে ব্যয়বহুল পাসপোর্ট বা জন্মসনদ প্রদানের বাধ্যবাধকতা, যা তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, যাদের বর্তমান নাম এবং নথিপত্রের নামের মধ্যে অমিল আছে (যেমন বিবাহিত নারী ও ট্রান্স ব্যক্তিরা); নাগরিকত্বের নথি সরাসরি হাজির করার বাধ্যবাধকতা, যা বর্তমানে ৪২টি অঙ্গরাজ্যে অনলাইনে ভোটার নিবন্ধনের ব্যবস্থা বাতিল করে দেবে; সক্রিয় দায়িত্ব থাকা সামরিক সদস্যরা যারা স্থানীয় নির্বাচনী অফিসে ফিরতে পারেন না, তাদের ভোটাধিকার বিপন্ন হবে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২ কোটি ১০ লাখ ভোটার-বয়সী নাগরিকের কাছে পাসপোর্ট, জন্মসনদ বা নাগরিকত্ব প্রমাণের নথি সহজলভ্য নয়। আরও উল্লেখযোগ্যভাবে, ৮০ শতাংশ বিবাহিত নারীর জন্মসনদ সেভ অ্যাক্টের অধীনে বৈধ বলে বিবেচিত হবে না, কারণ তারা তাদের জীবনসঙ্গীর পদবি গ্রহণ করেছেন।

লেটিশিয়া জেমস এবং অন্যান্য অ্যাটর্নি জেনারেলরা আরও বলেন, সেভ অ্যাক্টের ফলে রাজ্যগুলোর নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ পড়বে। ভোটার নিবন্ধন ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে, নতুন ডকুমেন্ট যাচাই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের ছোটখাটো ভুলের জন্য পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

তারা আরও বলেন, অনাগরিকদের ভোট প্রদান অত্যন্ত বিরল ঘটনা। অভিবাসী জনসংখ্যা বেশি এমন এলাকায় গবেষণা দেখায় যে, প্রদত্ত ভোটের মাত্র ০.০০০১% ছিল অনাগরিকদের। এই নগণ্য ঝুঁকির বিপরীতে সেভ অ্যাক্ট যোগ্য ভোটারদের ওপর ভারী বোঝা চাপিয়ে দেবে, বিশেষ করে দরিদ্র এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

এই চিঠির মাধ্যমে অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস কংগ্রেসনাল নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন সেভ অ্যাক্ট বিরোধিতা করার এবং প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের ভোটাধিকার রক্ষার জন্য। আমাদের নির্বাচনের সততা রক্ষা করা উচিত, কিন্তু সেটা কোনভাবেই যোগ্য ভোটারদের বঞ্চিত করে না।
লেটিশিয়া জেমস নিউইয়র্ক এবং জাতীয় পর্যায়ে ভোটাধিকার রক্ষায় একজন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। জানুয়ারি ২০২৫-এ তিনি সফলভাবে নিউইয়র্কের ভোটার অধিকার আইন রক্ষা করেন। আগস্ট ২০২৪-এ তিনি নিউইয়র্কের প্রারম্ভিক ডাকভোট আইন রক্ষা করেন। এপ্রিল ২০২৪-এ তিনি নিউইয়র্কে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের ভয় দেখাতে চেয়েছিল এমন দুই ষড়যন্ত্র তত্ত্ববাদীর কাছ থেকে ১২.৫ লাখ ডলার আদায় করেন। প্রতিটি সাধারণ ও প্রাথমিক নির্বাচনের আগে তিনি একটি সতর্কতা জারি করেন যেন নিউইয়র্কবাসী তাদের ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকে এবং সহায়তার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের ইলেকশন হটলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন।
নভেম্বর ২০২২-এ, লেটিশিয়া জেমস নিউইয়র্কের অনুপস্থিতি (অ্যাবসেন্টি) ব্যালট সংস্কারকে সমর্থন করে একটি বিবৃতি দেন, যা ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত না হয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগকে সম্প্রসারিত করেছে।

চিঠিতে অ্যাটর্নি জেনারেল জেমসের সঙ্গে যুক্ত আছেন ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, হাওয়াই, ইলিনয়, মেইন, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নিউজার্সি, ওরেগন, রোড আইল্যান্ড, ভারমন্ট, ওয়াশিংটন এবং ওয়াশিংটন ডিসির অ্যাটর্নি জেনারেলরা।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102