

সম্পাদকীয়
কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক”- তাঁর কলম ধরেন একেবারে নিজস্ব সৃজন কারদায় ৷ কবিতা লেখাটা তাঁর দীর্ঘ দিনের সাধনা , এই সাধনাই তাঁকে বিশ্বের পাঠকদের কাছে সম্মানের সাথে পৌঁছে দিয়েছে ৷ কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক”- এর কবিতা নির্মাণ একেবারেই অন্যদের থেকে আলাদা ৷ তিনি তাঁর কবিতার মধ্যে ব্যক্তিগত অতীত কিম্বা বহতা সময়ের দাগ রাখতে ভালো বাসেন ৷ এই সংখ্যায় পাঠকদের জন্য প্রকাশ করা হল তাঁর দু’টি অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবিতা
___________________________________
দীর্ঘ কবিতা :
ঊনপঞ্চাশ বাতাস এবং আশেপাশের ঝড়
ক ) এ্যাতটা ঝুঁকে দেখছো ;
ও লজ্জা পাবেই পাবে ! কেউ নয় , মেয়ে মানুষটা অমুক কালের ধর্ষিত দু’পাতার দীর্ঘ কবিতা ! বহুকালের অসম ধাক্কায় অসহায় লাগে অতলের প্রতীক্ষিত পঞ্চশ
নারী জঠরের ভেতর শরীর লুকানো আদীম বিস্ফোরণ আমার নীলকালির কলম এবং দুধ সাদা পৃষ্ঠায় প্রতিরাতের স্পর্শকাতরতা —-
তুমি কী অক্ষরপ্রাণ শব্দ যুবক ; ডাকপুরুষের পদশব্দে মলাট ছিঁড়ে বেরিয়ে আসো লিটল ম্যাগের গভীর প্রত্যাশায় !
খ ) এই তো ছুঁলাম কৃষ্ণকলীর কাম – কামীনি ঠোঁট ….. সমস্ত রাতের নির্ঘুম বিচ্ছিরি অসুখ
এবং অতোঃপর অতলান্ত রোগে ভেতর – বাহির মননের প্রশস্ত দেশ ; ঠিক এইখানে একান্তে পাহাড় আঁকি , নদী – সমুদ্র – জলা – জঙ্গল আঁকা থাকে
এইখানে নিশ্চিন্তে মাতাল হই প্রহরে – প্রহরে !
আবার হয়তো কখনো – সখনো অদ্ভূত উচ্চারণে ভাসে নিজস্ব শূন্যতা !
যা কবিতা চলে যা ,
বুক পারিয়ে চলে যা !
গ ) এ্যাতটা আবেগ
গভীরে অফুরান নগ্ন পড়াশোনা !
শরীর নিয়ে কথা বলা
তবু চোখ বুজে মহাঃজ্ঞান নাদে হৃৎপিন্ড ছিড়ে ততটাই অমোঘ ঈশ্বরীও ; এ জন্য কবিতার সাথে ঘুম ভাঙে সঠিক পাঁচটায় !
চাইবার মত পুণ্যবান হতে পারতো এ্যাতকালের অসুখ
গালমন্দে ভাসমান দু’পাশের প্রচ্ছদ বীথি ……
প্রতিদিনের কবিতাগুলো সবকটা দরজায় এসে দাঁড়ালে
দারুণ দুর্দিনেও দর্পণে একা – একা হাসি —–
ঘ ) প্রত্যেকটা অক্ষর অশ্রুস্নানে ভদ্র – হীম
কিছুটা হাওয়ায় গদ্য প্রহরে ; আমি অবিরল পাথর হয়ে যেতে – যেতে ভেতর থেকে রৌদ্র পায়ে বেরিয়ে আসি সাজানো মঞ্চে ! চারপাশটা কবিতার যৌন গন্ধে জ্যোৎস্নাময় ,
কেউ একজন সর্বনাশের শেষ মাথায় উঠে অতি প্রাচীন অবিশ্বাসে নগ্ন হয়ে লাকিয়ে পড়েছিল পৌরুষ গরিমায় ——
অথচ এ্যাতটা উত্তাপ ছিল কী সাদাপৃষ্ঠার ভেসে ওঠা শব্দগুলোতে ?
বেশ বিষজ্বালায় অনন্ত গভীর অতল , সেও মৃত্যুর ছদ্মবেশ নিয়ে অন্তহীন নির্বোধ
অবস্থানগত পরিবর্তনে চোখ ভরা বহতা নীরবতা ; সেটাও অনুধাবনে চিনে ফেলে ছুঁয়ে বোবা হয়ে যায় !
ঙ ) গত বছর দোল ফাল্গুনের ঠিক আগে
সহবৎ ভিক্ষা চেয়ে বিপরীতে অহঙ্কারের ধুলো ঘেঁটে সমবেত স্মৃতিগুলো দাঁত খুলে হাসতে দেখেছি ,
সেই কারণে সাম্প্রতিক সময়ের কবিতারা প্রত্যন্তে ইয়ার্কী করছিল !
বহুদিন এইভাবে কাটাই এক বুক হাহাকারের নীরবতা নিয়ে ;
বহুদিন বন্য কবিতার কোঠোরে জানু পেতে বসে আছি একক এভাবেই —–
এই হাত পেতে চেয়ে নেই সমস্ত জগতের আগোপন শোক
শিরা – উপশিরায় আমি আমাকে নিয়ে চলি ; চলতে হয় ভ্রমণে – স্বপনে – অহর্নিশ শয়নে
আমার সমস্ত স্বপ্নের উপহাস সহস্র রুমালে গিঁট বিঁধে নির্নিমেশ এখন মৃত
তাই এবারকার মত কবিতার জন্য মনের
অতলে ডুবি অতলান্ত দুর্ভোগে !
চ ) এ্যাতোদিনের পৃথিবী আমারও ব্যক্তিগত হতে পারতো
ঊনপঞ্চশ বাতাস এবং আশেপাশের ঝড় ; তারাও পকেট ভর্তি কবিতাগুলো উড়িয়েছে প্রত্যেকদিন !
আমি ভাসছি দীর্ঘশ্বাসে ——
সাত জন্মের চোখ খুলে মাথায় তুলেছি দেওয়ালবিহীন সর্বনাশ
এই বয়স আমাকে নিভৃতে রেখেছে আগোপন
এই মন নতুন মুকুলে লাবণ্যময়
এই শরীরের অচেনা আকাশ ছায়াময় মেঘেও ভীষণ নিভৃত !
সেইভাবে দেখিনি তোমার নগ্নতা ; অসহবাসের মধ্যে কাছাকাছি দিন – রাত্রির নিঃসঙ্গ অদল – বদল ,—–
এ্যাত বাতাস অথচ চোখ ঢাকা ছায়া একটা ; পুরোটাই অসুখ – বিসুখের অতল গোপনতা !
ছ ) সত্যি কী মনের ভেতর এ্যাতকাল দাঁড়িয়ে ছিল যাবতীও অশরীর স্মৃতি
যোগভ্রষ্ট ধ্যানি প্রণয়ের তৃষ্ণা পাবে বলে স্বরবৃত্তে ঘুরছে বেশ কিছু কাল …..
স্বপ্নে – স্বপ্নে কতশত অতীত হয়ে যাওয়া দেহ অমাইক ভাব জমায় ;
মনের কিনারে এসে ভুলে যায় পৃথিবীর সমস্ত পুরুষের গোপনতা —–
এই আমি একদিন গুপ্ত লজ্জায় হেসেছিলাম ; তোমার চোখ থেকে চোখ সরিয়ে স্তব্ধতা ভরা নগ্নতায় ডুবে ছিলাম
সমস্তক্ষণ কবিতার কাছে উষ্ণতা ভিক্ষা ; এসব যেন মর্মান্তিক
তবুও বদলে যায় ভেতরের চারপাশ , বদলে যায় কথা না রাখার কথা
এই পথেই একদিন গাছবৃষ্টি চোখের পাতা ভিজিয়েছিল !!
___________________________________
মেঘ পালক ও বৃষ্টি ধ্বনি
চোখ বিছিয়ে অন্তর্হিত ; হাত এগিয়ে যেইনা ধরতে যাব , স্বপ্ন যেন সাদা পৃষ্ঠায় এ’ভাবেই কুপোকাত্ ! তবুও যেন এই ঘুমন্তে শ্রবণ দেখা ; নেহাতি হাজার কথার বর্ণিত আঁকিবুকি ,—-
আকাশটা ঠিক আগের মতোই এক শারীরীক রঙ বদলে ঐতিহাসিক ! মনের ভেতর মন রাঙিয়ে আনন্দে ডুবু-ডুবু ,—-
আকাশটা সে-ই পদ্য পাড়ায় ইচ্ছে করেই বুক পেতেছে সোহাগ দিতে আমার কাছে ! ও-ই আকাশের সুদূর থেকে বৃষ্টি ঝরে একই ধারায় ; হঠাৎ যেন কি হচ্ছিল সেই ধ্বনিতে মন ডুবিয়ে এই আমিটার অতলান্তে !
মেঘ পালকে ভাসছি আমি ; অতীত এবং ভবিষ্যতে ! অন্য কোন ইচ্ছা গুলো ভরদুপুরে তোর এঁকেছে জ্যোৎস্না শরীর , এই জন্যেই ভেতরশুদ্ধ ঋণী রইলাম প্রিয়ংবদা ; সবটুকুই পাগল আবেগে !
কতবারযে তোকে পেয়েছি মেঘ সরিয়ে ; গভীর থেকে স্বভাবতই এভাবে ঠিক মন পুড়েছে ,—– অসুখটা যে পরমুখোপেক্ষী ; এটাওতো আগে বুঝিনি !
বৃষ্টি বৃষ্টি চোখ খানি তোর ; বেশি বললে বিশ্বব্যাপী ! ওই চোখেতে সারা বছরই আমার কাছে আষাঢ় – শ্রাবণ ,—- যদিও ঠিক এই সময়ে বাতাস হতে ইচ্ছা করে ; একমাত্র তোর জন্যে প্রিয়ংবদা !
এইতো আমার ভিতরশুদ্ধ তুই ছাড়া কেউ নেই ,—– আমার যত দোষগুলোকে আকাশ তারায় গুণন্তি করে মিলিয়ে নিলাম ; হেয়ালী নয় , সত্যি বলছি প্রিয়ংবদা ! এবার আমায় ক্ষমা করে দে ; তোর শরীরে ভাসার জন্য পুণ্যবান হতে দে !
গোটা রাতটা আমার মতোই অর্ধেক অবিশ্বস্ত ; তবু আমায় ক্ষমা করিশ ঘুম হারানো নির্ঘুমেতে এমনি ভাবে ,—– মেঘ যেন সেই তেপান্তরে উড়তে উড়তে অনেকটা দূ-র প্রেম প্রবাহে ; অস্পষ্ট কুমারী ! এই ঘরেরই এই বিছানায় অহরাত্রি তোরই স্মৃতি ; কি করে যে ভুলতে পরি প্রিয়ংবদা ? বন্ধ চোখের ভেতর থেকে ক্রমাগত একই ধ্বনি ; সঙ্গী কিম্বা সহপাঠী ,—-
যদিও আমার এই চিঠিতে আসা যাওয়ার চেনা পথটা বৃষ্টির শব্দে শব্দে কি ভাবে যে দুঃস্বপ্নের ভেতর মুছে গেল ! একমাত্র তুই সাক্ষী থাকলি ওরে পাগলী !!
স-মা-প্ত