শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ওয়াশিংটন বাংলাদেশ দূতাবাসে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত ওয়েলস আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস পালিত রাণীশংকৈলে প্রাণীসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত ঘুষ, দূর্নীতি, অনিয়ম ও তদবির বানিজ্য বরদাশত করা হবে না ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় সঙ্গীত শিল্পী পাগল হাসান সহ নিহত ২ আগামী বছর মুজিবনগর দিবসের পুর্বে মুজিবনগরকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে—-আ ক ম মোজাম্মেল হক বৃহস্পতিবার থেকে দেশব্যাপী প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী শুরু পঞ্চগড়ে সময় টিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপিত লোকসভা নির্বাচন উপলক্ষে বাংলাবান্ধা চেকপোস্ট ৩ দিনের ছুটি নবীগঞ্জে লটারির মাধ্যমে কৃষকের তালিকা তৈরী

নবীগঞ্জে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে শতাধিক আহত

নবীগন্জ সংবাদদাতা
  • খবর আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪
  • ৫২ এই পর্যন্ত দেখেছেন

হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ শহরে দুই দলের মধ্যে ঘন্টাব্যাপী ভয়াবহ সংঘর্ষে পুলিশ , সাংবাদিক, পথচারীসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। ভাংচুর করা হয়েছে মার্কেটসহবিভিন্ন দোকানপাঠ। তিনটি ব্যাংকের মধ্যে ভাংচুর করা হয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৪৫রাউন্ড টিয়ারশেল, ১৫টি রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে।

নবীগঞ্জে কলেজ ছাত্র সৈয়দ তাহসিন হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিকসহ কমপক্ষে শতাধিক লোক আহত হয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি দোকানভাংচুর, মটর সাইকেলে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরে বাহুবল সার্কেল এসপি আবুল খয়ের, ইউএনও এর নেতৃত্বে দাঙ্গা পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কঠুর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) সন্ধ্যা ৫টা থেকে সংঘর্ষ শুরু হয়ে রাত ৯ টা পর্যন্ত  চলে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নবীগঞ্জ শহরের নতুন বাজারএলাকায়  সিসি ক্যামেরা ফুটেজ নিয়ে এ সংঘর্ষে সুত্রপাত হয় ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, কলেজ ছাত্র তাহসিন হত্যার ঘটনার সিসি টিভি ফুটেজ দেখার সূত্র ধরে কুর্শি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাতাবাদ গ্রামের সৈয়দ খালেদুর রহমান ও আনমনু গ্রামের পৌরকাউন্সিলর নানু মিয়ার লোকজনের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে এনাতাবাদ ও আনমনু গ্রামের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষজড়িয়ে পড়ে। এসময় চেয়ারম্যান খালেদের মালিকানাধীন রাজা কমপ্লেক্স. পুবালী ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংক , তাহসিন প্লাজা ও আনমনু গ্রামের বেশ কয়েকটি দোকানপাঠ ভাংচুর করা হয়। নিকটবর্তী সবজি বাজার ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

চার ঘন্টাব্যাপী চলা সংঘর্ষে উভয়পক্ষের লোকজন ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজকরে। ব্যবসায়ীরা দোকানপাঠ বন্ধ করে দিগবিদিক ছুটোছুটি করে।সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৪৫ রাউন্ড টিয়ারশেল ও ১৫ রাউন্ডরাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। রাত ৯টায় হবিগঞ্জ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠান হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আবু জাহির এমপি। অতিরিক্ত পুলিশ এসে রাবার বুলেট, কাদানেগ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। সংঘর্ষ চলাকালে নবীগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) গোলাম মুর্শিদ, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতিএম,এ আহমদ আজাদসহ শতাধিক লোক আহত হন।

কুর্শি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনাতাবাদ গ্রামের সৈয়দ খালেদুর রহমান জানান, তার মার্কেটের সিসি টিভির ফুটেজ দেখানোর জন্য আনমনু গ্রামের লোকজন তাকে সন্দেহ করে তার মালিকাধীন মার্কেটে হামলা করে সিসি টিভির ফুটেজ ছিনতাই করার চেষ্টা করে, এনিয়ে সংঘর্ষের সুত্রপাত হয়।

বিস্বস্থ সুত্রে জানাযায়, মঙ্গলবার রাতে কুর্শি ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদুর রহমান খালেদের মালিকাধীন রাজা কমপ্লেক্সের পিছনে ফুডকর্নারে দু’দল কলেজ ছাত্রদের মাঝে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।এর জের ধরে সংঘর্ষ হয় এতে একজন কলেজ ছাত্র নিহত হয়।

এ সময় চেয়ারম্যান সৈয়দ খালেদুর রহমানের নিজ গ্রামের লোকজন কাউন্সিলর নানু মিয়ার মোটর সাইকেলে অগ্নি সংযোগসহ ৩টি সাইকেল ভাংচুর করে। কাউন্সিলর নানু মিয়ার দোকানসহ একাধিক দোকান ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। পাল্টা হামলায় রাজা কমপ্লেক্সের গ্লাস ভাংচুর করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড কাদাঁনো গ্যাস নিক্ষেপ করেও পরিস্থিতিস্বাভাবিক করতে পারেনি। এক পর্যায়ে বাহুবলের সার্কেল এসপির নেতৃত্বে হবিগঞ্জ থেকে একদল দাঙ্গা পুলিশ আসলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক  হয়।

এসময় উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা অনুমপ দাশ,সহকারী কমিশনার ভুমি শাহীন দেলোয়ার,ওসি মাসুক আলী,নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ইউপি চেয়াম্যান এমদাদুর রহমান মুকুল, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মুজিবুর রহমান সেফু, জেলা পরিষদের সদস্য শেখ সফিকুজ্জামান শিপন, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম,এ আহমদ আজাদ, সাধারণ সম্পাদক মোঃসেলিম তালুকদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমদ মিলু, ইউপি চেয়ারম্যান নির্মেলেন্দু দাশ রানা, ইউপি চেয়ারম্যান নোমান আহমদ, সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য আঃমালিক সাবেক প্যানেল মেয়র এটিএম সালামসহ সাংবাদিক জনপ্রতিনিধি সহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনকরতে অপ্রাণ প্র্রচেষ্টা করেছেন।

আনমনু গ্রামের পৌর কাউন্সিলর নানু মিয়া বলেন, চেয়ারম্যান জানাজার নামাজে তার গ্রামের লোকজনকে উদ্দেশ্য করে গালাগালি করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

নবীগঞ্জ থানার ওসি মোঃ মাসুক আলী জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ৪৫ রাউন্ড টিয়ারশেল  কাদানে গ্যাস ও ১৫ রাউন্ডরাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। তিনি বলেন তার থানার ওসি তদন্তসহ ৮জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনেরয়েছে। শহরে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম দাশ অনুপ বলেন, আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102