

চলতি মাসেই রাজধানী ঢাকাসহ সব বিভাগে সমাবেশ করতে চায় বিএনপি। আগামী ৩০ জানুয়ারি জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু আগে বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশ শেষ করতে চায় দলটি। বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্র ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, সমাবেশ সমন্বয় করতে স্থায়ী কমিটির দুইজন সদস্যকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সমাবেশ সফল করতে শুক্রবার থেকে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন তারা। অন্য বিভাগ শেষ করে ঢাকায় সর্বশেষ সমাবেশ হতে পারে আগামী ২৯ জানুয়ারি। রাজশাহীতে আগামী ২৬ জানুয়ারি সমাবেশের সম্ভাব্য তারিখ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান ভোরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মন্ত্রান্ত্রিক আন্দোলন অব্যাহত রাখার সিদ্বান্তে আছি।’
বিভাগীয় পর্যায়ের দুইজন নেতা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নেতাকর্মীদের মুক্তি, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাতিল, সরকারের পদত্যাগসহ একদফা দাবিতে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করা নিয়ে তাদের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই নেতা আলোচনা করেছেন।
সূত্রের জানায়, এখন পর্যন্ত সব সমাবেশের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়নি। শনিবার আবার বৈঠক হবে, সেখানে চূড়ান্ত হবে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখনো পর্যন্ত সরকার বিরোধী কোনো কর্মসূচি দেয়নি বিএনপি। বৃহস্পতিবার থেকে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমনের জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করছেন নেতাকর্মীরা।
স্থায়ী কমিটির বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সমাবেশ করতে সরকার অনুমতি দেবে কিনা তা নিয়ে নেতাদের মধ্যে সংশয় রয়েছে। নেতারা দেখতে চান, সমাবেশ ঘিরে সরকার কী ধরনের আচরণ করে। সরকারের আচরণ দেখে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করবে বিএনপি।
গত বুধবার রাতে বিএনপির পাঁচ ভাইস চেয়ারম্যান, একজন উপদেষ্টা এবং বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকদের সঙ্গে পৃথক ভার্চুয়াল বৈঠক করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৈঠকে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে নেতাদের মতামত নেয়া হয়। এসব বৈঠকে সব নেতাই সরকারবিরোধী এক দফার আন্দোলন অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিলেও আপাতত হরতাল-অবরোধের কর্মসূচির বিরুদ্ধে মত দেন।
একইসঙ্গে আপাতত জনসম্পৃক্ত কর্মসূচির প্রস্তাব দেন। আগামী রমজান মাস সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কর্মসূচি দেয়ার পরামর্শ দেন তারা।
সূত্র জানায়, ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের পর এখন পর্যন্ত কোনা কর্মসূচি না রাখলেও ধীরে ধীরে এখন নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচিতে ফিরতে চায় বিএনপি। ইতোমধ্যে গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয় এবং নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় খেলা হয়েছে। আত্মগোপনে থাকা নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। আদালত থেকে নেতা-কর্মীরাও জামিন পেতে শুরু করেছে।
নিউজ /এমএসএম