

নবীগঞ্জে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ফসলি জমি থেকে মাটি কাটা মহা উৎসব চলছে। অবৈধ মুনাফার জন্য এসব কাজে সহযোগিতা করছেন জন প্রতিনিধিসহ রাজনৈতিক নেতারা। ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেওয়ার ফলে পরিবেশসহ জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
ইট ভাটার মালিকগন প্রভাবশালী হওয়ায় প্রশাসন মাটি কাটার বিষয় জানার পরও রহস্যজনক কারনে প্রশাসন নীরব ভুমিকানপালন করছে, মনে হচ্ছে যেন দেখার কেউ নেই। ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়ে আইনের প্রতি কোন কর্নপাত করছেন না কেউ। কেউ কেউ আবার রাতের বেলা মেশিনের সাহায্যে মাটি কাটছেন। এসব মাটি কাটা পার্টির কাছে প্রশাসনের লোকজন অসহায় হয়ে পড়েছেন।
নবীগঞ্জ উপজেলার কুর্শি ইউনিয়ন, আউশকান্দি ও দেবপাড়াসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে এক্সেভেটর মেশিন ও শ্রমিক দিয়ে আবাদি জমির উপরি ভাগের মাটি কেটে শতাধিক ট্রাক্টর দিয়ে মাটি নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়। এভাবে নির্বিচারে জমির মাটি কাটার ফলে আবাদি জমির উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে, নষ্ট হচ্ছে মাটির জৈব গুণাগুণ। নিচু হয়ে যাচ্ছে কৃষি জমি। ভারসাম্য হারাচ্ছে পরিবেশ।
ইটভাটা বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে ইটের চাহিদা। ভাটার মালিকরা হয়েছেন বেপরোয়া। অভাবী জমির মালিকদের অর্থের লোভে ফেলে তারা কেটে নিচ্ছে আবাদির জমির মাটি। অবাধে মাটি কাটার ফলে এসব ইউনিয়নের আবাদি জমি নিচু হয়ে গেছে।
সচেতন মহলের ভাষ্য, এভাবে জমির মাটি কাটা অব্যাহত থাকলে একসময় কৃষিতে বিপর্যয় দেখা দেবে। কমে যাবে আবাদি জমির পরিমাণ। জমি হতে কেটে নেয়া মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার জায়গা,সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন ইট ভাটায়।এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশ আইন অনুযায়ী কৃষি জমির মাটি কাটা দন্ডনীয় অপরাধ।
জানা যায়, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১২ এর ৬ ধারায়) অনুযায়ী, প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট টিলা ও পাহাড় নিধন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অন্যদিকে ১৯৮৯ সালের ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন (সংশোধিত ২০০১) অনুযায়ী, কৃষি জমির টপ সয়েল বা উপরিভাগের মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন করাও সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রয়েছে। দুই আইনে শাস্তির বিধান একই রকম। এসব কাজে জড়িত ব্যক্তিদের দুই লাখ টাকার জরিমানা ও দুই বছরের কারাদন্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। একই অপরাধ দ্বিতীয় বার করলে দায়ী ব্যক্তির ১০ লাখ টাকা জরিমানা ও ১০ বছরের কারাদন্ড হবে। এ ক্ষেত্রে এ কাজের সঙ্গে জড়িত জমি ও ইটভাটার মালিক উভয়ের জন্যই সমান শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন দেলোয়ার বলেন, আমি অভিযোগ পেয়ছি। এ ব্যাপারে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আমরা ইট ভাটা মালিকদের মৌখিক ভাবে সতর্ক করেছি, তারা যদি শর্তক না হন তাহলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।