বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন

হবিগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী ডাঃ মুশফিক শিক্ষায় কেয়া সম্পদে এগিয়ে

এম,এ আহমদ আজাদ
  • খবর আপডেট সময় : সোমবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২৫৪ এই পর্যন্ত দেখেছেন

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর একজন ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য মেয়াদ পুর্ণ হওয়ার চার বছর আগেই ছেড়ে দিয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের পদ।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নেমেছেন সাবেক সংরক্ষিত আসনের এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

এদিকে নবীগঞ্জ-বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে সংসদ সদস্য পদে আটজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মুল আলোচনায় মুশফিক এবং কেয়া। তারা অর্থবিত্তে প্রায় সমানে সমান।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া দুই প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা গেছে। সে অনুযায়ী ডা. মুশফিকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস এবং কেয়া চৌধুরী স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন সমাজবিজ্ঞানে।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) যাচাই-বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এ আসনে নৌকার প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা দলের কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরী।

মুশফিক হোসেন চৌধুরী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী, অন্যদিকে দলীয় টিকিট না পাওয়ায় কেয়া চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে নেমেছেন।

নির্বাচনী হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর ঋণ রয়েছে প্রায় সোয়া কোটি টাকা। তবে তার আয় ও সম্পদের পরিমাণ ঋণের চেয়ে বেশি। তার মোট ঋণ রয়েছে এক কোটি ২৪ লাখ ৫৩ হাজার ৪৮৯ টাকা। এরমধ্যে একক ঋণ ৪১ লাখ ৫১ হাজার ১৬৩ টাকা এবং যৌথ ঋণ ৮৩ লাখ ২ হাজার ৩২৬ টাকা। তার নিজের নামে স্থাবর সম্পদ রয়েছে সাত লাখ ৮২ হাজার টাকার। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ৬০ লাখ ২২ হাজার ১৯৮ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ১২ লাখ ৩৮ হাজার ১৫৮ টাকা, মোটর গাড়ি ৩৪ লাখ ৭০ হাজার, সোনা ৪০ ভরি, অন্যান্য দুই লাখ ১৪ হাজার।

হলফনামায় আয়ের কোনো উৎস উল্লেখ করেননি কেয়া চৌধুরী। তার স্বামীর নামে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা ৪২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪৫ টাকা, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ ৭২ লাখ, সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানত ৫০ লাখ, মোটর গাড়ি ১৯ লাখ ৫০ হাজার, সোনা ৪০ ভরি, ইলেকট্রনিকস পণ্য এক লাখ ২০ হাজার, আসবাবপত্র এক লাখ ৩৫ হাজার, অন্যান্য চার লাখ ৭১ হাজার ৬৪২ টাকা। স্বামীর স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে কৃষিজমি এক লাখ ৪৭ হাজার এবং অকৃষি জমি এক কোটি ১৩ লাখ ৫৬ হাজার ২৫০ টাকার।

আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর কোনো বাৎসরিক আয় নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন এবং সম্পদের বর্ণনা দিয়েছেন স্বামীরসহ।

এদিকে ডা. মুশফিক হুসেন চৌধুরীর বাৎসরিক আয় ২৯ লাখ ৩ হাজার ৮৯ টাকা এবং সব মিলিয়ে তিনি ৪ কোটি ১ লাখ ৮৪ হাজার ১১০ টাকার সম্পদের মালিক।

হলফনামা অনুযায়ী জেলা পরিষদের সদ্য সাবেক তিনবারের চেয়ারম্যানের হাতে নগদ টাকার পরিমাণ ৫১ লাখ ৭৭ হাজার ৬৬৭ টাকা। আসবাবপত্র ৫০ হাজার, অন্যান্য আরও ৭৬ লাখ ৩৬ হাজার ৯৮০ টাকার সম্পদ রয়েছে। হবিগঞ্জ শহরে ডা. মুশফিকের একটি বাড়ির কেনা দাম ৩১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং ঢাকায় আরেকটি বাড়ি করেছেন ২ কোটি ৫ লাখ ৬৮৬ টাকায়। হলফনামায় তিনি কোনো গাড়ির কথা উল্লেখ করেননি।

তার বাৎসরিক আয়ের মধ্যে রয়েছে, কৃষিখাতে ২৬ হাজার, বাড়ি/দোকান ভাড়া ১৯ লাখ ৪৪ হাজার ৮৯ টাকা, ব্যবসা থেকে ১ লাখ, চাকরি খাতে ৫ লাখ ২০ হাজার এবং অন্যান্য আরও ৩ লাখ ১৩ হাজার টাকা। তবে কোনো দেনার কথা উল্লেখ করেননি তিনি।

হলফনামা অনুযায়ী ডা. মুশফিকের নামে সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। তবে কেয়া চৌধুরীর নামে কোনো মামলা নেই।

 

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102