

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন বাগাতে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা আদা-জল খেয়ে মাঠে নেমেছেন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সাথে পাল্টে গেছে ভোটের লড়াইয়ের চিত্র। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীতা পাবার জন্য ৭ জন প্রার্থী দলীয় মনোনয়ন ক্রয় করেছেন। কে হবেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী এই আলোচনা কে রেখে নতুন করে গুঞ্জন উঠেছে হবিগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামীলীগের জোট থেকে এবার নির্বাচন করবেন ড. রেজা কিবরিয়া।
গত নির্বাচনে তিনি বিএনপির ঐক্যফন্ট্র থেকে নির্বাচন করেছিলেন। বর্তমান আওয়ামীলীগ থেকে নির্বাচন করলে এটা হবে বড় ধরনের একটি জাতীয় চমক। তাই হবিগঞ্জ-১ আসনটি আলোচনার শীর্ষে রয়েছে। কে হবেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী তা নিয়ে ধুম্রজাল বিরাজ করছে।
নবীগঞ্জ-বাহুবল উপজেলার সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে সংসদীয় আসন হবিগঞ্জ-১। এই আসনে প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার পুত্র আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত মুখ ড. রেজা কিবরিয়া প্রার্থী হলে ভোটের সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। যদিও তিনি গত একাদশ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্য ফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। তার অনুসারীদের অভিযোগ, গত নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ড. রেজা কিবরিয়া নির্বাচিত হবেন। আবার তিনি যদি নৌকা নিয়ে নির্বাচন করেন। তাহলে জাতীয় ভাবে হবে বড় ধরনের একটি চমক।
এ ছাড়া এই আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পাটির অবস্থান বেশ শক্ত। অন্যদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে জামায়াতে ইসলামী এবং খেলাফত মজলিসের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও ইতিমধ্যে প্রচার-প্রচারণা শুরু করে দিয়েছেন। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী দলীয় সমর্থনের আশায় প্রচারণা শুরু করছেন। তবে বিএনপি থেকে এখন পর্যন্ত একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনে অংশ নিবেন না বলে জানিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে তিনি নির্বাচনে অংশ নিবেন।
এই আসনের বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজীর ছেলে শাহ নওয়াজ মিলাদ গাজী তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনেও দলের সভানেত্রীর কাছে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন। তিনি শতভাগ আশাবাদী দল তাকেই মনোনয়ন দেবে। অবশ্য এ বিষয়ে দলের যেকোনো সিদ্ধান্তও মেনে নিতেও তিনি সম্মত আছেন।
আওয়ামী লীগ থেকে যারা নির্বাচন করতে ইচ্ছুক তারা হলেন-জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বতর্মান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরী , আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবদুল মুকিত চৌধুরী, সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য প্রবীন আওয়ামী আওয়ামীলীগ নেতা ইসমত আহমদ চৌধুরীর কন্যা নাজরা চৌধুরী, সুপ্রীম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সদস্য এডভোকেট শেখ মোঃ মাজু মিয়া।
১৯৯১ সাল থেকে নবীগঞ্জে বিএনপিকে সংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছেন বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া। এর সুফল পান ২০১১ সালের উপনির্বাচনে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা সত্তেও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়ে তিনি চমক দেখান। এর আগে একাধিকবার বিজয়ী হন আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দেওয়ান ফরিদ গাজী (প্রয়াত)। তিনি ২০১২ সালে সংসদ সদস্য থাকাকালীন ইন্তেকাল করেন। ওই বছরই উপনির্বাচনে শেখ সুজাত মিয়ার কাছে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী।
নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-১ আসন। এ আসনে প্রায় ৪ লাখ ৫ হাজার ৫২ ভোটারের মধ্যে নবীগঞ্জে ২ লাখ ৬১ হাজার ৯৫৯ এবং বাহুবলে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৯৩ জন। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগে একাধিক প্রার্থী থাকলেও বিএনপি এবং জাপায় একক প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের বর্তমান ও সাবেক দুই এমপিসহ প্রভাবশালী ৭ নেতা নৌকার মনোনয়ন পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
জাতীয় পাটির (জাপা) সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মুনিম চৌধুরী বাবু ও বিএনপির সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া নিজেদের দলে একক প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন। তবে এ আসনের বড় চমক আওয়ামী লীগের অর্থমন্ত্রী প্রয়াত শাহ্এএমএস কিবরিয়ার ছেলের গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক অর্থনীতিবিদ ডক্টর রেজা কিবরিয়া। আওয়ামীলীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে গণঅধিকার পরিষদের রেজা কিবরিয়া প্রার্থী হতে পারেন এই আলোচনা এখন সর্বত্র হচ্ছে।
এ আসনে ১৯৯৬ সাল থেকে টানা তিনবার এমপি ছিলেন আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী। ২০১০ সালে তিনি মারা যাওয়ার পর উপনির্বাচনে এই আসনটিতে এমপি হন বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়া। কিন্তু ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিক হিসেবে জাতীয় পার্টিকে এ আসনটি ছেড়ে দেয় আওয়ামী লীগ। তখন জাতীয় পার্টি হবিগঞ্জ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু বিনা প্রতিদ্বদ্বীতায় নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের একাদশ নির্বাচনে প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজীর ছেলে গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজকে (মিলাদ গাজী) দলীয় মনোনয়ন দেয় আওয়ামী লীগ। ওই নির্বাচনে ডক্টর রেজা কিবরিয়ার ধানের শীষের বিপক্ষে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পান । এমপি হওয়ার পর থেকে মিলাদ গাজী বিভিন্ন বরাদ্দ এনে স্থানে স্থানে মসজিদ, মন্দির, রাস্তা, ব্রিজ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন ভবনসহ ব্যাপক উন্নয়নমুলক কাজ করছেন। বেকারদের কর্মসংস্থানে তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। এবারও তিনি মনোনয়নপ্রত্যাশী।
হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী। তৃণমুল নেতা হিসেবে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন তিনিও। তিনি বলেন আমি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছি। দল যাকে মনোনয়ন দিবে আমি তার পক্ষে কাজ করবো। তবে আমি শতভাগ আশাবাদী মনোনয়ন পাবো। রেজা কিবরিয়া মনোনয়ন পাবার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,এটা সম্পূর্ন গুজব, একদল শয়তান এসব গুজব ছড়াচ্ছে রেজা নৌকা নিয়ে নির্বাচন করার প্রশ্নই আসে না।
আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবদুল মুকিত চৌধুরী, বলেন, আমি শতভাগ আশাবাদী এই কারনে জননেত্রী শেখ হাসিনা তরুণ নেতৃত্বে বিস্বাসী। আমাকে যদি দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়, তরুণ সমাজ কে নিয়ে উন্নয়নের জন্য কাজ করবো ও নতুন একটি ইতিহাস সৃষ্টি করবো। সবাই পরিবর্তন চায় বর্তমানে হবিগঞ্জ-১ আসনে যুব সমাজের পক্ষে নেত্রীর কাছে দাবি যাকে নৌকা দিবেন সে যেন ক্লিন ইমেজের হয়। নৌকা যে পাবে আমি তার পক্ষে কাজ করবো।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ (মিলাদ গাজী) বলেন, এমপি হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এলাকায় আমি ১ হাজার ২শ’ কোটি টাকার ওপরে উন্নয়ন করেছি। উন্নয়ন করেছি প্রত্যেকটা ইউনিয়নে ব্রিজ কালভার্টসহ অনেক রাস্তার। আমার দায়িত্বকালে ১৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হয়েছে এবং আমার বাবা মরহুম দেওয়ান ফরিদ গাজী ১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছেন। এ আসনের ভোটাররা আমার প্রতি খুবই খুশি।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাবেক এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল। জনগণের চাওয়ার মাত্রাটা আমাকে নিয়ে বেশি। দলের সভানেত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন, তাহলে আসনটি তাকে উপহার দেব।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী বলেন, আমি হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলরদের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং সভাপতি ছিলাম। বিএনপি এবং স্বৈরাচার এরশাদ ক্ষমতায় থাকার সময় আমি দায়িত্ব পালনকালে হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করছি। আমার সময়ে আমি যখন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তখন হবিগঞ্জের চারটি সংসদীয় আসন নেত্রীকে উপহার দিয়েছি।
তিনি বলেন, ২০১১ সালে নবীগঞ্জের উপনির্বাচনে আমি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছিলাম। তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগের কতিপয় নেতাকর্মীর ষড়যন্ত্রে মাত্র ১০২০ ভোটে পরাজিত হয়েছিলাম। পরে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আমার দুর্ভাগ্য যে জাতীয় পার্টিকে আসনটি ছেড়ে দিতে হয় তাই আমি ওই আসনে নির্বাচন করতে পারিনি। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে ২০১১ সাল থেকে জেলা পরিষদের দায়িত্ব দিয়েছেন। অদ্যাবধি দায়িত্ব পালন করছি।
গন অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় একজন নেতা রেজা কিবরিয়া ঘনিষ্টভাজন, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেজা কিবরিয়া শেষ মুহুর্তে আওয়ামীলীগের মহাজোট থেকে নির্বাচন করার জন্য সরকারের সাথে আলাপ আলোচনা চলছে। যদি আমাদের আলোচনা সফল হয় তাহলে রেজা ভাই নৌকা নিয়ে নির্বাচন করবেন ও আগামী মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হবেন।
এব্যাপারে ড. রেজা কিবরিয়া সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি এই প্রতিবেদকের মোবাইলে ক্ষুদে বার্তায় বলেন ব্যস্ত আছেন, পরে কথা বলবেন, কিন্তু পরে অনেক বার ফোন করলেও ফোন রিসিভ করেননি।
জাতীয় পাটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও হবিগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক সাবেক এমপি এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু বলেন, তৃণমুলের জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। যে লক্ষ্যে আমি দিন-রাত মাঠে কাজ করে যাচ্ছি। শুধু আমার সংসদীয় আসন হবিগঞ্জ-১ নবীগঞ্জ-বাহুবলই নয়, জেলাজুড়ে তৃণমুল জাতীয় পার্টিকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেন, আমি নবীগঞ্জ-বাহুবলবাসীর জন্য ৫ বছর এমপি হিসেবে কাজ করেছি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পুরণে সর্বদা সচেষ্ট ছিলাম।
উল্লেখ্য, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আবদুল আজিজ চৌধুরী, ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের আব্দুল মান্নান চৌধুরী ছানু মিয়া, ১৯৭৯ সালে জাসদের মাহাবুবুর রব সাদী, ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগের ইসমত আহমদ চৌধুরী, ১৯৮৮ সালে জাসদের অ্যাডভোকেট আব্দুল মোছাব্বির, ১৯৯১ সালে জাতীয় পার্টির খলিলুর রহমান চৌধুরী রফি, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক মন্ত্রী দেওয়ান ফরিদ গাজী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১০ সালের ১৯ নভেম্বর দেওয়ান ফরিদ গাজী মৃত্যুবরণ করেন।
শুন্য আসনে ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের দুর্গে প্রথমবারের মতো হানা দেয় বিএনপি। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ শেখ সুজাত মিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে ওই উপনির্বাচনে তৎকালীন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরীকে পরাজিত করেন। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি প্রার্থী এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে এমপি নির্বাচিত হন গাজী মোহাম্মদ শাহনওয়াজ (মিলাদ গাজী) ।
নিউজ /এমএসএম