

বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচালের জন্য সন্ত্রাস করছে বলে মন্তব্য করেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশকে আর্থ-সামাজিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। জিডিপির আকারে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৫তম অর্থনীতির দেশ। এইসময়ে নির্বাচনে ব্যাহত করতে বিএনপি ও জামায়াত অগ্নি-সন্ত্রাস ও সহিংসতা করছে।
বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) একাদশ জাতীয় সংসদের সর্বশেষ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। এ সময় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভপতিত্ব করেন।

গত ২৮ অক্টোবরে বিএনপির সংহিস ঘটনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও দলটির সঙ্গে আলোচনা নাকচ করে দিয়েছে। ওই সহিংসতার সঙ্গে যুক্তদের জানোয়ার অভিহিত করে তিনি বলেছেন, জানোয়ারদের সঙ্গে বসার কথা কারা বলে, প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, দেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কোন বাংলাদেশ তারা চায়?
সরকার বিভিন্ন খাতের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আজ যখন সারা দেশে মানুষের যখন খাদ্য নিরাপত্তা থেকে শুরু করে সব ধরনের সহযোগিতা করে যাচ্ছে আর তখন আমরা কি দেখলাম কথা নাই বার্তা নাই নির্বাচন হতে দেবে না। আর আমাকে পদত্যাগ করাবে, ক্ষমতা থেকে হটাবে। এই ঘোষণা দিয়ে গত ২৮ অক্টোবর যে তাণ্ডব বিএনপি করেছে সারা বাংলাদেশে তাদের এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ভিডিও আমি সংসদে তুলে ধরতে চাই। সারা দেশর মানুষ যাতে দেখতে পারে তারা কি করেছে। এর পর সংসদে একটি ২৮ অক্টোবরের সহিংসতার একটি ভিডিও চিত্র দেখান প্রধানমন্ত্রী।

ভিডিও দেখানো শেষ হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে বাংলাদেশ আমরা উন্নত করেছি, বলেছিলাম দিন বদলের সনদ, উন্নয়নশীল বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। আর তার পর এই ধরনের ধ্বংস যজ্ঞ। আর বক্তব্য দেয়ার আমার মানসিকতা নেই। এই রকম দৃশ্য, যারা বিচারপতির বাড়িতে আগুন দেয়, এর আগে প্রধান বিচারপতির দরজায় লাথিও মেরেছে, এই বিএনপির নেতারা। পুলিশের উপর হামলা, অ্যাম্বুলেন্সে রোগি যাচ্ছে সেই অ্যাম্বুলেন্সে আক্রমণ আর কি বিভৎস্য দৃশ্য। পুড়িয়ে মানুষ হত্যা শুধু নয়, মনে হচ্ছে গোটা দেশটাকেই এরা ধ্বংস করে দেবে। দেশবাসীর কাছে আমি এটাই জানতে চাই কোন বাংলাদেশ চায় তারা। এই সন্ত্রাসী, এই জঙ্গি, এই অমানুষগুলি এদের সাথে কারা থাকে। আর তাদের সাথে বসা, এই জানোয়ারদের সঙ্গে বসার কথা কারা বলে। আমার কথা হচ্ছে জানোয়ারেরও একটা ধর্ম আছে, ওদের সে ধর্ম নাই, ওদের সে ধর্মও নাই। ওদের মধ্যে কোনো মানুষত্ব নাই। ওরা চুরি, লুষ্ঠন, দুনীতি, দুবৃত্তায়ন ছাড়া কিছুই জানে না। ওদের নেতা থেকে শুরু করে সবই তো এইভাবে সৃষ্টি। সৃস্টি যে করেছে সেই জিয়াউর রহমান আমার বাবা মা ভাই সব হত্যার সাথে জড়িত। আর খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া তো আমাকেই বার বার হত্যার চেষ্টা করেছে।

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশের মানুষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কোন বাংলাদেশ তারা চায়? উন্নত দেশ নাকি ধ্বংস দেশ। বিএনপি জামায়াত শুধু ধবংসই করতে পারে। বাংলাদেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আর যেন কেউ খেলতে না পারে দেশবাসীর কাছে সেই সহযোগীতা চাই। সাংবাদিকদের যেভাবে মেরেছে, সেটা মেনে নেয়া যায় না। তারা তো বিএনপিরই কাজই করতো। গাড়ি পুড়িয়েছে, তাদেরকে সহযোগিতা দেব। যারা অগ্নি-সন্ত্রাস করে, তাদেরকে ধরিয়ে দিন। যে হাত দিয়ে গাড়ি পোড়াবে সেই হাত পুড়িয়ে দিন। ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করুন। এরা মুষ্টিমেয় লোক। উন্নয়ন অব্যাহত থাকুক, মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকুক, সেটাই চাই। প্রধানমন্ত্রী সবশেষে বলেছেন, ইনশাল্লাহ, আবার দেখা হবে।
নিউজ /এমএসএম