

ওয়ানডে বিশ্বকাপে আজ ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের পর এবার শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে আফগানিস্তান। বিশ্বকাপে টানা ১৪ ম্যাচ হারের বৃত্তে ঘুরতে থাকার পর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হারিয়ে সেই বৃত্ত ভাঙ্গে আফগানরা। এরপর থেকেই তাদের জয়রথ ছুটছেই। লঙ্কানদের বিপক্ষে ৭ উইকেটের জয়ের পর ছয় ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচ নম্বরে উঠে আসল আফগানিস্তান। এই জয়ে তাদের সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন আরো বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। তাদের শেষ তিন ম্যাচ নেদারল্যান্ডস, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এর মধ্যে কমপক্ষে দুটি ম্যাচ জিতলেও সেমিতে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকছে রশিদ-নবীদের।
সোমবার (৩০ অক্টোবর) টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নিশাঙ্কার ৪৬ রান এবং ছোট ছোট জুটির উপর ভর করে ২৪১ রানের মামুলি সংগ্রহ গড়ে তোলে শ্রীলঙ্কা। আফগানদের হয়ে বল হাতে ৪ উইকেট নেন ফজল হক ফারুকি। জবাবে ব্যাট করতে নেমে রহমত শাহ, আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদীর ফিফটির সুবাদে সহজ জয় নিশ্চিত করে আফগানরা।
শ্রীলঙ্কার ছুড়ে দেয়া ২৪২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আফগানরা। প্রথম ওভারের ৪র্থ বলে রানের খাতা না খুলতেই দিলশান মাদুশাঙ্কার বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ। এরপর রহমত শাহকে নিয়ে ৭৩ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন আরেক ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান। মাদুশাঙ্কার বলে ডিপ থার্ডম্যান অঞ্চলে করুণারাত্নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ৫৭ বলে ৩৯ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান জাদরান। এরপর অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহিদী এবং রহমত শাহ আফগানদের হয়ে করেন ৫৮ রানের জুটি। দলীয় ১৩১ রানে ৭৪ বলে ৭টি চার হাঁকিয়ে ৬২ রান করে রাজিথার স্লোয়ারে বোকা বনে মিড অন অঞ্চলে করুণারাত্নের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রহমত শাহ। তার ঠিক আগের বলেই পয়েন্টে রহমতের ক্যাচ ফেলেছিলেন সাদিরা। পাঁচে নামা আজমতউল্লাহ ওমরজাইকে নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন অধিনায়ক শহিদী। দুজনই তুলে নেন ফিফটি। ক্যারিয়ারের ১৮তম হাফ-সেঞ্চুরি করে শহিদী অপরাজিত থাকেন ৫৮ রানে। এছাড়া ওয়ানডেতে দুই হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি। অন্যদিকে তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেয়া ওমরজাই করেন ৬৩ বলে অপরাজিত ৭৩ রান।
পুনেতে আগে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২২ রানেই ১৫ রান করে আউট হন দিমুথ করুনারত্নে। তার ফেরার পর দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়েন আরেক ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস। টানা পঞ্চম হাফ সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৪৬ রানে থামেন ৫টি বাউন্ডারি মারা নিশাঙ্কা। মেন্ডিসের সাথে ৭৭ বলে ৬২ রান যোগ করে পেসার আজমতুল্লাহ ওমরাজাইর শিকার হন নিশাঙ্কা। নিশাঙ্কার পর সাদিরা সামারাবিক্রমার সাথেও ৫০ রানের জুটি গড়েন মেন্ডিস। মুজিবের বলে ৩টি চারে ৩৯ রানে বিদায় নেন মেন্ডিস। মেন্ডিসকে শিকারের পর ৩টি চারে ৩৬ রানকরা সামারাবিক্রমা মুজিবের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হন। ৫ রানের ব্যবধানে দুই সেট ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়ে শ্রীলংকা। সেখান থেকে দলকে লড়াইয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন মিডল অর্ডার ব্যাটাররা। ধনাঞ্জয়া ডি সিলভাকে ১৪ রানে স্পিনার রশিদ খান এবং চারিথ আসালাঙ্কাকে ২২ রানে শিকার করেন ফারুকি। ১ রানে আউট হন দুসমান্থ চামিরা। ১৮৫ রানে সপ্তম উইকেট হারিয়ে দুইশর নিচে দ্রুত গুটিয়ে যাবার শঙ্কায় পড়ে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু সেটি হতে দেননি অভিজ্ঞ ম্যাথিউস এবং মহেশ থিকশানা। অষ্টম উইকেটে ৪২ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়েন তারা। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩১ বলে ২৯ রান করেন থিকশানা। থিকশানার সাথে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়া ম্যাথুজকে ৪৯তম ওভারে থামান ফারুকি। দলীয় ২৩৯ রানে মোহাম্মদ নবির দারুণ ক্যাচে আউট হবার আগে ১টি করে চার-ছক্কায় ২৬ বলে ২৩ রান করেন অভিজ্ঞ ম্যাথিউস। শেষ পর্যন্ত ইনিংসের ৩ বল বাকী থাকতেই ২৪১ রানে অলআউট হয় শ্রীলঙ্কা।
নিউজ /এমএসএম