বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ন

ভাগনার বিদ্রোহ

সারা বিশ্বের নজর রাশিয়ার দিকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ২৫ জুন, ২০২৩
  • ২০২ এই পর্যন্ত দেখেছেন

রুশ সামরিক নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে বহু আগে থেকেই অসন্তুষ্ট ছিলেন ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ভাগনারের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিন। ইউক্রেনে যুদ্ধের ময়দানে রাশিয়ার হয়ে লড়ার সময়ও নানা অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ বিদ্রোহের ঘোষণা দিলেন ভাগনারপ্রধান। রাশিয়ার সামরিক নেতৃত্বকে উৎখাতে হুমকি দিয়েছেন তিনি।

ভাগনারের যোদ্ধারা ইউক্রেন সীমান্ত থেকে এগিয়ে যাচ্ছেন মস্কোর দিকে। এরই মধ্যে সীমান্তবর্তী রাশিয়ার রোস্তভ-অন-দন শহর দখলের দাবি করেছে বাহিনীটি। ভোরোনেঝ শহরের একটি সামরিক ঘাঁটিও তাদের দখলে রয়েছে। এই ঘাঁটির অবস্থান মস্কো ও রোস্তভ-অন-দনের মধ্যবর্তী অঞ্চলে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মস্কোয় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। খবর এএফপি, আলজাজিরার।

ভাগনারের ওই বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে বড় চাপের মধ্যে পড়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এরই মধ্যে শনিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই কর্মকাণ্ড রাশিয়ার জনগণের পিঠে ছুরি চালানোর মতো।’ রাশিয়া পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্বনেতাদের অনেকেই মুখ খুলেছেন।

ইউক্রেন যুদ্ধের আগেও তারা ছিলেন হারিহর আত্মা

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া যে দুর্বল, তা দেখিয়ে দিয়েছে ভাগনারের বিদ্রোহ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, রাশিয়া যে দুর্বল, তা স্পষ্ট। তারা পুরোপুরিভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। আর যত দিন রাশিয়া নিজেদের সেনাসদস্য ও ভাড়াটে যোদ্ধাদের আমাদের মাটিতে রাখবে, তত দিন তাদের এমন বিশৃঙ্খলা, যন্ত্রণা ও সমস্যা নিয়ে চলতে হবে।

রাশিয়া পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের মুখপাত্র অ্যাডাম হজ। তিনি বলেছেন, রাশিয়ায় যা ঘটছে, তা নিয়ে মিত্র ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করবে ওয়াশিংটন।’ তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ভাগনারের বিদ্রোহের ওপর নজর রাখছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারাও। জোটটির প্রধান চার্লস মাইকেল টুইটারে উল্লেখ করেছেন, রাশিয়ার পরিস্থিতি সামনে আসার পর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সেটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

অপরদিকে, ‘সব পক্ষকে দায়িত্বশীল থাকার ও বেসামরিক মানুষের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখার’ আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক।

কে এই প্রিগোজিন?
রুশ বেসরকারি সামরিক ভাগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন।

গত কয়েকমাসে ইউক্রেনের বিভিন্ন রণাঙ্গনে অসাধারণ বীরত্বের প্রমাণ দিয়েছে এই ভাগনার গ্রুপ। প্রিগোজিনের বাহিনী ইউক্রেনে ঢুকতেই মোড় ঘোরে যুদ্ধের। যখন রাশিয়ান সৈন্যরা প্রচণ্ড ক্ষয়ক্ষতির শিকার এবং এলাকা হারাচ্ছে, তখন প্রিগোজিনের ভাড়াটে সৈন্যরা মস্কোর পক্ষে যুদ্ধ করে পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে উঠেপড়ে লেগেছে।

ভাগনার সৈন্যরা একটি দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এপ্রিলে পূর্ব ইউক্রেনীয় শহর বাখমুতে রাশিয়ান পতাকা উত্তোলন করতে সক্ষম হয়। ১৫ মাসের সংঘাতের পর এটি ছিলো একটি বড় জয়। মাত্র কয়েকদিন পরেই প্রিগোজিন বিজয়ের সেই মুহূর্তকে ইউক্রেনের ব্যর্থতার জন্য রাশিয়ার সামরিক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের দায়ী করার একটি সুযোগে পরিণত করেছিলেন, যা ক্রেমলিনের অভ্যন্তরীণ কিছু লোকই করে থাকতে পারে।

  • এই কর্মকাণ্ড রাশিয়ার জনগণের পিঠে ছুরি চালানোর মতো : রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

শনিবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চলমান বিরোধ নতুন উচ্চতায় পৌঁছায় যখন ভাগনার নেতা প্রিগোজিন দাবি করেছিলেন যে তার যোদ্ধারা ইউক্রেন থেকে রাশিয়ার সীমান্ত শহর রোস্তভ-অন-ডনে প্রবেশ করেছে এবং যে কেউ তাদের থামানোর চেষ্টা করবে তার সাথে তারা লড়াই করবে। ভাগনার প্রধান ক্রেমলিনের কাছেও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, কেন ইউক্রেনে হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া?

টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বার্তায় প্রিগোজিন বলেছিলেন, (রাশিয়ার) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (রাশিয়ার) সমাজ ও (রুশ) প্রেসিডেন্টকে (পুতিন) ধোঁকা দেয়ার চেষ্টা করছে ও আমাদের মিথ্যে গল্প শোনানো হচ্ছে, কীভাবে ইউক্রেন থেকে আগ্রাসনের সূত্রপাত হয়েছিলো। প্রকৃতপক্ষে তারা ন্যাটোর সঙ্গে মিলিত হয়ে আমাদের হামলার পরিকল্পনা করেছিল।

যেভাবে পুতিনের সঙ্গে সখ্যতা প্রিগোজিনের
৬২ বছর বয়সের প্রিগোজিন ১৯৮১ সালে ডাকাতি ও হামলার জন্য দোষী সাব্যস্ত এবং ১২ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন। মুক্তিলাভের পর ১৯৯০-এর দশকে সেন্ট পিটার্সবার্গে একটি রেস্তোরাঁ প্রতিষ্ঠা করেন তিনি।

সেই সময়ই পুতিনের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। তখন তিনি শহরের ডেপুটি মেয়র। সেই সময়ের পুতিনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তাকে ‘পুতিনের শেফ’ নামে ডাকা হতো। পরবর্তীতে মিডিয়া ও একটি কুখ্যাত ইন্টারনেট ‘ট্রল ফ্যাক্টরিসহ’ অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজের ব্যবসা প্রসারিত করেন তিনি। এমনকি ২০১৬ সালের যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

হঠাৎ করেই উল্কার গতিতে উত্থান হতে শুরু করে তার। রাতারাতি ভাগনার গ্রুপের প্রধান বনে যান প্রিগোজিন। রুশ মাটিতে বেআইনি অস্ত্র কারখানা পরিচালনার মতো গুরুতর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

প্রিগোজিনের ভাষ্য, তার এক ডাকে সামনের সারিতে ৩৫ হাজার যোদ্ধা দাঁড়িয়ে যেত। যোদ্ধাদের নিয়োগের জন্য রাশিয়ান কারাগারগুলো তিনি পরিদর্শন করতেন ও সেখান থেকে বেছে বেছে সুদক্ষ যোদ্ধাদের ভাগনার গ্রুপে নিয়োগ করতেন।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102