

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বর্তমানে (২০২২-২৩ অর্থবছরে) বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয়ের পরিমাণ ২৭৬৫ মার্কিন ডলার যা ২০০৭-০৮ অর্থবছরে ছিল ৬৮৬ মার্কিন ডলার। সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে মাথাপিছু আয় বর্ধিত করা।
রবিবার (১১ জুন) জাতীয় পার্টির সৈয়দ আৰু হোসেন বাবলার একটি প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, মাথাপিছু আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে ও বাস্তবায়ন করছে। সরকার প্রতিবছরই বাজেটের আকার বাড়িয়ে আসছে ও আর্থ-সামাজিকসহ বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে যা প্রকারান্তে জনগণের মাথাপিছু আয় বাড়াচ্ছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সরকারের বাজেটের আকার ছিল ৬৪ হাজার কোটি টাকা যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় বারো গুণ বাড়িয়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লক্ষ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকায়।
তিনি আরো বলেন, মাথাপিছু আয় বাড়ার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো উচ্চতর প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। এই লক্ষ্যে সরকার বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে ক্রমপুঞ্জিভূত মূলধন বাড়ানোর বিভিন্ন পরিকল্পনা এরই মধ্যে বাস্তবায়ন করেছে ও আরো নতুন নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা দলিলে সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি সহায়ক খাতগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে ও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে, ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো খাতগুলো যেমন বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, যোগাযোগ, বন্দর উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইসিটি খাতে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করা হচ্ছে। বিগত ১৪ বছরে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি’র মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। সরকারের নেয়া সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও চলমান অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বড় আকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। ২০১৩-২৪ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি ২০০৮-০৯ অর্থ বছরের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। বিদ্যুৎ, উৎপাদন, সঞ্জালন ও বিতরণ খাতের সমন্বয় করে সবার জন্য পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এসময় মাথাপিছু আয় বাড়ানো দেশের উন্নয়নে নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের উল্লেখ করেন তিনি।
নিউজ/এম.এস.এম