

বজ্রপাতে দেশের ছয় জেলায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। বজ্রপাতের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ এপ্রিল) চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় চারজন এবং যশোর, ঝিনাইদহ, রাজবাড়ী ও মেহেরপুরে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
সাতক্ষীরার কলারোয়ার পাঁচরকি ও সদর উপজেলার বিহারীনগরে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হলেন কলারোয়ার পাঁচরকি গ্রামের কামরুল ইসলাম (৩৬) ও সদর উপজেলার বিহারীনগর গ্রামের আব্দুল্লাহ মোল্যা (৩৪)। কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাড়ির পাশের বিল থেকে বোরো ধান ওঠাচ্ছিলেন কামরুল ইসলাম। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
সদর থানার ওসি আরো বলেন, আগরদাড়ি এলাকার বিহারীনগর গ্রামের আব্দুল্লাহ মোল্যা মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির উঠানে আসা মাত্রই বজ্রপাত হলে তিনি নিহত হন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুরে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। দুপুরে আমবাগানে আমে ব্যাগিং করার সময় এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো শ্যামপুর গোপালনগর গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে শাহিন আলী (১৩) এবং শরৎনগর গ্রামের হারুন আলীর ছেলে অসিম (১২)। আহতরা হলো লছমানপুর গ্রামের রোজবুল ইসলামের ছেলে মো. নয়ন (১৩) ও গোপালনগর গ্রামের কাশেদের ছেলে মো. সরোয়ার (১৫)। শ্যামপুর ইউপির চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে যশোরের শার্শায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে কামরুল ইসলাম (৩৫) নামে একজন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলায় কায়বা গ্রামের বাসিন্দা।
শার্শা থানা পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে কায়বায় মাঠে ধান তোলার কাজ করছিলেন কয়েকজন কৃষক। এ সময় বজ্রপাত হলে কামরুল ইসলাম নিহত হন। তিনি মাঠ থেকে ধান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।
ঝিনাইদহ সদরের বুরাপাড়া মাঠে ধানক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রপাতে সুজন মীর (৩১) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি কুবিরখালী গ্রামের রমিজ উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে সদর উপজেলার মধুহাটি ইউনিয়নের বুরাপাড়া মাঠে নিজ জমিতে কেটে রাখা ধান ঢেকে রাখছিলেন সুজন মীর। সে সময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের দেবীপুরে বজ্রপাতে সাইদুল মৃধা নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি একই ইউনিয়নের খালেক মৃধা পাড়ার জামাল মৃধার ছেলে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজেদের জমির ফসল তুলতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।
দেবীপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, সাইদুলসহ তারা কয়েকজন নিজেদের ক্ষেতে কাজ করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাতে সাইদুলের কান ও নাক দিয়ে রক্ত ঝরতে শুরু করে। তাৎক্ষণিক তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার বিদ্যাধরপুর গ্রামে বজ্রপাতে শাহাবুদ্দিন (৩৭) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শাহাবুদ্দিন উপজেলার দারিয়াপুর ইউনিয়নের বিদ্যাধরপুর গ্রামের মৃত আলী হোসেনের ছেলে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শাহাবুদ্দিনসহ কয়েকজন কৃষক মাঠে কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার পথে দারিয়াপুর লাউ গড়ার মাঠ নামক স্থানে পৌঁছলে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে শাহাবুদ্দিন ঘটনাস্থলে নিহত হন।
নিউজ /এমএসএম