

বৃহস্পতিবার (৬ এপ্রিল) তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণরত ড্রাইভারদের প্রশিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্টিভিটিস অব সোসাইটি-ডাস্।
ডাস্ এর সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মোয়াজ্জেম হোসেন টিপুর সঞ্চালনায় এবং বাংলাদেশ কোরিয়া কারিগরী প্রশিক্ষণ সেন্টারের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. লুৎফর রহমান এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক আ.স.ম আশরাফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)’র রোড সেফটি বিভাগের পরিচালক শেখ মো. মাহবুব-ই রব্বানী ও দ্যা ইউনিয়নের কনসালটেন্ট মো. ফাহিমুল ইসলাম (যুগ্মসচিব,অন লিয়েন)।
সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন ডাস’র নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ ও বাংলাদেশ জার্মান কারিগরী প্রশিক্ষণ সেন্টারের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী ফৌজিয়া শাহনাজ এবং মূল বক্তব্য প্রদান করেন ডাস্’র টীম ম্যানেজমেন্ট লীড দোয়া বখশ্ শেখ। এছাড়া সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন ডাস্’র পলিসি এনালিস্ট আসরার হাবীব নিপু। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন তামাক বিরোধী এনজিওর প্রতিনিধিগণ ও কারিগরী প্রশিক্ষণ সেন্টারের প্রশিক্ষকবৃন্দ।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়টাকে সামাজিক আন্দোলন হিসাবে দেখতে হবে। ড্রাইভিং এর পাশাপাশি অন্য যে কোন মনোযোগ ড্রাইভারের চিন্তায় বিচ্যুতি ঘটাবেই। আমাদের দেশে সব ক্ষেত্রেই আইন সবল থাকে কিন্তু বাস্তবায়নের জায়গায় আমরা সবসময়ই দূর্বল থাকি। ডোপ টেস্ট এর মত ধূমপানের বিষয়টাকেও প্রশিক্ষণ কারিকুলামে অন্তর্ভূক্ত করার ব্যাপারে তাঁর দপ্তর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাহবুব-ই রব্বানী বলেন, উপলব্ধি না করতে পারলে সচেতনতা আসে না। শিক্ষিতরা কেউ ড্রাইভিং পেশায় আসে না। যে গোষ্ঠি আসে তারা তাদের পারিবারিক পরিবেশ থেকেই ধূমপানটাকে একটা বির্দোষ কালচার হিসাবে দেখে আসে।
দ্যা ইউনিয়নের ফাহিমুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ সংবিধান এর ১৮(১) অনুচ্ছেদ এ উল্লেখ আছে, জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। তামাকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এফসিটিসিতে প্রথম স্বাক্ষরকারী দেশ হলো বাংলাদেশ। এসডিজিতে নন কমিউনিকেবল ডিজিজ কমানোর পড়ামর্শ। এতগুলো বিষয়কে মূল্যায়ন বা কার্যকর করতে হলে প্রয়োজন সকল কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা। ট্রেনিং কারিকুলাম এ তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়টি অন্তর্ভূক্তকরণ জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। চলমান পরিবহণে ড্রাইভারই ব্যবস্থাপক, তাই তাকেই প্রধান ভূমিকা নিতে হবে।
প্রতি বছর কয়েক হাজার গাড়ি চালকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গাড়ি চালনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হলেও তাদের নেই সড়ক পরিবহন আইন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কিত স্পষ্ট কোনো ধারণা। তাই তাদের এই আইন সম্পর্কিত পরিস্কার ধারণা থাকা আবশ্যক বলে মনে করেন বক্তারা।