

সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার নিউইয়র্কের আদালতে যখন হাজির হবেন, সেই সময় তিনি একজন অভিজ্ঞ বিচারকের মুখোমুখি হবেন- যার বিচারিক ক্ষমতা সম্পর্কে ট্রাম্পের অজানা নয়। তিনি আর কেউ নন, নিউইয়র্কের সুপ্রিমকোর্টের জর্জ জুয়ান মার্চান। আলোচিত মামলার বিচারকাজ পরিচালনা করার ইতিহাস মার্চানের কম দীর্ঘ নয়। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ অ্যালেন উইসেলবার্গকে তিনি জেলে পাঠিয়েছেন। ট্রাম্পের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহচর স্টিভ ব্যাননের অপরাধ মামলার রায় তার হাতেই হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবারের বিচারকাজ হতে যাচ্ছে মার্চানের ক্যারিয়ারে সবচেয়ে উচ্চমার্গীয় ব্যক্তির বিচার। মার্চানের আদ্যপান্ত নিয়ে গতকাল মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।
সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। পর্নো তারকা ড্যানিয়েলস স্টর্মির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে ফেঁসে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া ড্যানিয়েলসের মুখ বন্ধ রাখতে বড় অংকের অর্থও দেওয়া হয়েছিল ট্রাম্পের পক্ষে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বা সাজা হলে আগামী বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের প্রার্থিতা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে। এ নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে এখন তপ্ত অবস্থা বিরাজ করছে। এই মামলারই বিচারকাজ পরিচালনা করবেন বিচারপতি জুয়ান মার্চান। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ আলোচনা চলছে। তবে আদালতে মার্চানের নিষ্ঠা, নিয়মানুবর্তিতাসহ নানা ইতিবাচক দিক রয়েছে। অ্যাটর্নিরা সিএনএনকে জানিয়েছেন, তার বহুল আলোচিত হলেও তিনি তার আদালতের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে বেশ পারঙ্গম।
উইসেলবার্গের অ্যাটর্নি নিকোলাস গ্রাভান্তে জানিয়েছেন, বিচার মার্চান দক্ষ, ব্যবহারিক এবং আমার যা বলার ছিল তিনি তা মনোযোগ দিয়ে শুনেছিলেন। গ্রাভান্তের কথায়, তিনি (মার্চান) তার বক্তব্যে বেশ স্পষ্ট ছিলেন, যা আমাকে মক্কেলকে আইনি পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কাজে দিয়েছিল। এ ছাড়া আদালতে এবং বন্ধ দরোজার আড়ালেও তিনি আমার এবং আমার সহকর্মীদের সঙ্গে বেশ সুন্দর আচরণ করেছেন। এ ছাড়া আদালতে প্রসিকিউটর আসামিদের কোনো সমস্যা তৈরি করতে দেন না মার্চান। একই সঙ্গে মিডিয়া সার্কাস যাতে না ঘটে, সেদিকেও কঠোর নজর রাখেন তিনি। সর্বোপরি তিনি প্রতিহিংসাপরায়ণ নন।
সিএনএন জানিয়েছে, উইসেলবার্গকে সাজা দেওয়ার সময় মার্চান কিছু শক্ত দিক দেখিয়েছিলেন। এ ছাড়া মার্চান যখন ব্যাননের মামলার সভাপতিত্ব করছিলেন, সেই সময় বিলম্বের জন্য এবং তারা নতুন প্রমাণ পর্যালোচনার জন্য সময় চেয়েছিলেন সেই সময় অ্যাটর্নিদের দলকে সাজা দিয়েছিলেন মার্চান।
ট্রাম্পের মামলাগুলো ছাড়াও মার্চান ‘সকার মম ম্যাডাম’সহ অন্যান্য হাইপ্রোফাইল মামলার সভাপতিত্ব করেছেন।
এদিকে ট্রাম্পের অ্যাটর্নি টিমোথি পার্লাটো গত শুক্রবার সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, মার্চান হয়তো ‘সহজ’ হবেন না, কিন্তু তিনি ন্যায্যতা নিশ্চিত করবেন। তিনি আরও বলেন, আমি এর আগেও তার সামনে মামলা নিয়ে হাজির হয়েছি। তিনি কঠিন হতে পারেন। কিন্তু আমি মনে করি না যে, তেমনটি হতে চলেছে।
নিউজ /এমএসএম