শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২৫ অপরাহ্ন

বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের তাগিদ ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রীর

কূটনৈতিক প্রতিবেদক
  • খবর আপডেট সময় : সোমবার, ১৩ মার্চ, ২০২৩
  • ১৯৫ এই পর্যন্ত দেখেছেন

বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের তাগিদ দিয়েছেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী অ্যান-মেরি ট্রেভেলিয়ান। তিনি বলেন, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা গেলেই সংবিধানের সঠিক মূল্যায়ন হবে। এটি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো একসঙ্গে কাজ করলে একে অপরের প্রতি আস্থা তৈরি হবে। ফলে যে কোনো ধরনের সহিংসতা এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। এসময় জাতীয় নির্বাচন কেন্দ্র করে রাজনৈতিক গ্রেপ্তার বা আইনি মামলা এড়ানোর মাধ্যমে দলগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরির পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।

রবিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য অংশীদারত্ব’ শীর্ষক আলোচনায় এই পরামর্শ দেন ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী। বিদেশি পর্যবেক্ষক রাখার সিদ্ধান্ত জাতীয় নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতে সহায়ক হবে মন্তব্য করে ব্রিটিশ এ প্রতিমন্ত্রী গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে তার দেশের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক
দুপুরে অ্যান-মেরি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রীকে মোমেন বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দুশ্চিন্তা না করার জন্য আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান সরকার একটি বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে এরই মধ্যে স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনার পূর্ণ ক্ষমতাও দেয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী সবকিছু শুনে বলেছেন, গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকতে পারে। এ সময় মন্ত্রী বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়পরায়নতার কথা তুলে ধরে ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রীকে বলেছেন, তাদের কোনো দুর্বলতা থাকলে বাংলাদেশ থেকে শিখতে পারেন।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক বিষয়ে এক টুইটবার্তায় ট্রেভেলিয়ান বলেন, ‘বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে আমাদের সমর্থনের বিষয়েও জানিয়েছি।’

গত শুক্রবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে আসেন অ্যান-মেরি। শনিবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন তিনি।

বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষর
ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্যের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক একটি সমঝোতা চুক্তি (একর্ড) স্বাক্ষর হয়। বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং যুক্তরাজ্যের পক্ষে দেশটির প্রতিমন্ত্রী অ্যান-মেরি ট্রেভেলিয়ান চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্বাক্ষরিত চুক্তি প্রসঙ্গে ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী বলেন, শান্তি ও নিরাপত্তাসহ দ্বিপাক্ষিক ইস্যুতে বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে।

শাহরিয়ার আলম বলেন, এ চুক্তির মাধ্যমে কপ-২৬ ও কপ-২৭-এ গৃহীত লস অ্যান্ড ডেমেজসহ সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করবে।

এ সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দুটি সদস্যরাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে পড়ে যাওয়া কপ ধরে রাখতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাজ্যে অবদানের স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, তারা আমাদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্যে পাঁচ বছর আন্দোলনকে ধরে রেখেছিল।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা অনেক বেড়েছে মন্তব্য করে শাহরিয়ার আলম বলেন, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর চেয়ার হিসেবে গত তিন বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিয়েছেন। সে সময় দেখেছি, পৃথিবীর বেশিরভাগ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো বাংলাদেশের মতো সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারেনি। তাদের এগিয়ে নিতে সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর অনুষ্ঠিত ‘অ্যাডাপ্টেশন অ্যাকশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আন্তঃমন্ত্রণালয় গোলটেবিল বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন ন্যাশনাল অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যান-ন্যাপ (২০২৩-৫০) বাস্তবায়নে সিজিএ ও যুক্তরাজ্যের সহায়তা চান।

তিনি বলেন, ন্যাপ বাস্তবায়নে ২৩০ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন হবে যার একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন থেকে সংগ্রহ করতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহুপাক্ষিক অর্থনৈতিক শাখার মহাপরিচালক ফাইয়াজ মুরশিদ কাজীর পরিচালনায় বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার ও ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ; বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার ড. রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন, ইইউর ডেলিগেশন প্রধান রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি, জিসিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. প্যাট্রিক ভারকুইজেন, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের বাংলাদেশ ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর, ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক এবং গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপ্টেশনের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সেলিমুল হক, জিসিএর বিশিষ্ট ফেলো আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

রোহিঙ্গাদের দেখতে আসছে মিয়ানমারের প্রতিনিধি দল
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন বলেন, তিনি ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রীকে জানিয়েছেন শিগগিরই রোহিঙ্গাদের অবস্থান দেখতে মিয়ানমার থেকে একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করবে।

ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বিস্তারিত আলাপ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মিয়ানমারে সেনা শাসন আসার পরও দুদেশের মধ্যে আলোচনা হচ্ছে। গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার রাখাইনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছে বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও আসিয়ানের আটটি দেশসহ মোট ১১টি দেশের রাষ্ট্রদূত বা কনসাল জেনারেলরা।

মিয়ানমার এই প্রথম তাদের রাখাইনে বিভিন্ন জায়গা পরিদর্শন করিয়েছে। রাখাইনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পর তাদের বসবাস নিশ্চিত করতে ঘরবাড়ি তৈরি করেছে মিয়ানমার। সেগুলো কূটনীতিকদের দেখাতে নিয়ে গেছে।

ট্রেভেলিয়ান বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সমাধান হচ্ছে নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় তাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া। এ ব্যাপারে বিশ্ব সম্প্রদায়, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এসময় তিনি রোহিঙ্গাদের সহযোগিতার জন্য যুক্তরাজ্যের অর্থায়ন অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102