

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে ডিজিটাল জগতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে ডিজিটাল জগতকে নারীর জন্য নিরাপদ করার ওপরও জোরারোপ করেন বক্তারা।
‘ডিজিটাল : ইনোভেশন অ্যান্ড টেকনোলজি ফর জেন্ডার ইকুয়ালিটি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা একথা বলেন। বক্তারা বলেন, প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে। পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছে। আর এই চ্যালেঞ্জের ক্ষেত্রে ভিকটিম বেশি হচ্ছে নারীরা। যা নারীর অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন। জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অনুষ্ঠিত সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভির হাসান জোহা। বক্তব্য রাখেন ভোরের কাগজ সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, সদস্য ফরিদ হোসেন। সঞ্চালনা করেন প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জুলহাস আলম।
তানভির হাসান জোহা বলেন, ৮৪ শতাংশ নারী এবং ৬৪ শতাংশ পুরুষ ফেসবুক ব্যবহার করছে। করোনা কালে ই-কমার্সে নারীর অংশ গ্রহণ বেড়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে প্রযুক্তি খাতে আয় বেড়েছে ২৫ শতাংশ। নারীরা যখন সামলম্বী হয়েছে তখনই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে। যা নারীর অগ্রযাত্রাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একজন নারী এখনো পর্যন্ত ঋণের জন্য জিম্মাদার হতে পারে না। যা নারীর প্রতি বৈষম্যেরই বহিঃপ্রকাশ।
ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, নারী দিবস আলাদা করে কেনো পালন করা হয়- এমন প্রশ্ন অনেকেরই। এই দিনটি নারীর আত্মউপলব্ধির একটি দিন। নারী যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন পিতৃতান্ত্রিক সমাজের তা ভালো লাগে না। প্রযুক্তি ব্যবহারে নারী-পুরুষের সমতা আনতে হবে। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে ইন্টারনেট ব্যবহারে নারীকেও হতে হবে স্মার্ট।
শ্যামল দত্ত বলেন, আমাদের দেশে ১৪ কোটি মানুষ মোবাইল ব্যবহার করে। ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। আর ৫ কোটি ৭০ লাখ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করছে। প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করে দিয়েছে। কিছু চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দিয়েছে। জেন্ডার বৈষম্য নিরসনে এই প্রযুক্তি কতটা ভূমিকা রাখছে? স্মার্ট ফোন ব্যবহারে আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। নেপালের চাইতেও আমরা এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে। আমরা সমতার বাংলাদেশ চাই। নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে এখনো নারীরা বৈষম্যের শিকার। এই বৈষম্য দূর করতে হবে।
এম এস/ ঢাকা