

ইস্ট লন্ডনের রেডব্রিজ কাউন্সিল এলাকায় রাস্তাঘাটে মহিলাদের হয়রানি করলে জরিমানা আরোপ করছে কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। নারীদের মধ্যে পরিচালিত কাউন্সিলের এক গবেষণা প্রকাশিত হয় গত বছরের শেষের দিকে। গবেষণার জরিপে অংশ নেয়া মাত্র ১৯ শতাংশ নারী বলেছেন তাঁরা এই কাউন্সিল এলাকায় বসবাস করতে সাধারণভাবে নিরাপদ অনুভব করেন। প্রায় ৭০ শতাংশ নারী বলেছেন, ইলফোরডের রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে মাসে অন্তত একবার তাঁরা হয়রানির শিকার হন। কিন্তু হয়রানী করা হলেও তাঁরা কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করেন না। এর কারণ হিসাবে প্রায় ৩০ শতাংশ নারী বলেছেন, পুলিশের ওপর তাদের ভরসা নেই।
পুলিসের ওপর আস্থাহীনতার প্রেক্ষাপটে জানুয়ারি মাসের এক বিকেলে ইলফোরডে নারীদের এক পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন কাউন্সিল নেতৃবৃন্দ এবং পুলিস সদস্যরা। এসময় নারীরা যেসব রাস্তাকে অনিরাপদ মনে করেন, সেগুলো দেখিয়ে দেন।
কাউন্সিল নেতৃবৃন্দ বললেন, এই পদযাত্রা তাদের জন্য জানার এবং শেখার সুযোগ, যাতে তাঁরা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারেন।
সাত মাস আগে ইলফোরডের একটি রাস্তা ধরে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হয়ে নিহত হন জারা আলীনা। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্থানীয় কমিউনিটিকে প্রচণ্ড নাড়া দেয়। জারা আলীনার হত্যাকারী জর্ডান ম্যাকসুইনী সেই রাতে একাধিক মহিলার পিছু নিয়েছিল। রেডব্রিজ কাউন্সিল জানিয়েছে, তাঁরা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করছে। তবে আরও অনেক কাজ করতে হবে।
মহিলারা হেঁটে যাওয়ার সময় শিস দেয়া এবং বাজে মন্তব্য করাকে বলা হয় ক্যাটকলিং। এটি অন্যতম একটি বড় সমস্যা। ডিসেম্বর মাসে সাদা পোশাকের কাউন্সিল কর্মকর্তারা একজন পুরুষ ব্যাক্তিকে অন্য এক মহিলাকে হয়রানী করার দায়ে ১শ পাউন্ড জরিমানা করেন। পাবলিক স্পেইস প্রটেকশন অর্ডারের আওতায় লন্ডনে এটিই এ ধরনের প্রথম জরিমানার ঘটনা।
বেশ কয়েকটি কলঙ্কজনক ঘটনার পর লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিসের ওপর নারীদের আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও এই আস্থাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টার অংশ হিসেবে রেডব্রিজ কাউন্সিলের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে স্থানীয় পুলিস।
পদযাত্রার পর কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করা হয়, হয়রানি এবং হেনস্থার শিকার হলে কি তাঁরা এখন পুলিসে রিপোর্ট করবেন?
এদিকে ইংল্যান্ডে নারীদের নিরাপত্তায় নতুন একটি আইন পাশ করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন আইনে বেশ কিছু কাজকে অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হবে। যেমনঃ অশ্লীল অথবা আগ্রাসী মন্তব্য করা, কারো চলার পথে বাধা সৃষ্টি করা এবং রাতের বেলা ইচ্ছাকৃতভাবে কারো পেছনে খুব কাছাকাছি দূরত্বে হাঁটা। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে ছয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হতে পারে। অনেক কেম্পেইনার নতুন এই প্রস্তাবিত আইনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে আইনটি প্রয়োগ করা কতোটা সহজ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কারণ, পাবলিক স্পেইস প্রটেকশন অর্ডারের আওতায় ডিসেম্বর মাসে একজন পুরুষ ব্যাক্তিকে অন্য এক মহিলাকে হয়রানী করার দায়ে রেডব্রিজ কাউন্সিল যে ১শ পাউন্ড জরিমানা করেছিল, তা এখনও পায়নি। তবে এই জরিমানা আদায়ের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।
নিউজ/ যুক্তরাজ্য / কেএলি