

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন দৈনিক জনতা সম্পাদক আহ্সান উল্লাহ্। ফুলেল শ্রদ্ধায় তাঁকে শেষ বিদায় জানালেন সতীর্থরা। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নামাজে জানাজা শেষে বাদ জোহর রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ৬১ বছরের বর্ণাঢ্য সাংবাদিকতার অবসান হলো বর্ষীয়ান সাংবাদিক আহ্সান উল্লাহ্র। ফজরের নামাজের পর মিরপুরের পশ্চিম শেওড়াপাড়ার বেলতলা মসজিদে আহ্সান উল্লাহ্র প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর তাঁর কর্মস্থল ফকিরাপুলে দৈনিক জনতা কার্যালয়ের সামনে সকাল সাড়ে ১১টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে দৈনিক জনতার প্রকাশক সৈয়দ মো. আতিকুল হাসান ও সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ আহ্সান উল্লাহ্র সাবেক সহকর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য মানুষ অংশ নেন। সর্বশেষ বেলা ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে মরহুমের তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে মরহুমকে ফুলের শ্রদ্ধা জানান জাতীয় প্রেস ক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে-একাংশ) সভাপতি ওমর ফারুক, অপর অংশের সভাপতি এম. আব্দুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী, অপর অংশের সাধারণ সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুভাষ চন্দ বাদল, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, সাবেক মহাসচিব আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম, বাংলাদেশ সম্পাদক ফোরামের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রতন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আনোয়ারুল করিম, দৈনিক জনতা পরিবার ও খুলনা বিভাগ সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। পরে বাদ জোহর আজিমপুর কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ইউকেবিডিটিভির উপদেষ্টা ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান শরীফ, ইউকেবিডিটিভির চেয়ারম্যান মকিস মনসুর, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার খায়রুল আলম লিংকন, মার্কেটিং ডাইরেক্টর ও ইউকেবিডিটিভি.কম এর বার্তা সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া প্রমুখ।
গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের স্থায়ী সদস্য আহ্সান উল্লাহ্ মারা যান। ৮১ বছরের আহ্সান উল্লাহ্ ৬১ বছর ধরেই সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দৈনিক জনতায়। বর্ষীয়ান সাংবাদিক আহ্সান উল্লাহ্ দৈনিক ইত্তেফাকের কার্যনির্বাহী ও বার্তা সম্পাদক মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেনের ভাগ্নে।
১৯৬২ সালে তিনি দৈনিক ইত্তেফাকে সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদাররা দৈনিক ইত্তেফাক অফিস পুড়িয়ে দিলে আহ্সান উল্লাহ্ দূর থেকে দাঁড়িয়ে পোড়া অফিস দেখেছেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক বাংলার বাণীতে। এরপর ১৯৭৫ সালে ভারত বিচিত্রা পত্রিকার সম্পাদক হন। সম্পাদক থাকার সময়ই ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগে ভর্তি হন।
১৯৮০-৮১ সালে তিনি ওই বিভাগ থেকে এমএ পাস করেন। এরপর ১৯৮৫ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ প্রতিষ্ঠিত দৈনিক জনতায় সিনিয়র সাব-এডিটর হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে দৈনিক জনতা বন্ধ হয়ে গেলে তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থায় কাজ শুরু করেন। এরপর ২০০৪ সালে আবার দৈনিক জনতায় ফিরে আসেন বার্তা সম্পাদক হিসেবে। কিছুদিন পর তিনি সম্পাদক হন।
আমৃত্যু তিনি সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি খুব উঁচু মানের সাহিত্য অনুবাদক ছিলেন। লিখতেন কবিতাও। আহ্সান উল্লাহ্ দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী বছর দুয়েক আগে মারা যান।
নিউজ/এম.এস.এম