শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ে ইয়াবাসহ যুবক আটক দেশ রক্ষায় প্রগতিশীল সাংবাদিকদের ভুমিকা গুরুত্বপূর্ণ -মহিবুল হাসান চৌধুরী আহলে সুন্নাত এর কার্যক্রম বাস্তবায়নের আহ্বান শিক্ষিকার ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত বিমানের সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ে শিশু ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্রীড়া সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠিত ৩২ বছরের শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসরে প্রধান শিক্ষক জহির আলী লন্ডনে চতুর্দশ বাংলাদেশ বইমেলা ও সাংষ্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত লন্ডনে এস৯ ফিল্মস টেপ বল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

রাজশাহী জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে আবারও নৌকায় ভোট চাইলেন

রাজশাহী সংবাদদাতা
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৩
  • ২১৮ এই পর্যন্ত দেখেছেন

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর দল কখনো পলায়ন করে না বরং জনগণের সঙ্গে থেকে তাদের উন্নতির জন্য কাজ করে যায়। তিনি বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করে বলেন, যারা বলছে আওয়ামী লীগ পালানোর সুযোগ পাবে না, আমি তাদের একটা কথা পরিষ্কার করতে চাই যে, আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না, কিন্তু তাদের নেতারাই পালিয়ে যায়। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বাধা দিয়েছিল- আমাকে দেশে আসতে দেবে না। আমি বাধা অতিক্রম করেই এবং এই বাংলার মানুষের কথা ভেবেই দেশে এসেছি, পালাতে নয়।

প্রধামন্ত্রী উন্নয়নের জয়যাত্রা অব্যাহত রেখে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে দেশবাসীকে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করারও আহ্বান জানান। শেখ হাসিনা রোববার বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে লাখো মানুষের অংশগ্রহণে জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন। সমাবেশ স্থল থেকে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (আরসিসি) সাতটিসহ মোট ২৬টি প্রকল্পের উদ্বোধন ও ছয়টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে বিরোধী দল অনেক কথাই বলে, তারা নোটিশ দেয় আবার বলে আমরা নাকি পালাবার পথ পাব না।

তিনি বিএনপি-জামায়াতকে প্রশ্ন করেন পালায় কে? কারণ আওয়ামী লীগ কখনও পালায় না, পিছু হটে না। ‘৭৫ এ জাতির পিতাকে হত্যার পর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের বাধা সত্ত্বেও’ ৮১ সালে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হবার পর একরকম জোর করেই দেশে ফিরে আসার উল্লেখ করে তিনি বলেন, আবার ২০০৭ সালে ছেলের বউ অসুস্থ থাকায় তাঁকে বিদেশ যেতে হয়েছিল কিন্তু তাঁর ফেরায় আবারও বাধার সৃষ্টি করা হয়, মামলা হুমকি ধমকি উপেক্ষা করেও সে সময় বাংলার মানুষের কথা চিন্তা করে জোর করে তিনি দেশে ফিরে এসেছিলেন। তিনি বলেন, আজকে যারা বলে আওয়ামী লীগ পালানোর সুযোগ পাবে না, তাদের আমি স্পষ্ট বলতে চাই আওয়ামী লীগ পালায় না, পালায় আপনাদের নেতারাই। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি নেতারা নাকি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করবে তাদের দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে। যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় স্ট্যাম্পে মুচলেকা দিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল আর রাজনীতি করবে না বলে। সেই কথা কি বিএনপি নেতাদের মনে নাই।

দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা ও তারেক। এমনকি খালেদা জিয়া তারেক কোকোর মাধ্যমে যে টাকা পাচার করেছিল তার ৪০ কোটি টাকা আমরা বিদেশ থেকে ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না বরং জনগণকে নিয়েই কাজ করে। কেননা এই সংগঠন জাতির পিতা শেখ মুজিবের হাতে গড়া সংগঠন। এই সংগঠন যখন ক্ষমতায় থাকে বাংলাদেশের মানুষের তখনই ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা দারিদ্রের হার ৪০ ভাগ থেকে ২০ ভাগে নামিয়েছি। সামাজিক নিরাপত্তাবলয়ের কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা প্রদানের পাশাপাশি তিনি ভূমিহীন-গৃহহীনদের জন্য তাঁর সরকারের বিনা মূল্যে ২ কাঠ জমিসহ ঘর নির্মাণ করে দেয়ার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের এই বাংলায় একটি মানুষও যাতে গৃহহীন না থাকে, কেউ যেন খাদ্যের জন্য কষ্ট না পায় সেজন্য তাঁর সরকারের পদক্ষেপের উল্লেখ করেন তিনি। গত নির্বাচনে (জাতীয় নির্বাচন) এবং মেয়র নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য শেখ হাসিনা রাজশাহীর জনগনণকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনেও নৌকায় ভোট প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, আগামীতে নির্বাচন আসবে, এই বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে সেখানে আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন কি না ওয়াদা চাই।

সমবেত জনতা এই সময় দুই হাত তুলে সমস্বরে চিৎকার করে ওয়াদা করলে তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ যেন গড়তে পারি সেজন্যই আপনারা সকলে নৌকায় ভোট দেবেন।

সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুর রহমান ও অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও মাহবুবউল আলম হানিফ, খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। এতে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল এবং সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার সমাবেশ সঞ্চালনা করেন।

৮১ সালে তাঁর অনুপস্থিতিতে তাঁকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয় উল্লেখ করে জাতির পিতার কন্যা বলেন, আমি এমন একটি দেশে ফিরে আসি, যেখানে আমার কোনো বিচার চাওয়ার অধিকার ছিল না। জাতির পিতার খুনিদেরকে ইনডেমনিটি দিয়ে বিচারের হাত থেকে রেহাই দিয়ে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। সে অবস্থায় আমি দেশে ফিরে আসি শুধু বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য। ১৯৯৬ সালে যখন সরকার গঠন করি তারপর চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশকে উন্নত করতে। জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া কেউ এদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা দেয়নি, চিন্তাও করেনি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতা এসেই বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে।

তিনি বলেন, এই রাজশাহীতে জাতির পিতা স্বাধীনতার পর কল-কারখানা করেন। এরপর সব বন্ধ হয়ে যায়। আওয়ামী লীগ বন্ধ কারখানা চালু করতে কাজ করে। পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য দীর্ঘ বাঁধ করে দিয়ে সেই ভাঙন আমরা রোধ করে দেই। রাজশাহীর মানুষের কর্মসংস্থানের কোনো ব্যবস্থা নেই, তাদের জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছি আমরা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী সবসময় অবহেলায় ছিল। আপনারা এখানে নৌকায় ভোট দিয়েছেন। আমরা উন্নয়ন করেছি। রাজশাহীতে ১০ হাজার ৬৬০ কোটি টাকার উন্নয়ন করা হয়েছে এবং ৪ হাজার কোটি টাকার কাজ চলছে। আজ যে কাজগুলো উদ্বোধন করা হল এগুলো রাজশাহীবাসীকে আমার উপহার। তিনি এ সময় তিনি রাজশাহীতে বেসরকারি উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানের হোটেল গড়ে তোলায় এগিয়ে আসার জন্য শিল্প উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সেক্ষেত্রে এটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভেন্যু হিসেবেও বিকশিত হতে পারবে।

বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, নৌকায় ভোট দেওয়ায় অপরাধে ফাহিমা-মহিমা-রজুফাদের ওপর নির্যাতন হয়েছে। অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। অথচ এই নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই এদেশ স্বাধীন হয়েছে। নৌকায় ভোট না দিলে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হতে পারতো না। নৌকায় ভোট দিয়েছে বলেই জিয়াউর রহমান মেজর জেনারেল হতে পেরেছিল। অথচ সেই নৌকার প্রতি এতো ক্ষোভ কেন?

বাংলাদেশের মানুষ ভালো থাকুক এটা বিএনপি সহ্য করতে পারে না, উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলেই এদেশে লুটপাট আর দুর্নীতি করে। আর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে এদেশের মানুষ শান্তিতে থাকে, ভালো থাকে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষের জন্য কাজ করি। আর বিএনপি কী করে? মানুষ খুন করা, অগ্নিসন্ত্রাস করা তাদের কাজ। তিনি ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে আন্দোলনের নামে বিএনপির অগ্নিসন্ত্রাস ও মানুষ হত্যা এবং বাংলাভাইসহ সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ সৃষ্টির প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিএনপি ৩ হাজার ৮০০ বাস, ২৯টি ট্রেন, লঞ্চ, প্রায় ৭০টি সরকারি অফিস, ৬টি ভূমি অফিস আন্দোলনের নামে পুড়িয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি জানি না, আপনারা বিবেচনা করেন, কেমন করে মানুষ জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারতে পারে? এই বিএনপি-জামায়াত কীভাবে জীবন্ত মানুষগুলোকে পুড়িয়ে মেরেছে? শুধু সাধারণ মানুষ নয়, পুলিশকে পর্যন্ত কীভাবে মাটিতে ফেলে এমনভাবে পিটিয়েছে! তিনি বলেন, যখন জিয়াউর রহমান মারা গেল, তখন দেখা গেল কী? জিয়া কিছুই রেখে যায় নাই, একটা ভাঙা সুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জি ছাড়া। পরে দেখা গেল, খালেদা জিয়ার সেই মূল্যবান শাড়ি (ফ্রেন্স শিফন) ফ্রান্স থেকে কিনে আনা। তারেক জিয়াদের সেই কোকো লঞ্চ, তাদের ইন্ডাস্ট্রি, এত টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে যে এখনও দেখবেন কীভাবে আয়েশি জীবনযাপন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখবেন, আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়েছি, তাতেই তারা আমাদের বিরুদ্ধে গীবত গায়, মানুষকে উসকানি দেয়। এরা দেশে লুটপাট, সন্ত্রাস এগুলোই করতে পারে। বাংলা ভাই এই রাজশাহীতে প্রকাশ্যে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে মিছিল করেছে, আর পুলিশ তাদের পাহারা দিয়েছে। তারা সন্ত্রাস আর জঙ্গিবাদ ছাড়া কিছু বোঝে না। তিনি আরো বলেন, আমরা এদেশের খাদ্য নিরাপত্তা থেকে শুরু করে কমিউনিটি ক্লিনিক সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন করেছি। ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় করেছি, দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স ডিগ্রির মর্যাদা দিয়েছি। শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণকে দিতে আসে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে জনগণ পায়। আমরা চাই আমাদের দেশ এগিয়ে যাক। দেশকে আমরা উন্নত করতে চাই।

বিপদে পুলিশকে পাশে পেয়ে মানুষ যেন স্বস্তি বোধ করে তা নিশ্চিত করুন : এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমী সারদা’র প্যারেড গ্রাউন্ডে ৩৮ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের শিক্ষানবীশ সহকারী পুলিশ সুপারদের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তিনি প্যারেড গ্রাউন্ডে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ (অ্যাড.আইজিপি) আবু হাসান মুহাম্মদ তারেক তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। চৌকস পুলিশ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদ সদস্য, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী খোলা জিপে চড়ে পাসিং আউট প্যারেড পরিদর্শন করেন। তিনি রাষ্ট্রীয় অভিবাদন গ্রহণ এবং সেরা প্রবেশনারি এএসপিদের মধ্যে পদক বিতরণ করেন। এএসপি ইয়াকুব হোসেন প্যারেড কমান্ডার বা প্যারেড অ্যাডজুট্যান্ট এবং সহকারী প্যারেড কমান্ডার হিসেবে প্রবেশনারি এএসপি শুভ্র দেব কুচকাওয়াজ পরিচালনা করেন। ১২ জন মহিলা সহ ৯৭ জনের শিক্ষানবিশ এএসপি এক বছরের দীর্ঘ প্রশিক্ষণে অংশ নেন। পরীক্ষার্থীরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পুলিশ সায়েন্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সনদও পেয়েছেন। প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে এএসপি মো. জাহাঙ্গীর কবির ‘সেরা একাডেমিক’ পুরস্কার, এএসপি মো. সাজ্জাদুর রহমান ‘বেস্ট হর্সম্যানশিপ’, এএসপি শুভ্র দেব ‘বেস্ট ইন ফিল্ড প্রবেশনার’ এবং এএসপি মো. রাসেল রানা ‘সেরা শুটার’ এবং সাকিবুল আলম ভূঁইয়া “বেষ্ট প্রবেশনার” পুরস্কার পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এএসপির ৩৮তম বিসিএস ব্যাচের পাসিং আউট প্যারেড উপলক্ষে একটি কেক কাটেন এবং একাডেমীতে একটি জয়তুন গাছের চারা রোপণ, ভিজিটর বইয়ে স্বাক্ষর এবং প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে ফটো সেশনেও অংশগ্রহণ করেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি দোরগোড়ায় পরিষেবা পৌঁছে দিতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, জনগণ যেন বিপদে পুলিশকে তাদের পাশে পেয়ে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে পারে। তিনি বলেন, আধুনিক সময়ে নাগরিক সেবার ধারণাকে প্রাধান্য দিয়ে পুলিশি সেবাকে গণমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। পুলিশ বাহিনী যেন জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে। যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা বা সন্ত্রাস দমন বা যে কোন কাজ করতে গেলে জনগণের সহায়তা একান্ত ভাবে দরকার। তিনি বলেন, মানুষ যেকোন বিপদে পড়লে পুলিশকে পাশে পেলে তারা যেন অন্তত আশ্বস্ত হয়। সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই পুলিশ তার পেশাদারিত্ব এবং সহমর্মিতা দিয়ে মানুষের আস্থা অর্জন করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ ৩৮তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজের দিনে পুলিশ বাহিনীর সকল সদস্যদের আমি অনুরোধ করবো জাতির পিতা যে স্বপ্নের ‘সোনার বাংলাদেশ’ গড়তে চেয়েছিলেন তা গড়ার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সাথে আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করবেন। সরকার প্রধান বলেন, বাংলাদেশকে আমরা চাই ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়তে, বাংলাদেশ স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। অর্থাৎ স্মার্ট বাংলাদেশে স্মার্ট প্রশাসন, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট জনগোষ্ঠী সাথে সাথে আমাদের পুলিশ বাহিনীকেও স্মার্ট পুলিশ বাহিনী আমরা গড়ে তুলতে চাই। নবীন পুলিশ সদস্যদের শেখ হাসিনা বলেন, এ উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আপনারাও আমাদের সাথী। এজন্য আপনাদেরকে যুগোপযোগী কর্মকৌশল গ্রহণ এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে রূপান্তরে তরুণ প্রজন্মকে নেতৃত্ব দিতে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছি।

নিউজ/এম.এস.এম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102