

স্পেন থেকে ফ্রান্সে অবৈধভাবে পাঁচ অভিবাসীকে নিয়ে গেছেন এক ব্যক্তি। এই অপরাধে তাকে ১৪ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন ফ্রান্সের একটি আদালত। ওই পাঁচজন বাংলাদেশের নাগরিক।
স্পেন থেকে ফ্রান্সে অবৈধভাবে ওই পাঁচজনকে নিয়ে যাওয়ার বিনিময় হিসেবে দেওয়া হয়েছিল মাংস। আদালতে এ তথ্য স্বীকার করেছেন সাজা পাওয়া ব্যক্তি। তবে তাকে কোন প্রাণীর মাংস দেওয়া হয়েছিল এবং তার পরিমাণ কতটুকু ছিল—সেটি উল্লেখ করা হয়নি।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্সব্লু’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২৫ অক্টোবর স্পেন সীমান্তের কাছের শহর লারুন থেকে পাঁচ বাংলাদেশি নাগরিককে বেআইনিভাবে ফ্রান্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করা হয়। অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক ও একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
এ ঘটনায় গাড়িচালকের বিরুদ্ধে মানবপাচারের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়। গত বৃহস্পতিবার ফ্রান্সের একটি আদালত ওই গাড়িচালকের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের স্পেন থেকে ফ্রান্সে নিয়ে যাওয়ার অপরাধে চালককে ১৪ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সাজা পাওয়া গাড়িচালক স্পেনের নাগরিক। তার আইনজীবী আদালতকে জানান, অর্থনৈতিক অবস্থা অত্যন্ত নাজুক বলেই তিনি এ কাজ করেছিলেন। পরিবারের সদস্যদের সাহায্য করতেই মাংসের বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবহনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন।
গাড়িচালক বলেন, ‘আমি স্পেনের একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার হিসেবে কাজ করি। এক দিন আমি মাংসের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সে সময় একজন গ্রাহক আমাকে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। ওই ব্যক্তি স্পেন থেকে কয়েকজন অবৈধ অভিবাসীকে ফ্রান্সে নিয়ে আসার জন্য আমার সঙ্গে চুক্তি করেন। আমি অবৈধ প্রবাসীদের ফ্রান্সে নিয়ে আসলে আমাকে পরিবহন বাবদ ওই মাংসের দোকান থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে মাংস দেওয়ার কথা জানায়। আমি পরিবারের জন্য এই বেআইনি কাজে যুক্ত হয়েছি।’
আইনজীবীরা আদালতকে জানান, মানবপাচারকারীদের অবশ্যই থামাতে হবে। কারণ তারা এমন একটি নেটওয়ার্কের অংশ, যা অবৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখেছে। তাই অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আদালতের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া উচিত।
ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম