

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২ কোটি ৮০ লাখ ৩১ হাজার ৫১৯ টাকা মূল্যমানের অবৈধ সম্পদের মালিকানার অর্জনের অভিযোগে জন্য মামলা দায়ের করেছে।
জানা যায়, গত সোমবার বিকেলে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৮০ লাখ ৩১ হাজার ৫১৯ টাকা মূল্যমানের সম্পদের মালিকানা অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপ পরিচালক আলী আকবর মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, জাকির হোসেন তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মোট ১ কোটি ৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৭১ টাকা মূল্যমানের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গোপন করেছেন।
এছাড়াও তার স্ত্রী রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলোজির নার্সিং সুপারভাইজার শেফালী বেগমের বিরুদ্ধেও একটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তার স্ত্রী শেফালী জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্জিত অর্থের উৎস ও খাতের মিথ্যা বিবরণী দেওয়ার অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়। একই অভিযোগে তার স্বামী জাকির হোসেনের বিরুদ্ধেও দুদক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। জাকির হোসেন মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের প্রাক্তন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বর্তমানে তিনি মানিকগঞ্জের একটি হাসপাতালে একই পদে কর্মরত আছেন। মৌলভীবাজার হাসপাতালে থাকাকালীন তার বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে ২০১৬ সালে তৎকালীন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধ সৈয়দ মহসীন আলী তাকে বদলী করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নার্সিং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলোজির নার্সিং সুপারভাইজার শেফালী বেগম অবৈধ উপায়ে অর্জিত জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্থ দিয়ে এক কোটি ৯৯ লাখ ৩০ হাজার ৬২ টাকা মূল্যের সম্পদের মালিক হয়েছেন।
তিনি দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মোট ৪৩ লাখ ৮০ হাজার ৫৬১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ গোপন করেছেন। এ অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলা দায়ের করে। এছাড়া জাকির হোসেন-এর আপন ভাই আমিনুল ইসলাম কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হিসাবরক্ষক (নিজ বেতনে) মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও দুর্নীতি দমন কমিশনের মাদারীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে জ্ঞাত-আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জনসহ আরও কিছু অভিযোগের জোর তদন্ত চলছে। আমিনুল ইসলাম এখানে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে জাকির হোসেন মৌলভীবাজার হাসপাতালের সমুদয় টেন্ডার বাণিজ্যসহ নানান দুর্নীতি-অনিয়ম কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।
জাকির হোসেনের মৌলভীবাজার জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতি কার্যক্রমের মাস্টারমাইন্ড হিসাবে আমিনুল ইসলাম কাজ করতেন। জাকির-আমিনুল সহোদরের মৌলভীবাজার হাসপাতাল ও সুনামগঞ্জ হাসপাতালে করা বড় বড় কিছু দুর্নীতি ও জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর তথ্য, নথি-পত্র ও প্রমাণাদি এই রিপোর্টারের হস্তগত হয়েছে।
এদিকে আমিনুল ইসলাম এ বছরের শুরুর দিকে তিনি পদোন্নতি পেয়ে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পদায়িত হলেও কয়েকদিনের ভেতরেই জাকির হোসেন তার খুঁটির জোরে কুলাউড়া উপজেলা কমপ্লেক্স খালি রেখে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে একজন নিয়মিত হিসাবরক্ষক থাকা সত্ত্বেও সংযুক্তিতে পোস্টিং করিয়ে তার ভাই আমিনুলকে নিয়ে চলে আসেন। শূন্য পদের সেই কুলাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ১জন গুরুত্বপূর্ণ অফিস স্টাফের সাথে কথা বলে জানা যায়, তিনি চলে আসায় কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিশালসংখ্যক ডাক্তার, নার্স, স্টাফদের বেতন-ভাতাসহ সামগ্রিক আয়-ব্যয় সংক্রান্ত দাপ্তরিক কাজ মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জাকির হোসেনের সাথে একাধিকবার মোঠোফোনে ঘটনা সস্পর্কে জানতে ০১৭১২১১৩৯৬৪ যোগাযোগ করলেও ফোন রিসিভ করেননি। সেই সাথে আমিনুল ইসলামকে হিসাবরক্ষক, কুলউড়া বর্তমানে মৌলভীবাজার হাসপাতালে সংযুক্তিতে কর্মরত মোঠোফোনে ০১৭১৪৩৫৮৫৫৭ বার বার যোগাযোগ করতে চাইলে পাওয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স খালি রেখে আমিনুল ইসলামকে মৌলভীবাজার হাসপাতালে পোস্টিং দেয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে সিভিল সার্জন জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, সিলেট ডিভিশনাল অফিস থেকে কুলাউড়া থেকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে হিসাবরক্ষক পদে সংযুক্তি করা হয়েছে।
ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম