শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৬ অপরাহ্ন

নতুন বড় কোনো প্রকল্প নয়: প্রধানমন্ত্রী

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২
  • ১৯৫ এই পর্যন্ত দেখেছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে মিতব্যয়ী হওয়ার পাশাপাশি অপচয় বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেছেন। একইসঙ্গে তিনি বিলাসী পণ্য সামগ্রী এড়িয়ে চলা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও তহবিলের অপব্যবহার রোধ করার আহ্বান জানান।

উন্নয়নমুখী ছোট প্রকল্প চলবে, তবে নতুন করে কোনো বড় প্রকল্প না নেওয়ার অনুশাসন দিয়েছেন দিয়েছেন তিনি। এছাড়া দেশের কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আনাচে-কানাচে- ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনাবাদী জমি চাষের আওতায় আনার নির্দেশনা দিয়েছেন শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিনি এই নির্দেশ প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান ও প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। এছাড়া পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন। একনেকে সভায় ৩ হাজার ৯৮১ কোটি ৮৯ টাকা ব্যয়ে ৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী মন্দা চলছে-তাই প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় সংশ্লিষ্ট সকলকে অপচয় বন্ধের পাশাপাশি মিতব্যয়ী হওয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন। একইসঙ্গে বিলাসী পণ্য এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। মান্নান জানান, প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের গ্রামীণ ছোট প্রকল্প বা কল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়ে আসতে বলেছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আয়েশী বা বিলাসী প্রকল্প নেওয়া যাবে না। কিন্তু আমরা গ্রামীণ ছোট প্রকল্প বা কল্যাণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে আপস করতে পারি না। এখন মেগা প্রকল্প নেওয়া যাবে না।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী একনেকের চেয়ারপার্সনও বটে। তিনি যে কোনো বড় প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বলেছেন। তিনি বলেন, দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনাবাদী জমি খুঁজে বের করতে মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সচিব যেন জেলা প্রশাসকদের সহায়তা নিয়ে এসব অনাবাদী জমি খুঁজে বের করে আবাদযোগ্য করার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমিষ ও প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা মেটাতে মুরগি, গবাদি পশু ও শাকসবজির উৎপাদন বাড়ানোর উপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কৃষি উৎপাদন বাড়াতে হবে, যাতে আমরা স্বনির্ভর হতে পারি। এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখা যাবে না।
এম এ মান্নান বলেন, আক্ষরিক অর্থে বাংলাদেশ কোভিড-১৯ থেকে বেরিয়ে এসেছে, কিন্তু আমরা এখন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রী তাই ডেঙ্গু জ্বরের প্রার্দুভাব কমাতে বাসা-বাড়ি ও অফিস-আঙিনা পরিষ্কার রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দেশবাসীকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক প্রশ্নের জবাবে মান্নান বলেন, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে সুনির্দিষ্ট কোন আলোচনা হয়নি। পৃথিবীর সকল দেশ মন্দার সম্মুখীন হচ্ছে এবং আরও একটি অর্থনৈতিক মন্দার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ছোট দেশ হওয়ায় এর প্রভাব আমাদের উপর বেশি পড়ছে।

বাংলাদেশ বর্তমান বৈশ্বিক অবস্থার শিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতি মুহূর্তে প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হচ্ছে। এর সঙ্গে সমন্বয় করে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এখনও আমরা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় রয়েছি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও অন্যান্য সংস্থা আমাদের ভাল অবস্থার পূর্বাভাস দিচ্ছে। দেশে মূল্যস্ফীতি এখন নিম্নমূখী রয়েছে, আমাদের এই অবস্থা দৃঢ়ভাবে ধরে রাখতে হবে এবং সামনের দিকে এগুতে হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, পণ্য ও সেবার দাম কিছুটা কমেছে, সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৯১ শতাংশে। অক্টোবর মাসে মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমেছে, সেপ্টেম্বর মাসে যা ছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এতে আমরা খুশি, আমাদের কথা ফলে গেছে। আমরা আশা করি, এ সংকটের সময়ে আমাদের ভোক্তারা, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ভোক্তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন।
বিদেশী বিনিয়োগ, রেমিটেন্স প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং এলসি খোলার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, দেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে কিছুটা চাপের মধ্যে রয়েছে। তবে, এটি সত্য নয় যে, আমরা বড় কোন সংকট বা কোনো বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছি। তিনি বলেন,‘ বিদেশী বিনিয়োগ, রেমিটেন্স প্রবাহ ও রপ্তানি আয়ের ক্ষেত্রে আমরা সামনের দিকে এগুচ্ছি।’ টাকার মান কমা ভালো দাবি করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম বলেন, টাকার মান ও এক্সচেঞ্জ রেট সমন্বয় করতে হবে। ডলারের সরবরাহ বাড়াতে হলে টাকার মান কমাতে হবে। রেমিট্যান্স কমেনি দাবি করে তিনি বলেন, জুলাই-অক্টোবরে সর্বশেষ ৭ দশমিক ১৯৮ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। জুলাই থেকে অক্টোবরে বেশি পেয়েছি। রেমিট্যান্স কমছে কথাটা সত্য না। এক্সপোর্ট ১৬ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন হয়েছে। গত মাসের থেকে এটা বেড়েছে। আমরা বিপদে নেই। উচ্চ মূল্যস্ফীতি সারা দুনিয়া ফেস করছে, আমরাও করছি। আইএমএফের তথ্যে দ্বিমত পোষণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইএমএফ একমত না হলে কিছু আসে যায় না। প্রথাগতভাবে সরকার রিজার্ভ রক্ষা করছে। সরকার কোথাও কিছু লুকায়নি। ৩৫ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি রিজার্ভ আছে।

৩৯৮১ কোটি টাকার ৭ প্রকল্প অনুমোদন:

একনেকে সভায় ৩ হাজার ৯৮১ কোটি ৮৯ টাকা ব্যয়ে ৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৩ হাজার ৩৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক অর্থায়ন ৩২২ কোটি ২১ লাখ টাকা ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৬৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

তিনি আরও বলেন, অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন প্রকল্প ৪টি এবং বাকি ৩টি সংশোধিত প্রকল্প। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রামের মিরসরাই ও সন্দ্বীপ, কক্সবাজারের সোনাদিয়া দ্বীপ টেকনাফ সাবরাং ও জালিয়ার দ্বীপ অংশের জোটসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ’ প্রকল্প; স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় অঞ্চল-২ ও অঞ্চল-৪ এর ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অবকাঠামোসহ অঞ্চল-২ -ও অঞ্চল-৪ এর সার্ভিস প্যাসেজগুলোর উন্নয়ন’ প্রকল্প; গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার বৈদ্যুতিক যান্ত্রিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ জন্যান্য উন্নয়ন কাজ’ প্রকল্প; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প; একই মন্ত্রণালয়ের নবীনগর-আশুগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন (জেড-২০৩১) (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প; এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের ‘দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন’ প্রকল্প।

তাছাড়া ব্যয় ঠিক রেখে মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে- গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একটি ‘খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প; স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি এবং ‘বরিশাল মেট্রোপলিটন ও খুলনা জেলা পুলিশ লাইন নির্মাণ (আন্তঃখাত সমন্বয়কৃত)’ প্রকল্প; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজ স্থাপন (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও শক্তিশালীকরণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্প।

ইউকেবিডিটিভি/ বিডি / এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102