

ড. প্রশান্ত কুমার রায়: বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব এখন অপরিসীম। জননেত্রী শেখ হসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে উন্নয়নের রোল মডেল তথা “দক্ষিণ এশিয়ার বিষ্ময়” হিসেবে উঠে এসেছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর প্রাক্কালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পা রেখেছে। এধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২০৩৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর ২৫ তম অর্থনৈতিক শক্তিশালী রাষ্ট্র যা নিশ্চিত করবে ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশ। সম্প্রতি এ গতিধারায় কিছুটা স্থবিরতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
রিজার্ভের ক্রমবর্ধমান নিম্নমুখীতা, মূল্যস্ফীতি, টাকার অবমূল্যায়ন, দারিদ্র্য হার বৃদ্ধি ইত্যাদির সাথে বৈশ্বিক খাদ্যাভাব, জ্বালানি তেল সংকট, ঋণসংকট, কোভিড অতিমারীর ন্যায় বিষয়গুলোর নেতিবাচক প্রভাবকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। এসব সাময়িক দুর্বলতাকে সামনে রেখে বলা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে যে মুহূর্তে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে জেগে উঠছে সেই মুহূর্তে এটি বৈশ্বিক রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্লে-গ্রাউন্ডে পরিণত হয়ে পড়েছে। যার মূল বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও স্বচ্ছলতা। সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে আন্তদেশীয় অর্থনৈতিক করিডোরের দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে তা সকলেরই দৃষ্টি কেড়েছে। যেমন- দেশের দক্ষিণাংশে চট্রগ্রাম, মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দর এবং ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন ভূমি-বন্দরসমূহ থেকে শুরু করে মধ্য প্রদেশ পর্যন্ত এ করিডোরের সুবিধার আওতায় আসবে।
একটু গভীরে ভাবলে বুঝা যায়, বাংলাদেশ তিন দিকেই ভারতের সীমান্ত দ্বারা ঘেরা বিধায় উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় রাজ্যগুলোর বিভিন্ন অর্থিক সংযোগ, জনযোগাযোগসহ পরিবহন সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তার জন্য ভারতের কাছে বাংলাদেশ অতিগুরুত্বপূর্ণ। একারণে ভারতের তিক্ষè দৃষ্টি রয়েছে বাংলাদেশের ক্ষমতার রদ-বদল ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিসহ ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন-রাজনীতি কৌশলের উপর। অন্যদিকে বাংলাদেশের সাথে ভারত ও মায়ানমারের সরাসরি দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে যা কৌশলগতভাবে শুধু তিন দেশ নয় বিশে^র পরাশক্তিধর দেশগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
এমনকি, ভৌগলিক কারণে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিশেষ করে আশিয়ান ও সার্কভুক্ত দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের তাৎপর্য ও গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রকৃত অর্থে বাংলাদেশ গত এক দশকে শুধু অর্থনৈতিক নয় ভূ-রাজনৈতিকভাবে অনেকটা গুরুত্বহীনতার আবেশ কাটিয়ে অতিগুরুত্বপূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে। অত্যুক্তি হবে না যে, বাংলদেশ আজ এশিয়ার ভবিষ্যৎ বিনির্মানের মূল কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিগণিত হয়ে উঠছে।
এ কারণে বাংলাদেশকে অত্যন্ত দক্ষতা ও অতি সুচতুরতার সাথে নিজের গড়েওঠা গুরুত্বকে কাজে লাগানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুবিধাসহ উন্নয়ন রথযাত্রাকে এগিয়ে নিতে হবে। সে লক্ষে বাংলাদেশকে অবশ্যই নিজস্বার্থসহ পার্শবর্তী দেশ চীন ও কোয়াডভুক্ত দেশ: ভারত, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে দ্বি-পক্ষীয় ভারসাম্য রক্ষার বিষয়ে সতর্ক ও সচেষ্ট থাকতে হবে।
দ্বিতীয়ত: বাংলাদেশ অতি সতর্কতা ও দক্ষতার সাথে সাউথ ও সাউথ-ইস্ট এশিয়াতে আঞ্চলিক সৌহার্দ্য রক্ষা ও প্রতিবেশিদের সাথে নিয়ে সম্মিলিতভাবে আঞ্চলিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা পালন করতে পারে।
আমার ধারণা, বিষয়টি অনুধাবন করেই বর্তমান সরকার করো সাথে বৈরীতা নয় বরং সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে। এখানে বলে রাখা ভাল যে, কৌশলগত বিষয় বিবেচনায় নিয়েই হয়ত বাংলাদেশ চীনের বিশেষ অর্থনৈতিক কর্মসূচি যেমন- String of Pearls এবং Maritime Silk Road মিশণে সম্পৃক্ত হয়েছে। এখানেও সাবধানতার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, কারণ ইতোমধ্যেই চীনের ঋণফাঁদ নিয়ে নানামুখী কথা যেমন চালু আছে তেমনি চীনের সাথে বন্ধুত্ব তার পশ্চিমা প্রতিদ্বন্ধী বা শত্রু বিশেষ করে প্রতিবেশী ভারত অনেকটাই নেতিবাচক কিন্তু গুরুত্বের সাথে দেখছে। তারপরও বলা যায়, এসবের ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার ফলস্বরূপ সকলের কাছে বাংলাদেশ এখন বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং তারা বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কোন্নয়নে আগ্রহী হয়ে উঠছে।
পশ্চিমা বিশ্বের বৃহৎ শক্তি আমেরিকার বিগত সময়ের প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশনীতির কারনে বাংলাদেশ ও আমেরিকার মধ্যে একটি দূরত্ব সৃষ্টি হয় এবং সাউথ এশিয়ায় তাদের প্রভাব হ্রাস পায়। বর্তমান বাইডেন সরকার বাংলাদেশ ও এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে যা আমাদের জন্য খুবই সহায়ক বলে মনে হয়। তারপরও এতদাঞ্চলে আমেরিকার ভূমিকাকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন এবং তদানুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক এবং এমন কৌশলগতভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা আবশ্যক যার মাধ্যমে আঞ্চলিক সমন্বয় ও উন্নয়নে বাংলাদেশ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধাবস্থার প্রেক্ষিতে সৃষ্ট বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বীয় স্বার্থ বজায় রাখতে পশ্চিমাদের সাথে সম্পর্ক রক্ষায় আরো বেশি মনোযোগী ও কৌশলী হওয়া আবশ্যক। সাম্প্রতিক সময়ের চতুরাষ্ট্রীয় জোট কোয়াড বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটির ভাল ও মন্দ দু’টি দিক বিবেচনায় আনতে হবে। বিশেষত: খারাপ দিকটা হচ্ছে ভারত মহাসাগরে আমেরিকার নৌশক্তি বৃদ্ধি বা প্রভাব বিস্তার। এখানে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে বৈরীতা ও প্রতিযোগীতা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে ভারত ও চীন তাদের অস্ত্র ব্যবসার ক্ষেত্রকে প্রসারিত করতে সচেষ্ট হবে বলে প্রতীয়মান হয়।সে ক্ষেত্রেও ভারসাম্য রক্ষাসহ মায়ানমারের সাথে সীমান্ত সংঘাত ও রোহিঙ্গা সমস্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে।
বাংলাদেশকে অবশ্যই নিকটতম ও বন্ধুপ্রতীম দেশ হিসেবে ভারতের সাথে তার অনিষ্পন্ন বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে সময় ও সুযোগমত নিষ্পন্নের উদ্যোগ নিতে হবে। এমনকি পাকিস্তানের সাথেও স্বাধীনতার সময়কেন্দ্রিক দেনা-পাওনা বা অনিষ্পন্ন বিষয়সহ মৌলবাদী শক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোন প্রকার মদদ বা উস্কানি থেকে বিরত থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। এখানে বলে রাখা, চীন-ভারত দ্বন্ধ বাংলাদেশের জন্য আরেকটি ইতিবাচক সুযোগ তৈরী করে দিয়েছে যা কুটনৈতিক দক্ষতার সাথে ব্যবহার করা প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বাংলাদেশকে চীন ও ভারতীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো বিশেষ করে অর্থনৈতিক সুবিধা আদায় ও তা কাজে লাগানোর বিষয়ে গভীরভাবে ভেবে দেখা প্রয়োজন। এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে- চীনা ‘ঋণ ফাঁদ’ ও ভারতের ‘বড়ভাই’ সুলভ আচরণ।
অন্যদিকে মায়ানমার ও রোহিঙ্গা সমস্যাকেও ছোট করে দেখা যাবে না। কারণ দশ লক্ষ লোকের জায়গা দেওয়া, নিরাপত্তা, খাবার সরবরাহ ইত্যাদির নিশ্চয়তা প্রদান বাংলাদেশের জন্য বিরাট একটা চ্যালেঞ্জ যার সংগে খাদ্য সংকটসহ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ জড়িয়ে আছে। এখানে বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে, যদিও কিছু পশ্চিমা দেশ খাদ্য ও অন্যান্য সাহায্য অব্যাহত রেখেছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবসনের বিষয়ে মায়ানমারের যেমন স্বদিচ্ছার অভাব তেমনি আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশেষ করে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসমূহের কোন আন্তরিক উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে স্থানীয় জনগণ প্রথম দিকে তাদের প্রতি সহানুভ’তিশীল হলেও দিন দিন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠছে। ফলে রোহিঙ্গাদের দ্বারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি শৃঙ্খলা বিনষ্টসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিরোধজনিত অশান্তি সৃষ্টির সুযোগও তৈরী হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গা নেতা মহিব উল্লাহর হত্যাকান্ডকে বিবেচনায় নেয়ার প্রয়োজনীয়তাও রয়েছে। রোহিঙ্গা সমস্যা ও সেন্টমার্টিন বিতর্ক নিয়ে মিয়ানমারের একটি সূদুরপ্রসারী পরিকল্পনাকেও খাট করে দেখা ঠিক হবে না।
এ বিষয়ে আমাদের শক্ত রাজনৈতিক কৌশল ও আন্তর্জাতিক মহলে চপসৃষ্টির কোন বিকল্প নেই। একই সাথে আঞ্চলিক বিষয়সমূহ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই সমস্যাটিকেও তুলে ধরা প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে ইউরোপিয়ান দেশগুলোকে সাথে নিয়ে এগোনো যৌক্তিক এবং তাদের সমর্থন পাওয়া যাবে বলে মনে হয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ইইউএর সহায়তা গ্রহণের পাশাপশি আর্থিক বিষয়টি মাথায় রেখে শুল্কমুক্ত পন্য রপ্তানীর সুযোগ তৈরীর পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।
সর্বশেষ, দু’টি ইস্যু- একটি ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ, ন্যাটো ও আমেরিকার পক্ষ থেকে রাশিয়ার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও রাশিয়ার পক্ষ থেকে পাল্টা নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন অতি সাম্প্রতিক সময়ের চীন-ভিয়েৎনাম উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। স্পিকার অব দ্য ইউনাইটেড ষ্টেটস হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ, ন্যান্সি পেলোসির ভিয়েতনাম ভ্রমন এ উত্তেজনাকে বৈশ্বিক দ্বন্ধের কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
এসব কিছুর নেতিবাচক ফলাফল হচ্ছে মানবিক বিপর্যয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট ও খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি ইত্যাদি যার প্রভাব থেকে বাংলাদেশও রেহাই পবে না। এসকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে তার অভ্যন্তরীন চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে, তদুপরি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানি সংগ্রহে অধিক অর্থের প্রয়োজনীয়তা থেকেই যাবে। ইউরোর দরপতনের প্রভাব হিসেবে আমাদের রপ্তানী বাজার সঙ্কুচিত হওয়ার আশংকা রয়েছে। রিজার্ভের ক্রমবর্ধমান হ্রাস ও মূল্যস্ফীতিকেও বিবেচনায় নিতে হবে।
সর্বোপরি, সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ গোষ্ঠীর মদদে বিশেষ বিশেষ জায়গায় ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে বেশ কিছু দুষ্কৃতিকারী তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের মধ্যদিয়ে সরকার ও রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বিনষ্টে সক্রিয় হয়ে উঠেছে সেটিও ভাবনায় নিয়ে এগোতে হবে।
সার্বিক বিবেচনায়, বাংলাদেশকে ভূ’-রাজনৈতিক অবস্থানগত কারণে সৃষ্ট সুযোগসমূহকে অনুকুলে রাখার মাধ্যমে আর্থিক সুযোগগুলো কাজে লাগানোর পাশাপশি চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবেলা করার জন্য সাউথ এশিয়া ও এশিয়া প্যাসিফিকসহ বিশ্বায়িত কুটকৌশলকে খুব ধীরগতিতে সুসম্পন্ন করতে হবে কারণ প্রাত্যহিকভাবে যেমন সুযোগ তৈরী হবে তেমনি নতুন নতুন সমস্যারও জন্ম হবে।
পদ্মা সেতুর কারণে যে গণ ও পরিবহন যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক করিডোর সুবিধা সৃষ্টি হয়েছে তাকে কাজে লাগিয়ে দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার লাগসই পরিকল্পনার কোন বিকল্প নেই। এসকল কারণে দেখেশুনে ও বুঝে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ ও তদানুযায়ী পদক্ষেপ নেবার কৌশলই উত্তম বলে মনে হয়।
সর্বোপরি, ২০২৪ এর জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের অভ্যন্তরীন রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণ অনুসন্ধান করা ও তা মোকাবেলার কৌশল অতিগুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে এবং এসকল সমস্যা উত্তরণেও উপরে বর্ণীত আঞ্চলিক ও বিশ্বের পরাশক্তিধর দেশের ভ’মিকাকেও বিবেচনায় রাখতে হবে- কারণ এসব স্থানীয় কুশি-লবেরা কোননা কোন বাঘ বা সিংহের লেজ নাড়ানির সাথে যুক্ত থাকে।
লেখক: ড. প্রশান্ত কুমার রায়, সাবেক সচিব ও গবেষক।