

ওসমানীনগর সংবাদদাতাঃ সিলেট জেলার ওসমানীনগরে উপজেলা বিএনপির ইফতার মাহফিল নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। নেতা-কর্মীরা দুভাগে বিভিক্ত হয়ে একই দিনে একই স্থানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করায় দু-পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানাযায়, আগামী ২১ মার্চ বুধবার উপজেলা বিএনপির ব্যানারে দুই পক্ষ পৃথক ভাবে উপজেলার দয়ামীরস্থ মাহড়া কমিউনিটি সেন্টারে স্থান নির্ধারন করে ইফতার মাহফিলের আয়োজনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উভয় পক্ষই ইফতার মাহফিলের আয়োজনের অনুমতি চেয়ে থানা পুলিশ কাছে লিখিত আবেদন করছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, দলীয় ইফতার মাহফিলে উপস্থিতির সংখ্যা বাড়ানোর জন্য গত এক সপ্তাহ ধরে দিন রাত উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে বিএনপি অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দাওয়াত প্রদান করে যাচ্ছেন উভয় পক্ষের সিনিয়র নেতারা। একই দিনে এক স্থানে পৃথক ইফতারের আয়োজনে নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও দুই পক্ষের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইফতার মাহফিল নিয়ে যেকোনো সময় রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশংঙ্কা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
জানা যায়,গত ২৮ ফেব্রæয়ারি উপজেলার দয়ামীর বাজারে উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিলের পর পদ বঞ্চিত নেতারা অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে দলীয় কমিটি গঠন করার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করেন। ফলে উপজেলা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। সম্প্রতি উপজেলা বিএনপির একটি পক্ষের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল সম্পন্ন হয়ছে। দলীয় কোন্দোলে সেই ইফতারে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকলে আবারও সেই পক্ষ ইফতারের আয়োজন করায় দলীয় কোন্দোল এবার সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আশংখা করছেন উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা কর্মীরা।
উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দ এনামুল হক এনাম পীর বলেন,অনিয়মতান্ত্রিক ভাবে কমিটি ঘঠনের মাধ্যমে উপজেলা বিএনপিকে ধংশ করার পায়তারায় লিপ্ত রয়েছে গুটি কয়েকে নেতা। অনিয়মের মাধ্যমে গঠিত কমিটি নিয়ে আমরা আদালতের সরণাপন্ন হলে আতাদালত বিষয়টি আমলে নিয়েছেন। লিখিত ভাবে থানা পুলিশকে অবগত করে উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ৮ ইউনিয়নের তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে আগামী বুধবার মাহাড়া কমিউনিটি সেন্টারে পূর্ব ঘোষনা অনুয়ায়ী ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজিত ইফতার মাহফিল বাতিল করতে বিএনপির নামধারী চাটুকার গুটি কয়েক নেতা একই দিনে ইফতারের আয়োজন করে বিএনপির ঘাটি খ্যাত ওসমানীনগরে দল ও অঙ্গ সংগঠনকে নিশ্চিহ্ন করতে যাচ্ছে।
সাবেক উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সৈয়দ এনায়েত হোসেন বলেন, আওয়ামীলীগের সাথে আতাঁতকারী উপজেলা চেয়ারম্যান ময়নূল হকের প্রত্যাক্ষ ও পরোক্ষ্য ইন্দনে শহিদ জিয়ার আদর্শ ও দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি কার্যক্রমের মাধ্যমে মনগড়া কমিটির গঠনের মাধ্যমে চাটুকার নেতারা তাদের নিজস্ব বলয়কে শক্তিশালি করতে চাচ্ছেন। উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা তা প্রত্যাখান করে তাদেরকে বয়কট করছে। আমরা পূর্ব নির্ধারিত ঘোষনা অনুযায়ী বুধবার ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে দলের স্বাথে তাদেরকেও দাওয়াত দিয়েছি। কিন্তু তারা উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে একই দিনে পাল্টা ইফতার মাহফিলের আয়োজন করতে যাচ্ছে।বিষয়টি আমরা স্থানীয় প্রশাসন সহ দলের হাইকমান্ডকে অবগত করেছি।
অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত উপজেলা বিএনপির নবগঠিত কমিটির সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দিন বলেন, ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির একটাই কমিটি রয়েছে। আর সেই কমিটির সভাপতিও আমি। ২০ এপ্রিল উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এই বিষয়ে আমি প্রশাসনকে লিখিত ভাবে অবহিত করেছি। আর যদি একই দিনে অন্যকেউ একই স্থানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে থাকেন সেই বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই।
এই বিষয়ে দয়ামীরস্থ মাহাড়া কমিউিনিটি সেন্টারের মালিক ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রথমে এক পক্ষ ইফতার পার্টির কথা বলে আমাদের কমিনিটি সেন্টার বুকিং নেয়। আরে বিএনপির কথা বলে আরেক পক্ষও বুকিং নেয়। দুই পক্ষই উপজেলা বিএনপির কথা জানিয়েছে। আমরা তো ভেবেছি তারা একই দলের। কিন্তু এখন জানতে পারছি উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দরা দুইভাগে ভাগ হয়ে পৃথক পৃথক আয়োজনের প্রস্তুতি চালাচ্ছেন। ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম মাইন উদ্দিন বলেন, উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পৃথক ভাবে একই স্থানে ইফতার মাহফিলের আয়োজনের অনুমতি চেয়ে আলাদা আলাদা লিখিত আবেদন থানায় প্রেরন করেছেন। একই স্থানে একই সময়ে দুটি গ্রæপের পৃথক পৃথক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হলে তাদের মধ্যে সংঘর্ষের আশংঙ্খা থাকায় ইউএনও স্যারের সাথে আলোচনা করে এই বিষয়ে দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নীলিমা রায়হানা বলেন,উপজেলা বিএনপির দুটি গ্রæপ একই দিনে একই স্থানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করছে বিষয়টি আমি শুনেছি। বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনিক ভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি চলামান রয়েছে।