

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নতুন নয়টি উপসর্গ যোগ করার মাধ্যমে কোভিড উপসর্গের আনুষ্ঠানিক তালিকা আরো বড় করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা তাদের হালনাগাদ করা নির্দেশিকায় নতুন উপসর্গ হিসেবে গলা ব্যথা, মাংসপেশির ব্যথা ও ডায়রিয়ার উল্লেখ করেছে।
মঙ্গলবার বিবিসি এ খবর জানিয়েছে। মহামারী দেখা দেয়ার দুই বছর পর এ উদ্যোগ নিলো সংস্থাটি। ক’দিন আগেই যুক্তরাজ্যে বিনামূল্যে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়া হয়।
তবে এনএইচএস সতর্ক করে দিয়ে বলছে, নতুন উপসর্গের অনেকগুলোই ঠাণ্ডা ও ফ্লুর উপসর্গের সাথে ‘একেবারে মিলে যায়’।
যুক্তরাজ্যে স্বীকৃত কোভিডের প্রাথমিক উপসর্গগুলো হচ্ছে, জ্বর, টানা কাশি, ঘ্রাণ ও স্বাদের লোপ।
মহামারীর প্রথম থেকেই একথা জানা যে, এ তিনটি হচ্ছে করোনা ভাইরাসের একেবারেই প্রাথমিক উপসর্গ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের উপসর্গের তালিকা আরো দীর্ঘ।
যাই হোক, কারো করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করে দেখার জন্য আরো কোন উপসর্গ বিবেচনা করা হবে কি না, তা নিয়ে যুক্তরাজ্যে বিতর্ক রয়েছে।
মাথাব্যথাকে কোভিডের একটি উপসর্গ বলে মনে করা হয়। কিন্তু মাথাব্যথার কারণে নিশ্চয়ই সবার করোনা ভাইরাস পরীক্ষা করে দেখা হবে না। কারণ, আরো নানা কারণে মাথাব্যথা হতে পারে।
জ্বর, কাশি এবং গন্ধ ও স্বাদহীনতা উপসর্গ হিসেবে চূড়ান্ত। কারণ, বেশিরভাগ কোভিড রোগীরই এ উপসর্গ থাকে। কিন্তু এখন উপসর্গের তালিকায় যোগ করা হয়েছে আরও নয়টি। সেগুলো হলো, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা বা ক্লান্তি অনুভব করা, গা ব্যথা, মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা, সর্দি অথবা নাক বন্ধ, ক্ষুধামন্দা, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব অথবা বমি হওয়া।
যুক্তরাজ্যে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে রেকর্ড হয়েছে। দেশটির ৪৯ লাখ মানুষ করোনা ভাইরাস পজিটিভ হয়েছেন। গত সপ্তাহেই ইংল্যান্ডের বেশিরভাগ মানুষের জন্য বিনামূল্যে পরীক্ষার সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এনএইচএস বলছে, যাদের কোভিড উপসর্গ আছে এবং জ্বর আছে, কিংবা এমন কোন উপসর্গ আছে যার কারণে কাজে যাওয়ার পরিস্থিতি নেই, তাদের বাড়িতে থাকা উচিত।
কিংস কলেজ লন্ডনের প্রফেসর টিম স্পেকটর উপসর্গের তালিকা দীর্ঘ করার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তিনি বলছেন, ‘দুই বছরের তদবিরের পর অবশ্য করোনা ভাইরাসের প্রধান উপসর্গের তালিকা পরিবর্তন হলো!