সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন

২৫ মার্চকে বিশ্ব গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির দাবি: নানা কর্মসূচিতে ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৫ মার্চ, ২০২২
  • ২৩৩ এই পর্যন্ত দেখেছেন

স্টাফ রিপোর্টার: আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও গণহত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করারা দাবিতে ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত হয়েছে। একই সাথে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভা-সেমিনারে পাকিস্তানকে বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়া ও ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এদিন ২৫ মার্চকে বিশ্ব গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গতকাল শুক্রবার ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশ গণহত্যা’ শীর্ষক সেমিনারে মন্ত্রী এ দাবি জানান।
আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আমাদের জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই দিবসটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য চেষ্টা চলছে। সেখানে সারা বিশ্বে এখন গণহত্যা দিবস পালন করা হয় ৯ ডিসেম্বর। অথচ ওই দিন এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, যা আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হতে পারে। তিনি বলেন, আমাদের দাবি হচ্ছে, ৯ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২৫ মার্চকে বিশ্ব গণহত্যা দিবস হিসেবে পালন করা হোক। কারণ ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে যে হত্যাকাণ্ড হয়েছে, এক রাতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এত ব্যাপকসংখ্যক মানুষ আর কোথাও হত্যা করা হয়নি। এ জন্য এটা গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারে। তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশি রাষ্ট্রদূতের মাধ্যমে জনমত গঠনের জন্য সরকার চেষ্টা করছে। একটা দিবস পালিত হচ্ছে, এটা পরিবর্তন করতে হলে জাতিসংঘে ভোটের প্রয়োজন। সেই জন্য সমস্যা হচ্ছে। অনেকে প্রশ্ন করছে, জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে, এখন কার্যকর হচ্ছে না। আমাদের সরকার অব্যাহতভাবে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তান যে বর্বর গণহত্যা চালিয়েছে তার স্বীকৃতির জন্য। এরই মধ্যে শুভ লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, কিছু কিছু সংস্থা ২৫ মার্চের গণহত্যা সম্পর্কে কথা বলছে। তবে এর ভয়াবহতা প্রত্যাশা অনুসারে বলছে না। আশা করি ভবিষ্যতে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাব।
পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতেই হবে : সম্প্রীতি বাংলাদেশ আয়োজিত আলোচনা সভায় শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, ১৯৭১ সালে গণহত্যা চালানোর জন্য পাকিস্তানকে ক্ষমা চাইতে হবে। এটা এখন স্বতসিদ্ধ ও প্রমাণিত। এখানে ম্যাসাকার হয়েছে, গণহত্যা হয়েছে। বাংলাদেশের ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘৭১ এর গণহত্যা ও পাকিস্তানের বর্বরতা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহ্বায়ক পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যয়। ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলেও তিনি জানান। সভায় আরো বক্তব্যে রাখেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত, লে. কর্নেল (অব.) সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লেখক কর্নেল (অব.) তৌফিকুর রহমান, শহীদ সন্তান নট কিশোর আদিত্য এবং সম্প্রীতি বাংলাদেশের সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল। আলোচনায় অংশ নিয়ে শিল্পমন্ত্রী স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে থাকার কারণেই হয়তো বেঁচে গিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সে সময় তারা হত্যা করতে পারেনি কারণ, ইন্টারন্যাশনাল যে চাপ ছিল তাতে তাদের স্বীকার করতে হয়েছে বঙ্গবন্ধু সেখানে আছেন। তারা যেহেতু বলেছে, সেখানে আছেন, তখন তাদের উল্টো দায়িত্ব হয়ে যায়, বঙ্গবন্ধুকে বাঁচানো। আমার বিশ্বাস, বঙ্গবন্ধু এ দেশে থাকলে তাকে মেরে ফেলত। কিন্তু যেহেতু তিনি তাদের কাছে ছিলেন সবাই জানে, সারা বিশ্ব জানে তিনি পাকিস্তান কারাগারে আছেন। এ জন্য আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয় তিনি বেঁচে গেছেন। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে হত্যাসহ তাঁর পরিবারের ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার কথা তুলে ধরেন সংসদ সদস্য আরমা দত্ত। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। ২০১৭ সাল থেকে জাতীয় সংসদে ২৫ মার্চকে স্বীকৃতির দেওয়ার কথা হয়েছে। সারা দেশের দাবি ‘২৫ মার্চ আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ পালন করা হোক।
যাত্রাবাড়ি মোমবাতি প্রজ্বালন: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে মোমবাতি প্রজ্বালন করেছে ঢাকা-৫ আসনের প্রয়াত এমপি হাবিবুর রহমান মোল্লা পরিবার। ১৯৭১ সালে এই পরিবারের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল অলি যুদ্ধরত অবস্থায় দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় মাতুয়াইলের কাঠের পুলে নিজ বাড়িতে ৬৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর বীরমুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মাসুদুর রহমান মোল্লা বাবুল, ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মোল্লা সজলসহ শহীদ কর্ণেল অলি’র পরিবারের সদস্যরা এই আয়োজন করেন। পরে এলাকার গরীব ও দুস্থ মানুষের মাঝে খিচুরি বিতরণ করেন। একই সময় ২৫ মার্চ রাতের বীভৎস হত্যাকাণ্ডে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাত্রিতে ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নামে পাক হানাদার বাহিনী বাংলাদেশের হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করে। মেতে ওঠে ইতিহাসের নৃশংসতম গণহত্যায়, যা কালরাত হিসেবে পরিচিত। ২৫ মার্চকে জাতীয় গণহত্যা দিবস পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয় জাতীয় সংসদে ২০১৭ সালের ১১ মার্চ। ওই দিন থেকেই দিনটি জাতীয় গণহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102