বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০৯ অপরাহ্ন

হাঁটু প্রতিস্থাপন কীভাবে করতে হয়?

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
  • ২২৬ এই পর্যন্ত দেখেছেন

ইউকেবিডি ডেস্ক: দুর্ঘটনায় কিংবা হাড় ক্ষয় হয়ে গিয়ে অনেকের হাঁটু অকার্যকর হয়ে পড়ে। এসব রোগীর দুঃশ্চিন্তার শেষ নেই। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের কল্যাণে হাঁটু প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা রয়েছে।  এখন অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাঁটু প্রতিস্থাপন করা যাচ্ছে সহজেই।  এসব রোগী অনায়াসে ৩০-৩৫ বছর কৃত্রিম হাঁটু নিয়ে চলাফেলা করতে পারেন অনায়াসে।

হাঁটু প্রতিস্থাপন করার উপায় নিয়ে যুগান্তরকে বিস্তারিত জানিয়েছেন অর্থোপেডিক ও অর্থোপ্লাস্টি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এম আমজাদ হোসেন। 

অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ডিভাইস বসিয়ে দেওয়াই হচ্ছে হাঁটু প্রতিস্থাপন। অকার্যকর নি বা হাঁটু সার্জারির মাধ্যমে অস্ত্রোপচার করে ধাতব বা প্লাস্টিকের কৃত্রিম হাঁটু স্থাপনকে নি রিপ্লেসমেন্ট বলে। বিশ্বের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি হাঁটু প্রতিস্থাপন এখন অনেক কম খরচে বাংলাদেশেই হচ্ছে।

সাধারণত ট্রমাটিক নি, জয়েন্ট ডেস্ট্রাকশন, জয়েন্ট স্টিফনেস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিও আর্থ্রাইটিসের চূড়ান্ত পর্যায় ইত্যাদি নানা কারণে হাঁটু অকার্যকর হয়ে গেলে রোগীর বয়স ও জীবনযাপন প্রণালী পর্যালোচনা করে হাঁটু প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
লাইফস্টাইলে পরিবর্তন আসায় দিন দিন কার্যক্ষমতা কমে যাচ্ছে মানুষের। বিশেষ করে কায়িক পরিশ্রম না করা ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনব্যবস্থা মানুষকে খুব অলস করে দিচ্ছে। দেহ ভারি হয়ে কোমর ও হাঁটুর জয়েন্ট নষ্ট করে অসহনীয় অবস্থা তৈরি হচ্ছে।

হাড় ক্ষয়, হাড়ের টিউমার, অস্থিতে রক্ত সঞ্চালন বন্ধসহ অন্যান্য অসুখ হলে কোমর বা হাঁটুতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। তখন হাঁটাচলা বন্ধ হয়ে যায় এবং অন্যান্য চিকিৎসা দিয়েও রোগীকে সুস্থ করে তোলা যায় না। চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ হাঁটু প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন।

সাধারণত ষাটোর্ধ্ব রোগীদের এটা বেশি করা হলেও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উন্নত ও দীর্ঘমেয়াদি কৃত্রিম অস্থিসন্ধি ব্যবহার করে অল্পবয়সী রোগীদেরও হাঁটু প্রতিস্থাপন হচ্ছে।

মানবদেহের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে যুক্তরাষ্ট্র, জাপানে টাইটেনিয়াম ইমপ্লান্ট (এক ধরনের মেটাল দিয়ে কৃত্রিম জয়েন্ট তৈরি) করা হয়। মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টার এই অস্ত্রোপচারের পর এক বা দুদিন রোগীকে হাসপাতালে থাকতে হয়। এরপরই উঠে বসা, হাঁটাচলা, ব্যায়াম, সিঁড়ি ভাঙাসহ সব ধরনের স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারে। 

এতে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। চিকিৎসার পর রোগী ২০ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন তেমন কোনো সমস্যা ছাড়াই। 
কৃত্রিম জয়েন্ট প্রতিস্থাপনের পর খেলোয়াড়রাও তাদের খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারেন।

সাধারণত হাঁটু প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার নিরাপদ। অন্যান্য অস্ত্রোপচারের মতো এতে কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। এ জন্য পায়ের শিরায় রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে বিশেষ কমপ্রেশন ডিভাইস যেমন- হাঁটু পর্যন্ত লম্বা ইলাস্টিক মোজা এবং ব্যায়ামের পরামর্শসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। 

অনেক সময় শারীরিক আসন নতুন প্রতিস্থাপিত অস্থিসন্ধি থেকে কৃত্রিম অংশকে ছুটিয়ে দিতে পারে। এজন্য রোগীর অস্ত্রোপচারের পর কখনোই কোমর সন্ধি বা হিপ জয়েন্টকে ১০০ ডিগ্রির বেশি বাঁকানো এবং পা দুটোকে শরীরের মাঝামাঝি বরাবর ভাঁজ করা ঠিক হবে না।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102