মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ন

জালিয়াতি-প্রতারণা রোধ করা যাচ্ছে না কেন?

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
  • ২৬৩ এই পর্যন্ত দেখেছেন

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী: দেশের সব সচেতন মহল সম্যক অবগত আছে, দেশব্যাপী নানামুখী কুৎসিত প্রতারণা-জালিয়াতি-মিথ্যাচার-অরাজকতা-সর্বত্রই দুর্ভেদ্য প্রাচীর তৈরি করে চলছে।

জনগণ এতে ভীষণ বিভ্রান্ত ও আতঙ্কগ্রস্ত। সর্বনিু থেকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান-ব্যাংক-বিমা-পুঁজিবাজার-আবাসন প্রকল্প-জমিজমা-সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পদ-পদায়ন, ভর্তি-নিয়োগ-টেন্ডার বাণিজ্যসহ এমন কোনো কর্মযজ্ঞ নেই যেখানে অধিকাংশ সংস্থা-জনগোষ্ঠী কোনো না কোনোভাবে প্রতারণা-জালিয়াতির শিকার হচ্ছে।

অনেক ক্ষেত্রে সর্বস্ব হারিয়ে, মান-মর্যাদা সুরক্ষায় প্রায় দেউলিয়ার মুখোমুখি বিপর্যস্ত মানুষ। যদিও জনশ্রুতি ও বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক গণমাধ্যম সূত্র থেকে এসব প্রতারক-জালিয়াত চক্রের পৃষ্ঠপোষকদের পরিচিতি নিজ নিজ অঞ্চলে কমবেশি সবারই জানা, তবু অদৃশ্য কারণে এদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ যেন সুদূরপরাহত।

এই চিহ্নিত অপরাধীরা ছলচাতুরী-অভিনয়শৈলী-লবিং-তদবির বাণিজ্য-অর্থলিপ্সু অনৈতিক লেনদেনে ব্যতিব্যস্ত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখে দেশকে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখার বিষয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট সংস্থার পক্ষ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি-লোকবল-অর্থ বা আনুষঙ্গিক বিভিন্ন সংকটের অজুহাতে পর্যাপ্ত অভিযান পরিচালনা ও অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা দুরূহ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবুও র‌্যাব ও পুলিশ সংস্থার পক্ষ থেকে মাদক-অস্ত্র-সন্ত্রাস-জঙ্গি-অর্থ পাচার-নিত্যনৈমিত্তিক ভূমি-সম্পদ দখল বা সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পরিচালিত বিভিন্ন উদ্যোগ প্রশংসিত। গত ২৯ জানুয়ারি গণমাধ্যম সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ব্যাংকিং সেক্টরে অনলাইনের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে জালিয়াতি ও প্রতারণার ব্যাপকতাও বাড়ছে। কতিপয় ব্যাংক কর্মকর্তা ও জালিয়াত চক্রের হোতাদের কারসাজিতে এমন সব ঘটনা ব্যাপৃত হচ্ছে, যা ইতঃপূর্বে কখনো কল্পনাও করা যায়নি। দেশব্যাপী ডিজিটাল, অ্যানালগসহ নানা প্রতারণার বেড়াজালে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অনেকে বিপর্যস্ত— হচ্ছেন। প্রতারণার বহুমাত্রিকতায় সব স্থানে নিরাপদে থাকা দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেসবুক, ইউটিউবসহ ডিজিটাল দুনিয়ার বৃহৎ অংশজুড়েই ওতপেতে আছে নানামুখী প্রতারণার ফাঁদ। ডিজিটাল প্রতারণার পর্বতসম অভিযোগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে।

দেশে ডিজিটাল প্রতারণার ঘটনাগুলোর বেশির ভাগই হচ্ছে মোবাইল ফোনে অর্থ লেনদেনের প্ল্যাটফরমকেন্দ্রিক। কখনো সুপরিচিত কোনো নারীর ফেসবুক প্রোফাইল থেকে ছবি নিয়ে ফেক আইডি খুলে তাতে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত-খ্যাতিমান ব্যক্তি বা তারকাদের নিয়ে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে আপত্তিকর ও বানোয়াট ভিডিও বানিয়ে ফেসবুক বা ইউটিউবে ছেড়ে দাবি করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের থানাগুলোতে লিপিবদ্ধ মামলা-জিডি ও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত প্রতারণার খবরের সূত্র থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে নানা রকমের অন্তত ২০০ প্রতারক সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের কাছে প্রতিদিন সহস্রাধিক লোক প্রতারিত হচ্ছেন। গণমাধ্যমে অনুসন্ধানের পরিপ্রেক্ষিতে বেরিয়ে আসা প্রতারণার চিত্র দেশবাসীকে রীতিমতো হতবাক করেছে। সন্তান প্রসব থেকে শুরু করে শিক্ষা-চিকিৎসা-চাকরি-বিয়ে, এমনকি মৃত্যুর পর লাশ দাফনের ক্ষেত্রেও প্রতারণার শিকার হচ্ছে মানুষ। জনশ্রুতিমতে, ভুয়া সাংবাদিক হিসাবে পরিচয় দিয়েও অনেকে প্রতারণা করছে।

বর্তমানে দেশে নারী অপরাধী সিন্ডিকেট সর্বাপেক্ষা আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরা বিভিন্নভাবে ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে এবং নিয়মিত ব্ল্যাকমেইলিং করে চাহিদামাফিক সবকিছু হাতিয়ে নিচ্ছে। নারীসম্পৃক্ত নানা অপরাধ সংঘটন-প্রলোভনে নতুন কৌশলে অপহরণ-মুক্তিপণ আদায় ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটাচ্ছে দুর্ধর্ষ নারী অপরাধী চক্র। কখনো কখনো গায়ে পড়ে কারও সঙ্গে বিবাদ সৃষ্টি, ‘কু’ প্রস্তাব দেওয়ার মিথ্যা অভিযোগে পথেঘাটে টার্গেট ব্যক্তিকে জিম্মি করে টাকা আদায় করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করে উত্তেজক কথা বলে, লোভ দেখিয়ে ঘরোয়া পার্টির আয়োজন করে টার্গেট করা ব্যক্তিদের নেশার জালে ফেলে বিবস্ত্র করে গোপন ক্যামেরায় ছবি তুলে বা ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলিং করা হয়। এসব দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগে প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে হাতিয়ে নেওয়া হয় বিপুল অঙ্কের অর্থ।

বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতারণার সংবাদ পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রতারকদের নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত শিক্ষিত-অশিক্ষত অনেকেই কুপোকাত হচ্ছেন। সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার চাকরিজীবীরাও এদের কদর্য প্রতারণার শিকার। ভুক্তভোগীরা প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হলে তা জনসমক্ষে উন্মোচিত হয়।

অতিসম্প্রতি ট্রান্সজেন্ডার নারীকে যৌন নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তিনজনকে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) কর্তৃক গ্রেফতারের পর জানা যায়, তারা নিজেদের সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্নজনের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলার পর কৌশলে আপত্তিকর ছবি/ভিডিও ধারণ করে ভিকটিমদের ব্ল্যাকমেইলিং করে আসছিল। এছাড়া অনলাইনেও তারা ভিকটিমদের প্রতরণার মাধ্যমে ফাঁদে ফেলত।

গত ১২ জানুয়ারি গণমাধ্যম সূত্রমতে, ৭ বিদেশি নাগরিকসহ সংঘবদ্ধ আন্তর্জাতিক প্রতারক চক্র দীর্ঘদিন ধরে অভিনব কায়দায় বিপরীত লিঙ্গের ব্যক্তিদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দ্বারা নিজেদের পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশের নাগরিক পরিচয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে দামি উপহার দেওয়ার প্রলোভনে এবং ক্ষেত্রবিশেষে মানুষকে আকৃষ্ট করতে ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার নাম-ঠিকানায় ছোট ছোট উপহার পাঠিয়ে বিশ্বাস স্থাপনের একপর্যায়ে দামি পার্সেল পাঠানোর নামে প্রতারণা করে যাচ্ছে। গত ১১ জানুয়ারি ওই চক্রের ছয়জন নাইজেরিয়ান, একজন দক্ষিণ আফ্রিকার ও দুজন দেশীয় প্রতারককে র‌্যাব গ্রেফতারের পর নানামুখী প্রতারণার ঘটনা প্রকাশিত হয়। তারা বাংলাদেশের কাস্টমস অফিসার পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীদের ফোন করে বলে, তার নামে বিমানবন্দরে একটি পার্সেল এসেছে, যেটি ডেলিভারি করতে কাস্টমস চার্জ বাবদ মোটা অঙ্কের টাকা বিকাশ/ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরে পরিশোধ করতে বলা হয়। অতিরিক্ত চার্জ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে পার্সেলে মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী রয়েছে বিধায় পার্সেল চার্জ বেশি হয়েছে বলে বোঝানো হয়। তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে চাইলে প্রতারকরা এসএমএস মারফত জানায় যে, ওই মুহূর্তে তারা বিদেশে বা জরুরি মিটিংয়ে আছেন। এভাবে দেশের সহজসরল মানুষ মিথ্যা পার্সেল ডেলিভারি চার্জসংশ্লিষ্ট বিকাশ/ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে প্রতারিত হয়ে আসছে।

র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়েদের নামে ভুয়া আইডি খুলে বিভিন্ন প্রোফাইল ঘেঁটে বড় বড় ব্যবসায়ী, হাই লেভেলের চাকরিজীবীসহ উচ্চবিত্ত মানুষকে ভিকটিম হিসাবে টার্গেট করে থাকে। ভিকটিম নির্ধারণ করার পর তাদের ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে। নিজেকে পশ্চিমা বিশ্বের উন্নত দেশের সামরিক বাহিনী ও পুলিশবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের জন্য বিভিন্ন সময় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ভুয়া ছবি পাঠায়। তিনি আরও জানান, বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পর প্রতারকরা জানায় তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রা রয়েছে, কিন্তু তা তারা খরচ করতে বা নিজেদের দেশে নিতে পারছে না।

প্রতারকরা সেই ডলার বা বৈদেশিক মুদ্রা ভিকটিমদের কাছে পাঠাতে চায় এবং বলে ‘তোমার কাছে রেখে দিও, পরবর্তী সময়ে আমি নেব।’ চাকরিজীবীদের বলে তাদের দিয়ে জনকল্যাণমূলক কাজে প্রচুর অর্থ ব্যয় করবে এবং এতে তারা একটি নির্দিষ্ট হারে কমিশন পাবেন। আর যারা ব্যবসায়ী তাদের বোঝায় তার ব্যবসায় অর্থ লগ্নি করবে এবং সে ৩৫-৪৫ শতাংশ কমিশন পাবে। মানুষ তাদের কথায় বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়।

৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ গণমাধ্যমের সূত্র অনুসারে, করোনা মহামারির চরম সংকটকালেও বেশকিছু অসাধু প্রতারক চক্র কোভিড-১৯ ইস্যুকে কাজে লাগিয়ে অর্থ উপার্জন ও বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল ইনফরমেশন হাতিয়ে নিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

দেশে-বিদেশে ছোট-বড় নানা ক্ষেত্রে এমন তৎপরতা চোখে পড়েছে।

সম্প্রতি একটি মোবাইল নম্বর থেকে এমন এসএমএস প্রেরণের মাধ্যমে জনৈক ব্যক্তিকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার অপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রথমেই নির্ধারিত ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে শর্ট মেসেজ সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে খুদে বার্তা, যেখানে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত জাতিসংঘের কোভিড-১৯ প্রণোদনা কার্যক্রমের অধীনে ৭৫০ মার্কিন ডলার অনুদান প্রাপ্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ওই ব্যক্তিকে একটি ইমেইল ঠিকানায় ই-মেইল প্রেরণের মাধ্যমে ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান করতে বলা হয়।

গত বছর দেশে প্রতারণার নতুন প্রকরণে যুক্ত হয়েছিল করোনায় গৃহবন্দি মানুষের কথিত জনপ্রিয় অনলাইনভিত্তিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বহুমাত্রিক প্রতারণা। আইন ও ই-কমার্স বিশ্লেষকদের মতে, প্রতারকরা শাস্তি না পাওয়ায় দিনদিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। বিভিন্ন সূত্রমতে, এখন পর্যন্ত ই-কমার্সের নামে সাধারণ মানুষের প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিকট অতীতে এক প্রতারক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-ইচ্ছুক শতাধিক শিক্ষার্থীর সরলতা-দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গ্যারান্টি সহকারে পরীক্ষার প্রশ্ন পাইয়ে দেওয়া ও ফল পরিবর্তন করার লোভ দেখিয়ে প্রতারিত করেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কোনো প্রশ্নপত্র বা ফল পরিবর্তন করে না দিয়ে সেই সুযোগে ফেসবুক মেসেঞ্জারে চ্যাটিং করে কৌশলে মোবাইল নম্বর নিয়ে নানা তথ্য-পরামর্শ-উপদেশ দিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে।

শিক্ষার্থীদের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে খোলামেলাভাবে ভিডিও কলে আসার অনুরোধ জানায়।

ভিডিও কল চলাকালে স্ক্রিন রেকর্ডার দিয়ে সেই দৃশ্য ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভার্চুয়াল সেক্স ও টাকা আদায় করা হতো। এছাড়াও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করা মানবিক ছবি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে পাঠিয়ে টাকা আদায় করা হতো।

এখানে জালিয়াতি-প্রতারণার কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হলেও এর চেয়ে অনেক বেশি ঘটনা অগোচরে রয়ে গেছে।

কঠোর আইনি প্রক্রিয়ায় চিহ্নিত অপরাধীদের দুর্বৃত্তায়ন দমন করতে রাষ্ট্র ব্যর্থ হলে অদূর ভবিষ্যতে অনুমেয় চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা দুরূহ হয়ে পড়বে এবং জাতিকে এজন্য চরম মূল্য দিতে হতে পারে।

লেখক: ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী : শিক্ষাবিদ; সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102