সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৯ অপরাহ্ন

জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা নির্মূলে সরকার ও নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে ঘাতক দালাল নিমূর্ল কমিটির ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২২
  • ২৪৯ এই পর্যন্ত দেখেছেন

ডেস্ক রিপোর্টঃ একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে এক আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সম্মেলনের অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি লেখক সাংবাদিক প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা শাহরিয়ার কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে আলোচ্য ̈ বিষয় ছিল: ‘জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা প্রতিরোধে সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয়’। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযাদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি।
সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান করেন ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউটের সাম্মানিক সভাপতি নাট্যজন বীর মুক্তিযাদ্ধা রামেন্দু মজুমদার, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. ফওজিয়া মোসলেম, নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শিক্ষাবিদ শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, গ্রাম থিয়েটারের সভাপতি চলচ্চিত্রনির্মাতা নাট্য ব্যাক্তিত্ব বীর মুক্তিযাদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ, প্রজন্ম ’৭১-র সভাপতি শহীদসন্তান আসিফ মুনীর তন্ময়, সর্ব ইউরোপীয় নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক যুক্তরাজ্যের মানবাধিকারকর্মী আনসার আহমদ উল্লাহ, নিমূর্ল কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা অনলাইন এক্টিভিষ্ট লীনা পারভিন, নির্মূল কমিটির নিউইয়র্ক শাখার সাধারণ সম্পাদক মানবাধিকারকর্মী স্বীকৃতি বড়ুয়া, টুয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি ফোরাম ফর হিউমিনিটি এর সাধারণ সম্পাদক লেখক ও চলচ্চিত্রনির্মাতা শাকিল রেজা ইফতি, নির্মূল কমিটির বহুভাষিক সাময়িকী ‘জাগরণ’-এর হিন্দি বিভাগের সম্পাদক ভারতের সমাজকর্মী তাপস দাস, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কাজী মুকুল এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির প্রারম্ভিক বক্তব্যে লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘’৭১-এর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পাশাপাশি জঙ্গীবাদ,মৌলবাদ ও সাম্পধদায়িকতা নির্মূল করে মুক্তিযাদ্ধের চেতনায় দেশ ও জাতিগঠনের অঙ্গীকার নিয়ে আমাদের আন্দোলন যাত্রা শুরু হয়েছিল আজ থেকে ৩০ বছর আগে। দীর্ঘ তিন দশকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আরম্ভের মাধ্যমে আন্দোলনের প্রাথমিক বিজয় অজির্ত হলেও বাংলাদেশ থেকে আমরা মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা নির্মূল করতে পারিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর সহযোদ্ধারা বাংলাদেশের মূল সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্টধ ও সমাজ গঠনের প্রত্যয় ঘোষণার মাধ্যমে যে দিক নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন, ৩০ লক্ষ শহীদ যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সেখান থেকে আমরা বহু দূরে সরে গিয়েছি। রাজনীতি, প্রশাসন, সমাজ, সংস্তিকৃতি, শিক্ষা সর্বত্র মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিস্তার ঘটেছে। শুধু বাংলাদেশে নয়, বর্তমান বিশ্বে যেভাবে দক্ষিণপন্থার উত্থান ঘটছে ধর্মনিরপেক্ষ মানবতা ও উদারনৈতিকতার জমিন সর্বত্র ক্রমশ সংকুচিত হচ্ছে।’

শাহরিয়ার কবির আরও বলেন, ‘উপমহাদেশের দেশসমূহে মৌলবাদ ও সাম্পধদায়িকতার উত্থান কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এক দেশে এর বিস্তার ঘটলে অন্য দেশেও তার অভিঘাত ঘটে। যে কারণে আমরা দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিক আন্দোলনসমূহের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। ’৭১-এর গণহত্যার স্বীকৃতি অর্জনের পাশাপাশি ধর্ম ও জাতিসত্তার নামে বিভিন্ন দেশে চলমান গণহত্যা, গৃহযুদ্ধ ও ছায়াযুদ্ধের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক জনমত যেভাবে গঠন করতে চাইছি একইভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা ধর্মনিরপেক্ষ মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার জন্য সংগ্রাম করছেন তাদের সম্মিলনেরও বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। জঙ্গীবাদ মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস নির্মূলনে সরকার ও নাগরিক সমাজকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে। এই মানবতাবিরোধী অপশক্তিকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, কুটনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে মোকাবেলা করার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে পরাভুত করার জন ̈ সরকারকে বিভিন্ন নাগরিক উদ্যেগে সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। সম্মিলিতভাবে কার্যকর ব্যবস্থা ও কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে হবে, যার দিক নির্দেশনা রয়েছে আমাদের ’৭২-এর সংবিধানে। ধর্মের নামে রাজনীতি থাকলে, ধর্মের নামে বৈষম্য, হত্যা ও সন্ত্রাস কখনও বন্ধ করা যাবে না। ’৭২-এর সংবিধানের মূল চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষে ̈ আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন ও সংগ্রাম করতে হবে।’

সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বীর মুক্তিযাদ্ধা আসাদুজ্জামান খান কামাল এমপি নির্মূল কমিটির ৩০ বছর পূর্তিতে আন্দোলনের নেতাকর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘নির্মূল কমিটির আন্দোলনের শুরু থেকেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে অনেক কিছু আমাদেরকে দেখিয়ে যাচ্ছে সেজন্য নিমূর্ল কমিটিকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা জঙ্গীবাদের বিষদাঁত গুলো ভেঙে দেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছি। কিন্তু সম্পূর্ণ নিমূর্ল করতে পারিনি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন জঙ্গীবাদ নির্মূলে তোমরা রোল মডেল তৈরি করেছ। জঙ্গীবাদ নির্মূলে আমরা আমাদের জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছিলাম। শিক্ষক, ছাত্রসমাজ ও জনতা সবাই জঙ্গীবাদ নির্মূলে আমাদের সহযোগিতা করেছিল। গত ৩০ বছরে নির্মূল কমিটি যে কাজ করেছে জঙ্গীবাদ দমনে তা আমাদের পাথেয় হয়ে আছে। নিমূর্ল কমিটি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করেছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে ঘুরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। এতে সবাই সাড়া দিয়েছে। এমনকি মা তাঁর ছেলেকে আমাদের কাছে ধরিয়ে দিয়েছেন, এরকম ৮টি ঘটনা ঘটেছে।জঙ্গীরা নিহত হলে তাদের পরিবার ও আত্মীয় ̄স্বজন লাশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে। কোন ধর্মেই সন্ত্রাসবাদ ও মানুষ হত্যার অনুমতি দেয় না। বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সহযোগিতা আমাদেরকে জঙ্গীবাদ নির্মুলে সফলতা এনে দিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে নিমূর্ল কমিটি জঙ্গীবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার ঘটনাগুলো জনগণের সামনে নিয়ে আসে, যা সরকারকে সহযোগিতা করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। আমরা জঙ্গীবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে না পারলেও তাদের বিষদাঁত ভেঁঙ্গে দিয়েছি।’

জঙ্গীবাদ ও সাম্পধদায়িকতা নির্মূলনে সরকার ও নাগরিক সমাজের করণীয় নিয়ে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ড. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, ‘ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গঠনের জন্য বঙ্গঁবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযাদ্ধারা দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে এ দেশকে স্বাধীন করেছিল। বঙ্গবন্ধু বীর মুক্তিযাদ্ধাদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করেন বাহাত্তরের সংবিধানের মাধ্যমে। কিন্তু মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে এদেশে পুনরায় সাম্প্রদায়িকতার অপরাজনীতি আরম্ভ করে। মৌলবাদীরা রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতা অনুপ্রবেশ ঘটানো থেকে শুরু করে শিক্ষা মাধ্যমেও ব্যাপকভাবে সাম্প্রদায়িকতা করে যার ফলে দেশে ব্যাপকভাবে জঙ্গীবাদের বিস্তার ঘটে। ’৭৫-এর পর বাংলাদেশে হাজার হাজার কওমি মাদ্রাসা চালু হয়। বর্তমানে যার সংখ্যা প্রায় ৪৪ হাজার। মৌলবাদীরা নারীদের ̄স্বাধীনতার উপরে হস্তক্ষেপ করে তারা নানাভাবে ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে নারীদের ̄স্বাধীনতা খর্ব করে। আমাদেরকে এদেরকে যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করতে হবে।’


সম্মেলনের শুভেচ্ছা বক্তব্যে ইন্টারন্যাশনাল থিয়েটার ইন্সটিটিউটের সাম্মানিক সভাপতি নাট্যজন বীর মুক্তিযাদ্ধা রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘ধর্মের নামে রাজনীতি বন্ধ না করা গেলে বাংলাদেশ কিছুতেই সামনের দিকে এগোতে পারবে না। মুক্তিযাদ্ধ ও ’৭২-এর সংবিধানের মাধ্যমে আমরা যে চেতনাকে নিয়ে এগিয়েছিলাম তা যদি অব্যাহত থাকত তবে বাংলাদেশ এতদিনে সারা বিশ্বের জন্য দৃষ্টান্ত হতো। দেশ থেকে , জঙ্গীবাদ সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদের দুষ্টচক্রকে রুখতে হলে সরকারকে যেমন অগ্রনী ভুমিকা পালন করতে হবে তেমনি আমাদের নাগরিক সমাজকেও একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বর্তমানে যে সাম্প্রদায়িক উন্মাদনা চলছে তা প্রতিরোধে আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেও একজোট হয়ে কাজ করতে হবে যেন রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার উন্মেষ না ঘটে। সর্বপরি সাম্প্রদায়িকতা উত্থানকে রুখতে আমাদের দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি চর্চা আরও বৃদ্ধি করতে হবে।’

নির্মূল কমিটির সহসভাপতি শিক্ষাবিদ শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধে বাঙালির কাছে নির্লজ্জ পরাজয়ের জন্য পাকিস্তানের কোন লজ্জা বা অনুশোচনা হয়নি বরং ওরা আরও বেশি বর্বরতা ও হিংস্রতার আশ্রয় নিয়েছে। জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর ক্ষমতায় বসিয়েছিল ওদের ভাবশিষ্য ̈ জিয়াউর রহমানকে। তিনি ক্ষমতায় বসেই জেলে আটক সব যুদ্ধাপরাধী, দালাল, রাজাকার, আলবদরদের মুক্ত করে তাদের রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেন। এই ধারাবাহিকতা চলতে থাকে দীর্ঘ সময়। তারা স্থাপন করে অসংখ্য স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, মসজিদ, ব্যাংক, বীমা ও সংখ্যাতীত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তাদের আদর্শে বাংলাদেশ হয় মিনি পাকিস্তান । সর্বাংশে ভুলুষ্ঠিত হয় মুক্তিযাদ্ধের চেতনা। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু, সবকিছুই হারিয়ে যায়। বহুদিন পর ফিনিক্স পাখির মতো বাঙালি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ আবার জেগে উঠেছে। কিন্তু পঁচাত্তরের পর পাকিস্তানের রোপিত চক্রান্ত্র বিষবৃক্ষ বিস্তার করে সমগ্র বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠান সব সংগঠন এমনভাবে কলুষিত করে ফেলেছে যে আমরা ̄ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকালেও দেখি খেলার মাঠে ওড়ে পাকিস্তানের পতাকা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে অন্য সম্প্রদায়ের উপাসনালয় ভাঙচুর করা হয়, জ্বালিয়ে দেয়া হয়।
হিন্দুদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়, জমিজমা ঘরবাড়ি বেদখল দিয়ে তাদের দেশ ছাড়া করা হয়। পাকিস্তানের দেয়া অস্ত্র দিয়ে বাংলাদেশের নব্য রাজাকাররা সন্ত্রাস চালায়। এমনকি পাঠ্য বই ছাপানোর সময়ও প্রেসে ঢুকে শেষ মুহূর্তে ওরা বিষয় বদলে দেয়। সাম্প্রদায়িক ভাবধারায় কবিতা ও রচনা ঢোকায়। এসব সংশোধন করার আর সময় থাকে না। সময়মত বই যেন না দেয়া যায় সে জন্য বাধা সৃষ্টি করে। পাকিস্তানি স্বাধীনতা বিরোধী রোহিঙ্গাদের দিয়ে বাংলাদেশে নানা ধরনের অপকর্ম করে চেষ্টা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের এই চক্রান্ত প্রকাশ করে ওদের মুখোশ উন্মোচন করা উচিত। দেশবিরোধী, স্বাধীনতা বিরোধীদের নাগরিকত্ব হরণ করা এখন সময়ে দাবী।’

গ্রাম থিয়েটারের সভাপতি চলচ্চিত্র নির্মাতা নাট্য ব্যক্তিত্ব বীর মুক্তিযাদ্ধা নাসির উদ্দিন ইউসুফ বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয় পৃথিবীর কোন দেশেই ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নিমূর্ল কমিটি’র মত একটি সামাজিক ও মানবধিকার আন্দোলন খুঁজে পাওয়া যাবে না। গণহত্যা ও জেনোসাইডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার ও শাস্তির দাবীতে গত তিন দশক ধরে সংগঠনটি যে লাগাতার কর্মসূচি ও আন্দোলন পরিচালনা করে আসছে, তা এককথায় অভূতপূর্ব। শুধু আন্দোলন নয় দাবী আদায়ে সফলও হয়েছে এ সংগঠনটি। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযাদ্ধের সময় বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার জন্য দায়ী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এদেশীয় অনুসারি রাজাকার আলবদরের বিচার প্রক্রিয়া শুরু ও দোষীদের মৃত্যুদন্ড সহ নানা মেয়াদের শাস্তির বিধানে এ সংগঠনটি নেতৃত্বের প্রশ্নে একক কৃতিত্বের দাবীদার। ১৯৯২ সালের ২৬ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী ময়দানে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গণআদালত অনুষ্ঠিত করে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তা ১৯৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশে নবজাগরণ সৃষ্টি করে।’

নাসির উদ্দিন ইউসুফ আরও বলেন, ‘লেখক সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং গণ আদালতের মূল কারিগর। সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল কাজী নূরুজ্জামান ও মুক্তিযাদ্ধাদের সাথে নিয়ে ১৯৯১ সালে শাহরিয়ার কবির প্রথম ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গঠনে তৎপর হন এবং পরবর্তীতে প্রথম সভায় জাহানারা ইমাম সংযুক্ত হন এ সংগঠন প্রতিষ্ঠায়। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯২-এর ১৯ জানুয়ারি একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আত্মপ্রকাশ করে। সব সময় শাহরিয়ার কবির সংগঠনের বিকাশ ও কর্মসূচি প্রণয়নে মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন।’

১৯ জানুয়ারি ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয় সকাল সাড়ে ৮টায় মিরপুরে শহীদজননী জাহানারা ইমামের সমাধিতে পুষ্পার্ঘ ̈ অর্পণের মাধ্যমে।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102