সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৮:৫০ পূর্বাহ্ন

অস্ত্রধারীদের হামলা অশুভ লক্ষণ: মির্জা ফখরুল

সংবাদদাতার নাম :
  • খবর আপডেট সময় : রবিবার, ২ জানুয়ারি, ২০২২
  • ২০৬ এই পর্যন্ত দেখেছেন

স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জে বিএনপির সমাবেশে অস্ত্রধারীদের হামলা অশুভ লক্ষণ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর সিরাজগঞ্জের সমাবেশে আপনারা দেখেছে, পত্রিকাগুলোতে এসেছে যে, সমস্ত অস্ত্রগুলো অবৈধ। একটা ছবি দেখলাম ইম্প্রোর্টেড, চক চক করছে নতুন রিভলবার। দেশী নয়, বিদেশী রিভলবার। এই যে দেশের মধ্যে অস্ত্রধারীরা প্রকাশ্যে এসে গেছে-এটা শুভ লক্ষণ নয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই অস্ত্রধারীরা হলো, সিরাজগঞ্জের মধ্যপাড়ার বায়েজিদ, দত্তবাড়ীর সুজয়, কোল গয়লার সুমন ও জনি চারটি পিস্তল নিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে হামলা চালায়। যা পত্রিকায় ও মিডিয়াতে ছবি প্রকাশিত হয়েছে। এরা সবাই ছাত্রলীগ ও যুব লীগের সদস্য। অথচ এই অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। সন্ত্রাস করবে তারা, আবার তারা বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। আমরা অবিলম্বে অস্ত্রধারীর গ্রেপ্তার ও তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, সারাদেশে প্রায় ৩২টি জেলায় আমাদের যে শাস্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে যে দাবি আদায়ের প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি, এতে ভীত হয়ে আওয়ামী লীগ এবং এই অনির্বাচিত সরকার গণতান্ত্রিক শক্তির উপরে আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে, হামলা করছে, গুলিবর্ষণ করছে, গায়েবী মামলা দিচ্ছে।

এসব কর্মসূচিগুলোর মধ্য দিয়ে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, এই দেশের জনগণ একবারও চায় না যে, এই অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকুক এবং এভাবে গণতন্ত্রকে ধবংস করুক। এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, খালেদা জিয়ার মুক্তি দেশের মানুষ এই মুহুর্তে চান এবং তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে এই মুহুর্তে পাঠাতে চান।

সিরাজগঞ্জ, হবিগঞ্জ, ফেনী, টাঙ্গাইল, ঠাকুরগাঁও, গাজীপুর, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠিত সমাবেশগুলোতে পুলিশি বাঁধা, হামলার ঘটনা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও তার চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে প্রায় ৩২ জেলায় এই দাবিতে আমরা সমাবেশ করেছি। এই সমাবেশগুলোতে জনগণের যে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এটাতে উদ্বিগ্ন হয়ে ভীত হয়ে আওয়ামী লীগের কর্মী-নেতা এবং সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তারা প্রতিটি কর্মসূচি বাঁধা প্রদান করেছে, চেষ্টা করেছে। প্রথম থেকে বিভিন্ন পদ্ধতিতে কখনো স্লো করে দেয়া, কখনো আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরাসরি আক্রমণ, কখনো আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দিয়ে আক্রমণ করে আন্দোলনকে দমন করার চেষ্টা করেছে।

অতীতের মতো নির্যাতন, গুম, খুন, গুলিবর্ষণের মধ্য দিয়ে তারা গণতন্ত্র পুণঃপ্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম যে লড়াই তাকে ব্যাহত করতে চায়। আমরা একথা দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট করে বলতে চাই, বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠেছে এবং তারা রাজপথের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তাদের দাবি আদায় করবে, গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করবে, খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং একই সঙ্গে তাকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণ করতে সক্ষম হবে।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে পরবর্তি কর্মসূচি স্থায়ী কমিটির সোমবারের বৈঠকে নেয়া হবে বলেও জানান মির্জা ফখরুল।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও ঢাকা মহানগরের সদস্য প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102