

স্টাফ রিপোর্টার: আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে কেউ ক্ষমতা থেকে সরাতে পারবে না। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলতে থাকবে। কিন্তু আমরা এ ষড়যন্ত্রকে শেষ করতে চাই। এই ষড়যন্ত্র বারবার প্রতিহিত করতে চাই না। এজন্য ক্ষমতা ধরে রাখতে হবে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পারবো, দুই বেলা ঠিক মতো খেতে পারবো।’
বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর শহীদ মতিউর রহমান পার্কে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) আয়োজিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মায়া বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে দেবে, আর স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিরা ক্ষমতায় এসেই ২০ বছর দেশকে পিছিয়ে দেবে, এটা হতে দেওয়া হবে না। আমাদের স্লোগান শেখ হাসিনার সরকার, বারবার দরকার।’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বাইরে যারা ২৯ বছর দেশের ক্ষমতায় ছিলেন, তারা কিন্তু দেশের জন্য কাজ করেননি। অন্তর দিয়ে শেখ হাসিনার মতো দেশের জন্য কাজ করেননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তো ২৪ ঘণ্টা দেশ ও মানুষের কথা ভাবেন। অথচ যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা আব্দুল আলীমকে মন্ত্রী বানিয়েছেন। তারা রাজাকারের গাড়িতে পতাকা দিয়েছেন।’
বিএনপিকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমাদের জন্মতারিখ একটাই। একটা জন্মতারিখ বলেই আমরা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাই, রেশন কার্ড পাই, গাড়ির লাইসেন্স পাই। আর যদি তিন-চারটা জন্মতারিখ হয়, তাহলে কেমন হবে। একটা দেশের যিনি নেতৃত্ব দেবেন, তার জন্মতারিখ ঠিক থাকে না। আমি বলতে চাই, আপনারা তো নিজেদের জন্মতারিখই জানেন না। আপনাদের জন্মই তো ঠিক নাই।’
মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে মায়া বলেন, ‘মির্জা ফখরুল বলেছেন, প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা খালেদা জিয়া। এই কথা যখন টিভিতে শুনি, আমি বলি আল্লাহ আমার মরণ হলো না কেন এই কথা শোনার আগে। খালেদা জিয়া নিজেই কোনোদিন একথা বলেনি। অথচ এসব নেতা আবোল তাবোল কথা বলে যাচ্ছেন। খালেদা জিয়া দীর্ঘ ৯ মাস ক্যান্টনমেন্টে ছিলেন। মির্জা ফখরুল আপনাকে বলতে হবে, খালেদা জিয়া ৯ মাস কোথায় মুক্তিযুদ্ধ করেছেন।’
আওয়ামী লীগের এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, ‘আজ বহু জায়গায় নতুন নতুন মুক্তিযোদ্ধা তৈরি হইতাছে। আমরা সত্যিকারের ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখতে চাই। নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের এসব সত্যিকারের ইতিহাস তুলে ধরতে হবে।’
ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র ফজলে নূর তাপসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, ফিরোজ রশিদ, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা ও মৃণাল কান্তি দাস। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতা এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটির কর্মকর্তারা।