

হারুন উর রশীদ: কোনো কোনো কাজ আছে, যা প্রথমে মনে হবে বড় কিছু নয়। কিন্তু তার মধ্যে অপার সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে। যার ফল দেখা যায় সময়ে। আর সেই কাজটি যদি হয় সংগঠন আর তার সদস্যদের সবার অংশগ্রহণে এবং কল্যাণে তাহলে অবশ্যই সেই উদ্যোগকে বলতে হবে অনন্য।
‘ক্র্যাব নিউজ বিডি’ আমার কাছে সে রকমই একটি উদ্যোগ মনে হয়েছে। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের কোনো সংগঠনের সংবাদভিত্তিক
পেশাদার অনলাইন নিউজ পোর্টাল আমার জানামতে এটাই প্রথম। ব্যক্তি বা সরকারি মালিকানার বাইরে সাংবাদিকদের যৌথ মালিকানার এই সংবাদমাধ্যম একটি অসাধারণ উদ্যোগ।
এই ধরনের সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশে আর একটিও নেই। বিশ্বে আছে হাতেগোনা। কিন্তু স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য সাংবাকিদদের যৌথ মালিকানার সংবাদমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা এখন অনেকেই অনুভব করছেন।
সাংবাদিকরা যৌথ মালিকানায় যে সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠা করবেন, তা অনেক বেশি স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশন করতে পারবে। কারণ এখানে ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর প্রতি কোনো দায়বদ্ধতা থাকে না। ব্যক্তি বা কোনো শিল্পগোষ্ঠী যখন কোনো সংবাদমাধ্যমে বিনিয়োগ করে তখন ওই প্রতিষ্ঠানের বাইরেও তাদের নানা ধরনের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক স্বার্থ থাকে। আর সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম প্রায় ক্ষেত্রেই সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করে। তাই এখন সময় সাংবাদিকদের মালিকানায় সংবাদমাধ্যম। সেখানে ওই ধরনের কোনো চাপ থাকবে না। ‘ক্র্যাব নিউজ বিডি’ সেই ধরনের একটি উদ্যোগ। ছোটো হলেও যাত্রা তো শুরু করলো।
এর আরেকটি সম্ভাবনা দেখতে পাচ্ছি। এই পোর্টালে আমাদের সহকর্মী ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা কাজের সুযোগ পাবেন। এই করোনার সময় আমাদের অনেক সহকর্মী কাজ হারিয়েছেন। আবার নানা কারণে কেউ কেউ বেকার হয়ে পড়েন। তাদের এখানে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আবার কেউ কেউ খ-কালীন কাজও করতে পারবেন। প্রশ্ন উঠতে পারে অর্থের সংস্থান কিভাবে হবে? আমার মনে হয় নিজস্ব অর্থায়নে দুই-এক মাস চালিয়ে নিতে পারলে অর্থের সংকট হবে না। বিজ্ঞাপন পাওয়া যাবে। আমার আশা এই অনলাইন নিউজ পোর্টালটি অনেক জনপ্রিয় হবে। কারণ এখানে সব নিউজ আগে পাওয়া যাবে। ক্রাইম রিপোর্টাররা তাদের ভালোবাসার জায়গা থেকেই সেটা করবেন আশা করি। সব ধরনের খবর তো বটেই এই পোর্টালটি অপরাধ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের একটি বড় হাব হয়ে উঠতে পারে। সেটা হলে বিজ্ঞাপনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আর এখন বিজ্ঞাপনদাতারও অনলাইনমুখী হয়ে উঠছেন। গুগলসহ আরও অনেক মাধ্যমে বিজ্ঞাপন পাওয়া যায়।
এই নিউজ পোর্টালটির নিশ্চয়ই ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ থকবে। জনপ্রিয় করতে পারলে সেখান থেকেও আয় আসবে। পোর্টালটিকে করতে হবে সত্যিকার অর্থে একটি মাল্টিমিডিয়া। তার তাই যদি হয়, তাহলে সংগঠন এবং সদস্যরা উভয়ই লাভবান হবে। সাংবাদিকতার নতুন একটি স্বাধীন ও শক্ত প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে।
তবে এর জন্য কয়েকটি শর্ত আছে। প্রথমত, সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও স্বাধীনভাবে এই নিউজ পোর্টালটি পরিচালনা করতে হবে। সাংবাদিকতার নীতিমালা পুরোপুরি অনুসরণ করতে হবে। সঠিক ও নিরপেক্ষ খবর দিতে হবে। যে প্রতিষ্ঠানে খবর যত বেশি গ্রহণযোগ্য, সেই প্রতিষ্ঠান ব্যবসাও বেশি করে। দ্বিতীয়ত, সবাইকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আমি সেই সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। নিশ্চয়ই সহকর্মী সদস্যরাও হাত বাড়িয়ে দেবেন। এটি আমাদের সবার অনলাইন সংবাদমাধ্যম। আমরা সবাই এর মালিক। আমরা সবাই এর সহযোগী। আমাদেরই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে আমাদের স্বাধীন প্রতিষ্ঠানকে।
সবাই স্বপ্ন দেখতে ও স্বপ্ন দেখাতে পারেন না। কেউ কেউ পারেন। যারা পারেন, তারাই স্বপ্নদ্রষ্টা। বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের যারা এই স্বপ্নের বীজ বপন করেছেন, সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি আমার অসীম কৃতজ্ঞতা।
লেখক: সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন