শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন

শিশুর উত্তম শিক্ষা-দীক্ষার গুরুত্ব

ইসলাম ডেস্ক
  • খবর আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৪
  • ১৩১ এই পর্যন্ত দেখেছেন

সন্তানকে আদর্শ ও নেক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার যথাসাধ্য চেষ্টা করা, উত্তম শিক্ষা-দীক্ষা দেওয়া বাবা মায়ের অবশ্য কর্তব্য, শিশুর অধিকার। সাধারণভাবে প্রত্যেকটি শিশুই উত্তম প্রকৃতি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। এরপর সে যে শিক্ষা পায় সেভাবেই বেড়ে ওঠে। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, প্রত্যেক নবজাতকই ফিতরাত বা স্বাভাবিক উত্তম প্রকৃতি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তারপর তার বাবা-মা তাকে ইয়াহুদি, নাসারা বা অগ্নিপূজক হিসেবে গড়ে তোলে। (সহিহ বুখারি: ২৩)

এ হাদিস থেকে বোঝা যায় সন্তানের ভালো বা মন্দ মানুষ হওয়ার ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের শিক্ষা-দীক্ষার বড় প্রভাব থাকে। তাই শিশুকাল থেকেই উত্তম মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হয়। উত্তম শিক্ষা-দীক্ষা দিতে হয়। আল্লাহর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শিশুকাল থেকেই সন্তানদের উত্তম শিক্ষা ও দীনি আমলে উদ্বুদ্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আমর ইবনে শুয়াইব (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর নবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমরা নিজের সন্তানদের সাত বছর বয়স থেকে নামাজের নির্দেশ দাও। দশ বছর বয়সে নামাজ না পড়লে তাদের প্রহার করো। (আবু দাউদ: ৪৯৫)

কোরআনে আল্লাহ মানুষকে নিজে জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচার পাশাপাশি নিজের পরিবার-পরিজনদেরও জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, তুমি তোমার পরিবারপরিজনদের নামাজের আদেশ দাও এবং তাতে অবিচলিত থাক। (সুরা ত্বহা: ১৩২)

আরেক আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা কর আগুন হতে, যার ইন্ধন হবে মানুষ ও পাথর, যাতে নিয়োজিত আছে নির্মম-হৃদয়, কঠোর-স্বভাব ফিরিশতাগণ, যারা আল্লাহ যা তাদেরকে আদেশ করেন তা অমান্য করে না এবং তারা যা করতে আদিষ্ট হয় তাই করে। (সুরা তাহরিম: ৬)

সন্তানকে উত্তম মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে সে ইহজীবনে যেমন চোখের শীতলতা ও সওয়াবের কারণ হয়, মৃত্যুর পরও নেক সন্তানের কারণে মানুষের সওয়াব জারি থাকে। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আদম সন্তান যখন মারা যায়, তখন তার তিন প্রকার আমল ছাড়া অন্য সব আমলের ধারা বন্ধ হয়ে যায়; ১. সদকায়ে জারিয়া (ফায়েদা অব্যাহত থাকে এ রকম সদকা যেমন মসজিদ নির্মাণ করা, কূপ খনন করে দেওয়া ইত্যাদি) ২. ইলম বা জ্ঞান যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হতে থাকে ৩. সুসন্তান যে তার জন্য নেক দোয়া করতে থাকে। (সহিহ মুসলিম)

রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, কোনো কোনো ব্যক্তি জান্নাতে উচ্চ মর্যাদা লাভ করে বলবে আমার এত মর্যাদার অধিকারী কীভাবে হলাম? তাকে বলা হবে, তোমার জন্য তোমার সন্তানের দোয়া ও ইস্তেগফারের কারণে তুমি এত মর্যাদা পেয়েছ। (সুনানে ইবনে মাজা, মুসনাদে আহমদ)

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102