

মুক্ত, স্বাধীন ও শক্তিশালী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় একটি নির্দলীয় প্ল্যাটফর্ম তৈরির দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিকরা। একইসঙ্গে ক্ষমতাধর শ্রেণির রাহুমুক্ত সাংবাদিকতা নিশ্চিতে গণমাধ্যমের মালিকানা, পরিচালনানীতিসহ নানা বিষয়ে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সর্বস্তরের সাংবাদিকরা। এজন্য তারা ১৩ দফা দাবিও পেশ করেছেন।
শনিবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে ‘গণমাধ্যম সংস্কার উদ্যোগ’ এর ব্যানারে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত মতবিনিয়ময় সভায় এসব কথা বলেন সর্বস্তরের সাংবাদিকরা।
সভা পরিচালনা করেন সাংবাদিক আরিফুল সাজ্জাত ও আহম্মদ ফয়েজ।
তারা বলেছেন, করপোরেট মালিকদের স্বার্থরক্ষা ও রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিমূলক সাংবাদিকতা পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি গণমাধ্যমকে জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
এ সংকট কাটাতে গণমাধ্যমের সামষ্টিক চরিত্র পাল্টে জনবান্ধবমুখী করার দাবি জানান তারা
অনুষ্ঠানে লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় গণহত্যায় গণমাধ্যম কোনোভাবেই তার দায় এড়াতে পারে না। সেজন্য এখন আমাদের প্রচণ্ডরকমের আত্মসমালোচনা দরকার।
সাংবাদিকতার জগতে এখন তিনটি অভ্যুত্থান দরকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথম করপোরেট ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে, দ্বিতীয়ত দলীয় সাংবাদিক ইউনিয়ন ও প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে, তৃতীয়ত নিজেদের লোভ ও পক্ষপাতের বিরুদ্ধে আমাদের অভ্যুত্থান দরকার।
সিনিয়র সাংবাদিক খায়রুজ্জামান কামাল নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সংকট করপোরেট মালিকানা। এই ব্যবস্থার পরিবর্তন না করতে পারলে গণমাধ্যমকর্মীদের অর্থনৈতিক মুক্তিসহ আমরা যে জনবান্ধব গণমাধ্যম দেখতে চাই সেটি কঠিন হয়ে পড়বে। তিনি দল মতের বাইরে পেশাদার সাংবাদিকদের নিয়ে একটি শক্তিশালী সংগঠন তৈরির ওপর জোর দেন।
আরেক সিনিয়র সাংবাদিক সেলিম সামাদ বলেন, সাংবাদিকরা নিজেদের কর্মক্ষেত্রেই আজ সবচেয়ে বড় পরাধীন। সাংবাদিকদের হুটহাট কেন চাকরি যায় তার বিরুদ্ধে শক্ত কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।
দ্যা ডেইলি স্টারের সিনিয়র সাংবাদিক বাহরাম বলেন, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যম। সেই গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় আমাদের যা যা করণীয় করতে হবে। অপেশাদার, রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তিমূলক সাংবাদিকতা আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করতে হবে। এজন্য আমাদের এক দফা দাবি গণমাধ্যমে ব্যাপক সংস্কার আনতে হবে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বাংলাদেশ প্রতিনিধি কামরুজ্জামান বাবলু বলেন, আমাদের সিনিয়র সাংবাদিকদের অনেকে এতটাই ক্ষমতার লোভ ও স্বার্থের কাছে নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে যে তাদের দিয়ে আর কোনো পরিবর্তন আশা করা যায় না। সাংবাদিকতাকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয় পেশা হিসেবে তুলে ধরতে ঘুনে ধরা ব্যবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন, একাত্তর টেলিভিশনের শাহনাজ শারমিন, নিউ এইজের মঈনুল হক, মাই টিভির মাহবুব সৈকত, সাংবাদিক মিজানুর রহমান কবির, নিউজ ২৪ এর হোসাইন শাহদাৎ ও দ্যা বিজনেস পোস্টের আশরাফুল ইসলাম রানা। অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের ব্যাপক সংস্কারকল্পে ১৩ দফা দাবি পেশ করেন সাংবাদিকরা।
নিউজ /এমএসএম