মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আমরা এসেছি সবাইকে একই অধিকার দিতে

অনলাইন ডেস্ক
  • খবর আপডেট সময় : বুধবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৪
  • ১১১ এই পর্যন্ত দেখেছেন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘আমরা এসেছি মানুষকে একই অধিকার দিতে। এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করা যাবে না। আমাদের একটু সাহায্য করুন আপনারা, ধৈর্য ধরুন। কী করতে পারলাম, কী পারলাম না, সেটা পরে বিবেচনা করবেন।’

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা মন্দিরের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরে সবাইকে ধৈর্য ধরে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বড় রকমের একটা বিভেদের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। কিন্তু এমন বাংলাদেশ আমরা গড়তে চাচ্ছি, যেটা একটা পরিবার, এটাই হচ্ছে মূল জিনিস। এ পরিবারে কোনো পার্থক্য করা, বিভেদ করার প্রশ্নই আসে না। আমরা বাংলাদেশের মানুষ, বাংলাদেশী।’

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি প্রশ্ন রেখে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ন্যায়বিচার হলে কে বিচার পাবে না, এটা আমাকে বলেন? এটা কি দেখার সুযোগ আছে—কে কোন ধর্মের, কোন জাতের, কোন সম্প্রদায়ের! এটা কি আইনে বলা আছে যে এই ধর্মের, এই সম্প্রদায়গুলো এই আদালতে যাবে, ওই সম্প্রদায়গুলো অন্য আদালতে যাবে? আইন একটা, কার সাধ্য আছে এখানে বিভেদ করে?’

সবাইকে ধৈর্য ধরে সরকারকে সাহায্য করার আহ্বান জানিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আপনারা বলবেন যে “‍আমরা মানুষ, আমরা বাংলাদেশের মানুষ। আমার সাংবিধানিক অধিকার এই, এটা আমাকে দিতে হবে।” সব সরকারের কাছে এটাই চাইবেন, আর কিছুই চাইবেন না। আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। আর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা যদি নিজেকে সংখ্যালঘু হিসেবে পরিচয় দেন তাহলে আমরা মূল সমস্যা থেকে দূরে সরে যাব। আমাদের বলতে হবে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা। আমাদের বাক্‌স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে; মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আপনারা যদি টেনে নিয়ে আসেন আমি অমুক, আমি তমুক; তাহলে আবার সেই পুরনো খেলায় চলে গেলেন।

ড. ইউনূস আরো বলেন, ‘আমাদের যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা, সেখানে আমরা হিন্দু কিংবা মুসলিম হিসেবে বিবেচিত নই; আমরা সবাই মানুষ। আমাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত হোক। সমস্ত সমস্যার কারণ হলো আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো পচে গেছে। এ কারণেই গোলমাল হচ্ছে। এজন্য দরকার ন্যায়বিচার। এখানে সবার জন্য আইন একটাই।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যেটা আপনারা বললেন, “‍আমরা আইনের অধিকার পাই না; বিচার ব্যবস্থা আমাদের দিকে তাকায় না, পুলিশ আমাদের দিকে তাকায় না—কিছুই আমাদের দিকে তাকায় না।’ এর কারণ হলো আমরা অধিকারটা প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। আমাদের নীতিটা আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি। প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজন করেছি, কিন্তু এটা বায়াসড একটা প্রতিষ্ঠান।

নিজেদের ‘খোপে’ বন্দি না রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনি যত কিছুই বলেন, একটা খোপ করতে আরম্ভ করবেন, তারা মজা পেয়ে যাবে। ওই মজার খেলায় আমাদের আর নিয়ে যাইয়েন না।

ড. ইউনূস বলেন, ‘আমাদের গণতান্ত্রিক যে আকাঙ্ক্ষা, সেখানে আমরা বিবেচিত মুসলমান হিসেবে নয়, হিন্দু হিসেবে নয়, বৌদ্ধ হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে। আমাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত হোক।

এদিকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে গতকাল ‘সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলন’-এর শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। ‘সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলন’ জানিয়েছে, বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে।

৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সারা দেশে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। পরে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের ২৯ জেলায় হিন্দুদের ওপর হামলা হয়েছে।

নিউজ /এমএসএম

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102