

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আমি কোনো রাজনীতিবিদ না। একজন ফৌজ, যা বলি তাই করার চেষ্টা করি। আপনারা কেউ চাঁদাবাজি করবেন না। দখলবাজি করবেন না। যারা দখলদারিত্ব বা চাঁদাবাজি করবে তাদের পা ভেঙে দিতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রবিবার (১১ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা বলেন তিনি।
এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি সব রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে বলতে চাই, একটা পলিটিকাল পার্টির অবস্থা আজকে দেখুন। এত বড় একটি ঐতিহ্যবাহী দল ; যার নামের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাধীনতা জড়িত; আজকে তাদের সদস্যদের পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। তাদের জায়গায় যদি আপনি মনে করেন বাজার দখল করবেন, এটা দখল করব, ওটা দখল করব, চাঁদাবাজি করব; তাহলে কিছুদিন করেন। আমি সেনাপ্রধানকে বলেছি এমন করলে তাদের পা ভেঙে দিতে। আমার কানে এসব আসলে ভালো হবে না। আমি পাবলিকও না, রাজনীতিবিদও না। আমার ব্র্যাকগ্রাউন্ড হচ্ছে ফৌজি মানুষ। যা বলব তাই করব।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আমি কোনো রাজনীতিবিদ না যে সকালে এক কথা বলব আর বিকেলে আরেক কথা বলব। আমি এখনো মন্ত্রণালয়ে ঢুকিনি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনেক বড়। এটা সম্পূর্ণ আমার ঘাড়ে। আমি একটু যাই, বসি এবং সবার সঙ্গে পরিচিত হই, সমস্যাগুলো শুনি। আমাদের দেশের অনেক সমস্যা আছে।
তিনি বলেন, আমি দুটি-চারটি কথা বলে যাই, এ দেশে রাজনীতি করতে হলে পলিটিকাল অ্যাক্ট অনুযায়ী করতে হবে। আমি যতদিন পর্যন্ত আছি এটা করে ছাড়ব। এটা আপনাদের পছন্দ হলেও ভালো না হলেও ভালো। আপনারা জানেন আমি ইলেকশন কমিশনে ছিলাম, সেখানে অনেক কিছু করে ছেড়েছি। আপনারা যদি পলিটিকাল অ্যাক্টের মধ্যে থাকেন তাহলে কার্যক্রম চালাতে পারবেন। আর না থাকলে পারবেন না। আপনারা ডিক্টেটরিয়াল জায়গায় চলে যাবেন সেটা হবে না।
তিনি বলেন, দেশের একটি রাজনৈতিক দলের কী করুন অবস্থা হয়েছে, তা আপনারা দেখেছেন। যাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস জড়িত, তাদের অবস্থা দেখেন, পালিয়ে বেড়াচ্ছে। একটা বিশেষ পরিস্থিতি দেশে তৈরি হয়েছে। তার সুযোগ আপনারা নিচ্ছেন, এটা বন্ধ করেন। আমার কাছে খবর আসছে, কাওরান বাজারে চাঁদাবাজি, একটি ব্যাংকে ঢুকে গোলাগুলি করে দখলের চেষ্টা হচ্ছে। এভাবে চলবে না।
পুলিশ সদস্যদের বৃহস্পতিবারের (১৫ আগস্ট) মধ্যে কাজে যোগ দেয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারের মধ্যে যারা কাজে যোগ দেবেন না, আমরা ধরে নেবো তারা চাকরি করবেন না। বৃহস্পতিবারের মধ্যে আপনারা কাজে যোগদান করুন। এই সময়ের মধ্যে যারা যোগদান করবেন না, তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে। যা কিছু ঘটেছে, তার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে। তদন্ত অনুযায়ী বিচারবিভাগ বিচার করবে। এতে কারোর ভয় পাওয়ার কিছু নাই। নির্দোষ কেউ কোথাও কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।
নিউজ /এমএসএম