

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি গণমিছিলে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী ঢাকা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গণমিছিল করছেন শিক্ষার্থীরা। কোটা সংস্কার আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারসহ নয় দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন তারা। রাজধানীজুড়ে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ মিছিলে বাধার চেষ্টা করলেও কোথাও অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার (২ আগস্ট) রাজধানীসহ সারাদেশে প্রার্থনা এবং গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এর অংশ হিসেবে জুমার নামাজের পর বিভিন্ন এলাকায় মিছিল নিয়ে বের হন ছাত্রছাত্রীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দেন সাধারণ মানুষও।

বাদ জুমা জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে মিছিল বের করেন মাদরাসা শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ সময় পুলিশ বেরিকেড দিয়ে মিছিলকারীদের আটকাতে চাইলেও ব্যর্থ হয়। বিক্ষোভকারীরা পল্টন মোড়, প্রেসক্লাব ও মৎস্য ভবন হয়ে শাহবাগের দিকে যায়। মিছিলের সামনের সারিতে ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের দেখা যায়। এসময় তারা কোটা আন্দোলনে নিহতদের হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
জুমার নামাজের পর শিক্ষার্থীরা গণমিছিল বের করেন রাজধানীর সাইন্সল্যাব এলাকায়। মিছিলটি বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনের রাস্তা থেকে শুরু হয়। পরে টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সামনে হয়ে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে যান। সেখানেই তারা অবস্থান নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

এদিন রাজধানীর ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও গণমিছিল বের করেন। তারা বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিক্ষোভকালে সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেন।

সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান নিয়ে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানির প্রতিবাদ জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। একইসঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নয় দফা দাবির প্রতি সংহতি জানিয়েছেন রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি মেডিকল কলেজের চিকিৎসক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নিপীড়ন, গণগ্রেফতার বন্ধ, কারফিউ তুলে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং সব হত্যার দায় স্বীকার করে সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছে গণহত্যা ও নিপীড়নবিরোধী শিল্পী সমাজ। শুক্রবার (২ আগস্ট) দুপুরে সাত মসজিদ রোডে (ধানমন্ডির আবাহনী মাঠের পাশে) এক সমাবেশে তারা এসব কথা বলেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সেদিন বিকেলে এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবদুল কাদের।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘গণহত্যা ও গণগ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শুক্রবার মসজিদে জুমার নামাজ শেষে দোয়া, শহীদদের কবর জিয়ারত, মন্দির, গির্জাসহ সব উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন এবং জুমার নামাজ শেষে ছাত্র-জনতার গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।
নিউজ /এমএসএম