

ভূমিকালিপি
আমি বেশ পাকাপোক্ত প্রেমিক বলা যেতে পারে ! সাতপুরুষের সম্পত্তি আগলে রাখার মতোই এই প্রেম ও প্রতিশব্দময় ভালোবাসা”- কে আমি আগলে রেখেছি ৷ আমার প্রেম ? কিভাবে বর্ণনা করবো ভেবে পাচ্ছিনা , তবু প্রশ্নটা যখন করেছেন তখন না বলে পারছি না ৷ আমার জীবনে প্রেম বহু বার এসেছে ও গেছে ! কাছে থেকেছে খুব কম , অনাহুতো অতিথির মতোই ! আমি তখন শ্রীরামপুর হুগলীর পূর্ণচন্দ্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জুনিয়র ক্লাসে পড়ি ৷ আমার পাশে একই বেঞ্চে শুভ্রা নামে একটা মেয়ে বসতো , ভীষণ সুন্দরী একটা ফুটফুটে মেয়ে ! আমি স্কুলে পড়া পারি বা না পারি , প্রতিদিন ওই ছোট্ট শুভ্রা মেযেটার জন্য স্কুল কামাই করতাম না !
আমাদের ঝিলবাগানের কুসুমকুঞ্জের বাড়িতে আমি আমার জ্যাঠতুতো দাদা-দিদি ও বড়দের কাছে শুভ্রার গল্প করতাম ৷ দাদা , দিদি , ও বাড়ির বড়রা আমাকে ঠাট্টা করে বলতো ; “রানা তোর সাথে শুভ্রার বিয়ে দিয়ে দেব !”— একটা কথা এখানে বলি , আমার ডাক নাম রানা ৷ এই রানা ব’লে বাড়ির সবাই আমাকে ডাকে ৷ ওদের কথা আমি ওই অল্প বয়সে বিশ্বাস করে ফেলে ছিলাম , একটু একটু করে শুভ্রাকে আমি ভালোবেসে ফেলে ছিলাম ! তখন প্রেম বা ভালোবাসা কাকে বলে সেটাই জানতাম না , তবে কিছু একটা যে মনের মধ্যে ঝড় তুলেই চলেছে সেটা অনুধাবন করতাম ! বাড়ির যারা আমাকে বলেছিল শুভ্রার সাথে আমার বিয়ে দিয়ে দেবে , সেই ওদের কথা আমি শুভ্রাকে বলেও ছিলাম ! আমার কথা শুনে ওই মেয়েটা সেদিন এক হাতে মুখ ঢেকে হেসে ছিল ! সে স্মৃতি এখনো আমার অন্তরের অন্তঃস্থলে গোচ্ছিত আছে ! সেই শুভ্রা একদিন স্কুলে আসা বন্ধ করে দিলো ! স্কুলের অন্য সব বন্ধুদের কাছে ওর কথা জিজ্ঞাস করাতে কেউ বলতে পারেনি শুভ্রা স্কুলে আসছেন কেন ! একদিন টিফিন প্রিয়ডে আমাদের স্কুলের কমলবাবু নতুন দিদিমুনিকে কি যেন বলছিলেন , আমি একটু দূরেই দাঁড়িয়ে ছিলাম ৷
কান পেতে শুনলাম কলমবাবু বলছিলেন ; শুভ্রা মেযেটার ব্লাড ক্যানসার হয়েছে ও আর স্কুলে আসবেনা ! সত্যি শুভ্রা আর কোনোদিন স্কুলে আসেনি ! ওর বাড়ি কোথায় , সেটাও আমার জানা ছিল না ! মেয়েটা বেঁচে আছে , না মরে গেছে , তাও জানিনা ! তবে এখনো আমার মনের মন্দিরে সেই মিষ্টি হাসি মাখা সুন্দর মেয়েটা এখনো আছে ! এটাই প্রেম , যা আমাকে এই ছাপান্ন বছর বয়সেও অহর্নিশ ডুবিয়ে মারে ! এরপর বড় বেলাতেও প্রেম এসেছে , আবার ফুঁড়ুৎ করে পালিয়েও গেছে !
আমার পরবর্ত্তী সময়ে ওই সব প্রেম”- নানা ভাবে , নানা রূপে কবিতায় এসেছে ! নবনীতা’-কে নিয়ে আমার কবিতার পাঠকদের মধ্যে গুঞ্জন শোনা যায় ৷ আমি নবনীতাকে নিয়ে প্রচুর কবিতা লিখেছি ৷ আমার , কথা না রাখার কথা শীর্ষক কাব্যগ্রন্থে নবনীতাকে নিয়ে বেশকিছু কবিতা আছে ৷ এই নবনীতা কে , কেন , এবং আমার সাথে কি সম্পর্ক সেটা আমি বলতে পারবো না ৷ এটা বলে ফেললে কবিতার মেজাজটাই নষ্ট হয়ে যাবে ৷ তাই না ,—- ?
https://www.youtube.com/live/UqUZJ8mKLxg?si=3IE3kA-vqBMNfC26_________________________
স্বপ্নদ্বীপ এবং অন্যান্য নিরীহ শব্দেরা
🖋️
যেটুকু বাকি ছিল
তার সবটা দিয়ে সময়লগ্নের তিথিক্ষণে মৃত্যু ঠেকানো কবচ গড়লাম ; তবু সে অপঘাতে অকস্মাৎ মরলো ! ছেলেটা যাদের জ্বালায় মনে মনে এতকাল জ্বলছিল ; সেই সব বকে যাওয়া অসভ্য ঘৃণ্য ছেলে গুলোর অন্যায় – অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে মৃত্যু নিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো চির দিনের জন্য !
দেখে নিও সময় ওদের ক্ষমা করবে না , …..
এখন শহরের সব রাস্তায় চিরকালের অসুখ ; এখানে নির্বোধ হয়ে ঘুরছে স্বপ্নদ্বীপের মৃত্যু নিয়ে আলোচনা , …..
অন্য দিকে ব্যাথা নিংড়ানো মন নিয়ে আসে-পাশের রাস্তায় কেউ – কেউ ওই সব কুচক্রি বর্বর হিংস্র অকর্মণ্য জানোয়ারদের ভয়ে ভেতরে ভেতরে নিঃশব্দ নিরবতা নিয়ে চুপ করে ছিল ! এটাই ঘটে যাওয়া বহতা সময়ের করুণ পরিণতি ; সেই কারণে প্রতিবাদ – সভা – সমাবেশ দিন কেটে যাচ্ছে সংবাদে সংবাদে এভাবে চিরাচরিতের মত ! অন্যদিকে দল বাঁচানোর কৃত কৌশল পরিপাটি উক্তি কিম্বা তর্ক-বিতর্ক টিভিতে টিভিতে ; এরই মধ্যে নানান বিজ্ঞাপন রিরোতি ! কী এক দুর্বোধ্য স্বপ্নের মত লাগছিলো স্বপ্নদ্বীপের মৃত্যুটা ; যাদের কারণে ছেলেটা অকালে শেষ হয়ে গেল সেই সব খুনি ইপ্টেজারদের জন্য অগুন্তি ছি ছি কিম্বা নতুন আবিষ্কৃত খিস্তি-টিস্তি পরিপটি ভব্যতায় দিয়েছি কত – শত বার ; প্রকাশ্যে নয়তো মনে মনে !
স্বপ্নদ্বীপের নির্মোহ মাখা গাঢ় নিঃসঙ্গ ছায়া-ছায়া অস্পষ্ট কায়া অস্ফুটে বলতে চেয়েছে “আমাকে মেরোনা , আমি বাঁচতে চাই , আমাকে বন্ধুরা বাঁচতে দাও ! যারা ছেলেটাকে মারলো ; এদের জন্য বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে কেঁদেই চলেছে অহর্নিশ ,…. ভেতর থেকে নির্জন রাতের অন্ধকারে সভ্য-ভদ্র সেজে থাকা ছদ্মবেশী বর্বর জানোয়ার গুলো মাথা উঁচু করে প্রকাশ্যে ঘুরছে ফিরছে হাসছে নির্ভয়ে কথা বলছে বিদ্যাস্তম্ভের চাতালে !
চিত্রপট এভাবেই বদলে যায় , গেছে সময়ে ; বিচ্ছিরি স্বপ্ন নিয়ে মজে আছে এ দেশের প্রতিটা ঘর – বাড়ি এবং অন্য কোনো অন্তরের অন্তঃস্থল ! তবু উদ্ভিন্ন চোখের ভাষায় ভালোবাসা মাখা মন আমার মতো প্রতিবাদি বোকাকে নরকে পাঠায় !
শেষবার এই রাজপথে
গত জন্মের আয়না ভাঙার শব্দ পেয়েছিল স্বপ্নদ্বীপ ! ওর মৃত চোখ দুটো নিষ্পলক ছিল অনেকটা সময় ধরে , সেখানে মৃদু কান্নার চাপা আওয়াজ কেউ শুনতে পায়নি ; শোনার চেষ্টাও করেনি !
_________________________
ভূমিকা রাখতে গিয়ে
হাতের মুঠোয় বিচ্ছিরি সব রেখা , লুকিয়ে যেন আছে নানান পথ ,—- এই হাতেতে সময় ধরে ধরে চলছে আমার জীবন – মরণ রথ !
সবটুকু তাই এমনি অবুঝ শিশু , গাছবৃষ্টি ভিজিয়ে চোখের পানি ,—– অথচ কেন অন্য হাতের ছোঁয়ায় ; এ’মন আমার অফুরাণ অভিমানি !
🖋️
_________________________
স্তবকে নির্ঘুম আদরের ওষ্ঠ
এই ঝিঁ ঝিঁ আঁধার মেশা বৃষ্টির ভেতর প্রিয় পুরুষ অচম্বিতে তোকে ছুঁলেই ; কপাল জুড়ে ঘাম ঝরাচ্ছে মহত্ প্রেমার্ত ! তবু শেষ আদরটুকু মৃত্যু দিয়ে সোদ কী হবে তায় , ….. বুকের ভেতর মন হারানোর কথা ; সাত সমুদ্রে কত দূরে ভেসে যায় ! সেই বয়সটা মেঘলা রঙ নিয়ে এভাবেই আঁকে ছবি ; সেই ছবিতে নেইযে অসুখ – বিসুখ , …. তবুও তুমি একাই একক নারী ; প্রেম-অপ্রেমে অদেখা অনেক কিছু ! বৃষ্টির গন্ধ মেখে এভাবেই নির্ঘূম রাত্রি যাপন ……..
অনেকটা পথ একটানা চলে চলে ; মন হারানোর পদ্য বলি তোকে ,
অনেকটা রাত বৃষ্টির ধ্বনী শুনতে শুনতে জেগে বসে শেষকালে , এ’মন শুধু ডুবেছে গভীর শোকে ! অন্য পুরুষ আমার মতন করে হঠাৎ তোকে স্বপ্নে চুমু খেলে ; লজ্জায় তুই শেষ করে দিশ অন্য আরও কিছু কথা , ….. তোর অভিমানে অন্য নারীর চোখে তাকিয়ে দেখি ভাঙাচোরা নীরবতা !
এই যে আমার অতীত হয়েছে শুরু ,
চোখের পাতায় ভাসছে মৃদু বর্ষণর অতলান্ত অভিমান ; ওই যে আমার কত কবিতার বাণী চিরন্তনী অথচ এলোমেলো ! না পাওয়ার জ্বালায় পুড়ছে বহুকাল ……..
যদিও এই একটানা বৃষ্টিতে প্রেম-ট্রেম বোঝেনা রাত ; মন যেন ভেজা ভেজা বাতাসের সাথে অন্য কথা বলে ,….
মেঘের বুকে কাপুরুষ তারাগুলো মান-অভিমানে এভাবেই পথ চলে ! ঠিক আমারি মতন …..
আমিও ভাবিনি শেষ স্তবকের মত গোপন করি অদেখা পুরুষটাকে ;
সাদাপৃষ্ঠায় বর্ণিত করি তোর ভিজে ওঠা নগ্নতা ,
মৃদু হাসি হেসে নীরবতা নিয়ে থাকে আজীবনের কলঙ্ক ও পাপ !
তবুও কেন রাতভোর বৃষ্টিতে অপেক্ষায় বসে থাকে দেওয়ালে আমার সাতান্ন বছরের ছায়া ; চুপ হয়ে যাই শরীর থেকে নিজে , …..
নিপুণ ভাগ্যে চিতার আগুনে জ্বলি , দর্পণে দেখি দু’চোখ অজান্তেই উঠেছে ভিজে !
_________________________
মিছিলে শয়তান ভদ্র সেজেছে
🖋️
পরিবর্তিত ঘটনাগুলো স্বপ্নে ঘোড়া ছুটিয়ে মাত্রাবৃত্তে বিদেহী পরিজনের ছবির কাছে এসে দাঁড়াতেই ; দ্বিতীয় অপুষ্টিজাত স্মৃতি অস্তিত্বকে দ্বিচারিতা হতে নিশেধ করতেই ভাষা বিপ্লবের পাঞ্জিকায় ছেঁকা লাগলো !
পৃথিবীর মানুষেরা দর্পণের কাছে যুগে যুগে ক্ষুণ্ণ হতে দেখে গেছে , সে জন্য পাঠশালায় নাগরিক সভার প্রস্তুতি চলছে উদ্বাস্তুদের নিয়ে !
অকস্মাৎ উচ্চারণ হল পিছিয়ে থাকা রূপকথার প্রাচীন নির্দিষ্ট সময়ের ধ্বনি ,—–
ভেতর থেকে সেক্যুলারিজম গন্ধ মিছিলের মধ্যে বাতলে দিল দঙ্গল থেকে অমানুষগুলোকে বুদ্ধিজীবিদের মতোই দেখাচ্ছে !
এই এক স্বপ্ন ধর্মহীনতার জন্ম দিয়েছে ; তাই বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে চতুর্দিকের নক্ষত্রগুলো ! প্রাণহীন ছায়া ভাসছে রাতের ভেতর ,—– এভাবেই গোপনে পুড়ছে অন্তর ; এভাবেই আদর্শ রাস্তা পার হচ্ছে বিধাতার ঠেলা খেয়ে !
এটাও এক অচেনা মানুষের কঙ্কাল , গভীরে প্রখর বাস্তরের বিষময় দশা ! তবুও মিছিলের ওপাশে গরু ও শুয়োরের বৃত্তান্ত নিয়ে লড়ছে ধার্মীক লোকজন …..
যতোই তোরা নিজেদের ধর্মনিরপেক্ষ বলিশ ; দেখে নিশ তোদের মুখোশ একদিন খুলবেই ৷
যে বা যারা ঈশ্বর এবং আল্লাকে নির্মাণ করেছে তাঁদেরকে সময় ঠিক খুঁজে বার করে নেবে !
অন্য দরজায় শয়তান এসে দাঁড়ালে অনুমানের ফর্দ ঝাপসা হয়ে যায় ! এটাও আমাদের অস্তিত্বের সংকট ; তা না হলে বিভিষণপ্রথম দল পালটানোর সাহস পায় !
মাঝেমধ্যে মোমবাতির নিচে অন্ধকার স্পষ্ট হয়ে ওঠে , তাই জ্যোৎস্না পেতে দিয়েছি প্রাচীন বৃক্ষের নিচে ,—– কেউ একজন মনস্তত্ত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষগুলোকে ঠকাচ্ছে সমষ্টির সমর্থন চরিতার্থ করার জন্য !
এভাবেই চলছে দুনিয়া ; যা কিছু পালটেছে সবটাই নড়বড়ে ঘড়ির কাঁটা ! এটাই নাকি ঐতিহাসিক বিপ্লব !!
_________________________
ষড়রিপু এবং কবিতার জরায়ু
🖋️
ভাঁজপত্রে ওপ্রান্ত দিয়ে ভেতর ভেতর গুপ্ত পদচারণা ; নত হয়ে মাটির কাছে চেয়েছি জ্ঞানপুস্তক ! শরীর গন্ধে বাতাস ভেসেছে ওই সেখানে , নরম-উষ্ণ হাত ধরে নিয়ে এলাম পদ্মচক্রের সাতরঙা পরীকে …..
কবিতার জরায়ু থেকে মন পোড়া দুরগন্ধ চিরমুগ্ধ দর্পণে নৃশংস সুন্দর দেখায় হৃদয় রেখার আঁচল খষা স্তন যুগল , নাভী গহ্বর , জনী দরজা গোপন আস্ফোলোন ; তবুও এঁকে নিতে হয় বিজ্ঞাপনের নগ্ন প্রতীমার ঋতুবতী কুমারী সোহাগ !
বৃষ্টির ভেতর চাঁদ ভাসে দস্যুমেঘের বুকে ,—- ওর মুন্ডু – রক্ত – ধড় বিনম্র একেকার ! তাই কালনিসিন্ধা পাতা চিবিয়ে অন্য ঘরে উঁকিমারার স্বকৌতুক স্বভাব ভুলি ; অন্য এক শরীর সামনে আচম্বিতে ধরা পরলে !
শেষ স্তবকে শুদ্ধ শব্দের রূপকথা ; যোনির উপমা ভরা স্বপ্লাভ প্লাবন ,—- সেখানেও স্পষ্টতই অন্তহীন শূন্যতা ; যতদূ-র বোধের মধ্যে হৃদয়ঙ্গম অসুখ নির্ঘুম – অতি অমাইক বহতা দহন ও শিহরণ !
এবার নাভিমূলে জেগে ওঠে সাত জন্মের প্রেতীনীরা ! ওখানে কিছু কিছু রাত তারাদের অন্তর্গত ঠুনকো উপহাস ; অচেনা অন্ত্যমিলে লেখা ৷
ওখানে অভুক্ত আমিও কবিতার নির্মাণ নিয়ে কাঙালপনা করেছি রক্ত ও মাংসে গড়া হৃদয়ের কাছে !
নিঃশব্দে ঈশ্বরের হাত চেপে ধরতেই ; গোপনাঙ্গ পেঁচিয়ে ধরে স্মৃতিসর্পিনী ,——
আমার সাথে অসংজ্ঞায়িত যাবতীয় অশরীর স্মৃতি ও প্রতিটা জন্মের মৃত্যুর ; সেজন্য সময় কাটেনা দুঃখে – এবং কিছু কিছু অভিমানে !
মনের পোশাক খুলে উলঙ্গ হয়ে ঘুরেছি বেশ কিছু কাল ; কবিতাগুলো অসুখের ভেতর অহর্নিশ এভাবেই মৃত অথচ জীবীত ,—— কামুক চন্ডাল !
বেঁচে উঠি সম্পূর্ণ বায়বীয় হয়ে ; যেভাবে উচ্চারণ করি বৃষ্টির ভেতর প্রিয় কবিতার শেষ লাইন ! সেটাও ভিজে ওঠে আমার কান্নায় …..
চোখের মধ্যে হঠাৎ যেন বিধিবদ্ধ পাপ কথা বলে ! অবশেষে চাঁদ ডোবে নির্ঘুম শরীর দিঘিতে !!
অভ্যন্তরে ডেকেছে পথ
🖋️
_________________________________
পথ থেকে মধ্যরাতের পংক্তি ; স্তবকের সরণিতে শব্দের বীজমন্ত্রের ব্রহ্মধ্যান বৃষ্টিপাতে পঞ্চভূত একক এভাবেই চেয়েছে আদরিনী বাতাস ! প্রশ্ন বান্ডিল ছিঁড়ে মৃদু পরিবর্তন ; তথাপি শরীরে কিশোরী স্পর্শ ছুঁয়ে নিতে চায় জন্মের প্রার্থনা !
বয়ঃসন্ধি যেখানে অক্ষর মনে ডুবে ছিল ; সেই পথে রোদ্দুর বেলায় স্বপ্নের উড়নচন্ডি ঘুড়িটা বেমালুম তথাকথিত ঢঙে আকাশ হারিয়ে ফেলেছে অকাল প্রয়াণে !
রাস্তা ধরবো বলে যাবতীয় সমৃতি গুলো দূষণের আকাশে সোপে দিলাম !
কিছু একটা নিরর্থক চলায় সুতরাং নামক প্রাচীরটা দৃশ্য আটকে গেলে ; নীরবতা মাখা শহরের ফুল গুলো দেবতার কাছে নির্দ্বিধায় বলেছে পয়ার ছন্দের ইতিহাস !
এভাবেই রাস্তা ধরে চলে যেতে যেতে দীর্ঘশ্বাসের ভেতর মাটি হারানোর দুঃখ অরণ্যচারিনীর শাড়ির আঁচলে গিঁট বেঁধে দেয় ! তবু এই চৌকাঠে অনেকখানি রাত্রি এসে মিশেছে বহুবার ,—— শেষ একবার সমস্ত অসুবিধা পেরিয়ে চিরকালীন স্তব্ধতাকে মননে নদী হতে বলি ; যদিও ততক্ষণে বৃষ্টি থেমে গেছে গোপনে গোপনে !
মন , এভাবে চাঁদের আলো মেখে ছিল ! ঘুম হারিয়ে সেও স্মৃতিসঙ্গী ; তবুও এই পথে হেঁটে ছিল তিন জন্মের মৃত্যু ! ঘোরতর দুঃখে হতাশ নীরবতায় বিছানার চাদর শরীর ও দেহের কাছে শেষ বারের মত কবিতাকে রেখে গেছে ,—– যেভাবে চেয়েছি প্রেম ; সহপাঠীর কাছে চাঁদের আলোতে অসবাসের জ্বালা স্বপ্নাতুর আর্তরব করে !
এই হাতের মুঠিতে দুঃখ পোড়া ভাগ্য সমস্ত মননে চোখ পেতে চেয়ে নেয় নতুন জন্ম ! রোজ এই পথে ভিখারী হয়ে ঘুরি ….. ! রোজ অন্য এক আমির মধ্যে ভালোবাসার ভুল উচ্চারণ ; পরতে পরতে সময় শূন্য হয় !
যদিও শেষ বারের মত রাস্তা ধরে চলার সময় ; জন্মের দরজা রাখি বন্ধ ! এই পথ দিয়ে অন্য আমিটার কথা সব ভুলে গেলে প্রাচীন জন্মের স্মৃতি আমাকে স্পর্শ করে উল্টো দর্পণের না ভালো লাগার মধ্যে ! যদিও এভারেই প্রতিবার মরণের পর আমার কবিতারা না ফেরার কথা ভুলে যায় ; অভিন্ন জীবন পেতে ৷ সাদা পৃষ্ঠার ভেতর প্রতিবার আমার নতুন নাম লিখি !!
শব্দ পোকাদের দেহ মিছিল
🖋️
ফাঁদ পেতেছে চাঁদ
সে-ই অতিরিক্ত আকশে ; অন্য এক অজ্ঞাত শূন্যে নিছক ডাবলবেডে ,—– লালন প্রহর হয়তো কিছু রাত জল বিলাসি দর্পণ , গান গাওয়া ফেরিওয়ালা নির্জন নাবালক বাতাস নিয়ে যাচে !
ওধারে মেতেছে স্বপ্নবিরোধী কথাহীন অপটু সময় ; নষ্ট নিঃশ্বাস থেকে ক্লোরিয়াস ঢেউ , —- কেউ কেউ সারস্বত সৃজনে সিড়ি বেয়ে উঠে চলে যায় সমবেত তারাদের পাসে !
চেহারা লুকিয়ে অভ্যন্তরে আত্মহারা জিন্দা লাশেরা ! নীচে আরও তলায় বাইপাস দিয়ে হেঁটে চলে যায় কন্ফুসিয়াস প্রজাতির কিছু প্রচীন শয়তান ,—– শহরের শেষ সীমান্তে ভবঘুরে এক মাতাল “ওরে বিহঙ্গ , ওরে বিহঙ্গ মোর এখনি অন্ধ বন্ধ”— বলে চিৎকার করে ২৫ শে বৈশাখের স্তবগান করে ! এই ভাবে জ্বলছে সময় ; তবু ভষ্ম হয়ে ঝরে যায় মান-অভিমান , প্রীতি-সম্প্রীতি , অথবা অন্য পৃথিবীর নিহত ইতিহাস ! চোখেরে ভেতর থেকে ডেকে ওঠে ব্যর্থ কিছু পথ ; বিবর্ণ বৃষ্টিরা দিনরাত দলছুট হলে স্বরচিত স্বপ্নের মধ্যে আমিও ফেরার একজন !
সেই ; সেই যে কালনিসিন্দা গাছের নিচে নিখোঁজ হয়ে ধ্যান সমাধিতে কতকালের জীবন ছেড়ে যাওয়া আমার কঙ্কাল ; সেও চিরনিদ্রায় এভাবেই সাধক গম্ভীর !
রোজ এভাবেই আঁকি কতশত নারীর শরীর ,—- রোজ এই অতলান্তে ডুবে যেতে যেতে রাতটাকে মাখাই পীড়ণের জ্বালা !
হঠাৎ দুয়ার খুলে দেখি ঘুম হারানো আমার সর্বনাশ ,—– এইটুকু যদি ছুঁয়ে বেঁচে ওঠে ; শেষবার বৃষ্টিবিন্দুদের সাথে কথা বলি !
এই ঘুম মৃত্যুর দরজায় জেগে বসে আছে ; কিছু কিছু সুখ সমৃতিসঙ্গী , তবুও কবিতার আলো ঢেলে চাঁদ ভাসে অন্য বিছানায় !
এভাবেই পুণ্যবান হব ; এভাবেই নিজের শরীর থেকে ছায়া সরিয়ে রেখে সাদা পৃষ্ঠায় আঁকবো অন্তরীক্ষ্য ! কথা শেষ হলে চোখের পাতায় ভরে ছিঁড়ে যাওয়া প্রেমের স্মৃতি সোহাগ ,—–
গর্ভের ভেতর থেকে অন্য এক আমির ভবিষ্যৎ উকি মারে ….. !
শেষের কবিতা পড়ে কতশত ভূত-প্রেত ; কতশত রাতের মধ্যে বিছানায় নগ্ন হয়ে বসে থাকে বঙ্কিমের কপাল কুণ্ডলা !
লেখকঃ কবি বিদ্যুৎ ভৌমিক, লেখক ও বাচিক শিল্পী