

ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লসের আসন্ন অভিষেক অনুষ্ঠানে কে কে থাকছেন তা নিয়ে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অনেক খবর হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত রাজ পরিবারের অভিষেক অনুষ্ঠানে কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ব্রিটেনের অংশ নেননি। এর কারণ নিয়ে বিবিসির এক প্রতিবেদনে নানা তথ্য উঠে এসেছে।
রাজ পরিবারের অভিষেক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট না থাকার কারণ কী দুই দেশের মধ্যে অন্তর্নিহিত শত্রুতার দিকে ইঙ্গিত না সাধারণ বিষয়? আগামী ৬ মে ওয়েস্টমিনিস্টার অ্যাবেতে রাজা চার্লস তার অভিষেক অনুষ্ঠানে শপথ বাক্য পাঠ করবেন। যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের অনেক দেশের রাষ্ট্রপ্রধানও উপস্থিত থাকলেও সেদিন সেখানে থাকছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
এ নিয়ে হোয়াইট হাউজ বিবিসিকে জানিয়েছে, বাইডেন অভিষেক অনুষ্ঠানের নিমন্ত্রণ পেয়েছেন কিন্ত তিনি নিজে যাচ্ছেন না। এর পরিবর্তে তিনি তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন ও একজন কূটনৈতিক পাঠাবেন বলে রাজা চার্লসকে ফোনে জানিয়েছেন।

তবে চার্লসের রাজ্যাভিষেকে কেন বাইডেন অনুপস্থিত থাকবেন সে বিষয়ে হোয়াইট হাউজ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তারা বলেছে, বাইডেন ভবিষ্যতে কোনো এক সময় যুক্তরাজ্যে গিয়ে রাজার সাথে দেখা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে বাইডেনের এই অনুপস্থিত থাকার খবর কিছুটা আলোড়নই তৈরি হয়েছে।
টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কনজার্ভেটিভ এমপি বব সিলি বলেন, ‘জীবনে একবার হতে যাওয়া এই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাইডেন কিছুটা অবহেলা করছেন বলেই মনে হচ্ছে।’
অন্যদিকে ডেইলি মেইল পত্রিকার সহসম্পাদক স্কাই নিউজকে বলেছেন, বাইডেনের না আসার কারণ তার ‘পূর্ব পুরুষদের আইরিশ আভিজাত্যের অহংকার।’
তবে ইতিহাসবিদরা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই অনুষ্ঠানে না আসার পেছনে বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, এতে সেরকম রাজনৈতিক কোনো কারণ নেই। রাজ অভিষেক অনুষ্ঠানে আমেরিকার প্রেসিডেন্টের না যাওয়ার প্রথাটা আসলে তাদের শত বছরের ঐতিহ্য।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথা অনুযায়ী অভিষেকে নিজে না গিয়ে বহর পাঠিয়েছেন বাইডেন। তবে অনুষ্ঠানে না গেলেও রাজা চার্লসের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্রিটেন সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন তিনি।
নিউজ/এম.এস.এম