ছাতকে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সহ সভাপতি লায়েক মিয়া (৪৫)। মঙ্গলবার রাতে ছাতক থানা সংলগ্ন গণেশপুর খেয়াঘাটে তাকে এলোপাতাড়ী ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। স্থানীয়রা তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় প্রথমে ছাতক হাসপাতালে পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন।
লায়েক মিয়া শহরের মন্ডলীভোগ-জংলীগড় এলাকার মৃত আব্দুল মান্নান ওরফে মনা মিয়ার পুত্র। তিনি ছাতক পৌরসভা নির্বাচনে ৭নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এদিকে লায়েক মিয়ার মৃত্যুর খবর এলাকার ছড়িয়ে উত্তেজিত তার স্বজনরা প্রতিপক্ষের কয়েকটি বসতঘর ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগ করে। অগ্নিকান্ডে বড়ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি ঘটার আগেই পুলিশ ও ফায়ার সাভিসের কর্মীদের দ্রুত হস্থক্ষেপে আগুন নিয়ন্ত্রন আনতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে লায়েক মিয়া ও একই এলাকার বাসিন্দা তাজ উদ্দিনের পুত্র আব্দুল কদ্দুস শিপলুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি মন্ডলীভোগ লাল মসজিদ পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব নিয়ে লায়েক মিয়া পক্ষ ও আব্দুল কদ্দুস শিপলু পক্ষের পূর্ব বিরোধ চরম আকার ধারন করে। এ নিয়ে কয়েকদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরাজ করছিল তীব্র উত্তেজনা। সোমবার লায়েক মিয়া পক্ষের কাজল মিয়া ও আব্দুল কুদ্দুস শিবলুর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার রাতে তারাবি নামাজ চলাকালে গণেশপুর খেয়াঘাটে খেয়া পারাপারের টাকা তুলছিলেন লায়েক মিয়া। এসময় আব্দুল কুদ্দুস শিবলু ও তার সহযোগীরা পিছনের দিক থেকে লায়েক মিয়াকে উপর্যুপরি এলোপাতাড়ী ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। আশংকাজনকভাবে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন।
ঘঠনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি ডিবি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জের সহকারি পুলিশ সুপার, ছাতক সার্কেল রনজয় চন্দ্র মল্লিক মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আব্দুল কদ্দুস শিপলুর পিতা তাজ উদ্দিন ও দাদা এরশাদ আলী এবং গৌছ মিয়ার পুত্র সজিব মিয়া(২৪) কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। ২৯ মার্চ রাত ১০-৩০মিনিটের সময় মরহুমের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।