

নবীগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহহীন প্রকল্পের গৃহ হস্তান্তর নিয়ে সাংবাদিক ছাড়াই প্রশাসনের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে সাংবাদিক মহলে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তৃতীয় ও চতুর্থ পর্যায়ে জমি ও গৃহ হস্তান্তর নিয়ে রবিবার (২০ মার্চ) নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। উক্ত সংবাদ সম্মেলনে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি সম্পাদকসহ নবীগঞ্জের বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় কর্মরত ৩০জন সাংবাদিক কোন দাওয়াত পাননি। এনিয়ে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে সাংবাদিক মহলে।
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও এর দুই পাশে রাজনৈতিক নেতা ও জন প্রতিনিধিদের বসা দেখা যায়। দুই তিন জন অফিসমুখী সাংবাদিক ছাড়া বেশির ভাগ সাংবাদিক ঐ অনুষ্ঠান বর্জন করেন। প্রধানমন্ত্রীর ঐ প্রকল্পে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের অনেক সাংবাদিক দাওয়াত না পাওয়ার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই।
উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন , আগামী ২২ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪র্থ পর্যায়ে ২৭৭টি ঘর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে নবীগঞ্জে “ক” শ্রেণীর ভুক্ত ভুমিহীন ও গৃহহীন ৮১৫টি পরিবারকে পূর্নবাসনের উদ্দ্যেগ নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এর মধ্যে ১ম পর্যায়ে ১১০টি দি¦তীয় পর্যায়ে ৬০টি তৃতীয় পর্যায়ে ৩৫৫ টি ৪র্থ পর্যায়ে ২৭০টি ঘর প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে সব সাংবাদিক দাওয়াত পাওয়ার কথা থাকলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান শাহরিয়ার অজ্ঞাত কারনে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সম্পাদকসহ বেশির ভাগ সাংবাদিককে দাওয়াত দেননি।
এবিষয়ে নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও কালের কণ্ঠের প্রতিনিধি মোঃ আলমগীর মিয়া বলেন, আমার সংগঠনের কেউ দাওয়াত পাননি। নবীগঞ্জের প্রবীন সাংবাদিক, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব প্রতিনিধি ফখরুল আহসান চৌধুরী বলেন, প্রধনমন্ত্রীর এতো বড় মহান প্রকল্পের সংবাদ সম্মেলনে কেউ আমাকে দাওয়াত দেননি, এখন শোনলাম সংবাদ সমে্মেলন হয়েছে। নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও ইত্তেফাক প্রতিনিধি সাইফুল জাহান চৌধুরী, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যায়যায়দিন প্রতিনিধি এটিএম সালাম, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি যুগান্তর প্রতিনিধি মোঃ সরওয়ার শিকদার বলেন, আমরা সংবাদ সম্মেলনের কোন খবর জানিনা। প্রশাসন আমাদেরকে দাওয়াত করে নাই।
নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সমকাল প্রতিনিধি এম,এ আহমদ আজাদ বলেন, প্রেসক্লাব সভাপতি হিসাবেতো কোন দাওয়াত পাইনি বরং একজন এক্টিভ রানিং সাংবাদিক হিসাবেও আমাদের কোন দাওয়াত করা হয়নি। আমরা তীব্র হতাশ প্রধানমন্ত্রী এই মহান প্রকল্পের সংবাদ সম্মেলনে দাওয়াত না পাওয়ার জন্য।
এব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, আমি বিষয়টির ব্যাপারে খোঁজ খবর নিবো সাংবাদিক সমাজ কেন দাওয়াত পায়নি। প্রেসক্লাব নিয়ে কোন গ্রুপিং থাকলেও জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার সব সাংবাদিক দাওয়াত পাওয়ার কথা। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে বলেন সাংবাদিকদের সাথে প্রশাসনের কোন দ্বন্দ নেই, কে এসব করছে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখবো।