শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬, ০৯:১৩ অপরাহ্ন

সাধু সাবধান

কথিত বিরোধীদলের আন্দোলন ও আওয়ামী লীগ এর জয় জয়কার

দেওয়ান ফয়সল
  • খবর আপডেট সময় : বুধবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৩
  • ২০৯ এই পর্যন্ত দেখেছেন

বিএনপি এবং তাদের সহযোগী অঙ্গ সংগঠনগুলো একের পর এক ঢাকা কেন্দ্রীক সভা সমাবেশ করেই যাচ্ছে। তাদের বিশ্বাস যদি ঢাকার লোকজনকে তাদের বক্তব্য দিয়ে খুশী করতে পারে তাহলেই সরকারের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলন সফল মনে করে তৃপ্তির ঢেকুর ফেলে একদিন তারা ঘরে ফিরে যেতে পারবে। তারা যেসব ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করছে তা দেশবাসীর ও বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে মূল্যহীন।

গত ২১ জানুয়ারী ঢাকার পুরানা পল্টনে গণফোরাম কার্য্যালয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভায় গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলে আগামী নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার দাবিতে দেশব্যাপী জনমত গঠনে কার্য্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। ড. কামাল হোসেন বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতি, গ্যাস বিদ্যুৎ সহ জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে জনজীবনে সীমাহীন দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

সংবাদের হেড লাইন দেখে আমি ভেবেছিলাম, ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যটি হয়তো নতুনত্ব একটা কিছু উপদেশ নিয়ে আসবে, তাই মনোযোগ দিয়ে পড়ে দেখি, নাহ, সেটিতো বিএনপি মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যেরই হুবহু। দীর্ঘদিন থেকে বিএনপি আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে অথচ ড. কামাল হোসেনের নীরবতা আমাকে একটু ভাবিয়ে তুলেছিলো এ কারণে যে, তিনি অন্য কোন পন্থা বের করে সরকার হটানোর কোন আল্টিমেটাম দেবেন কি না! যাতে তাঁর নেতৃত্বে গত নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী বন্ধুরা তাঁকে আবার বুকে টেনে নিয়ে আগের মতোই ইমামের মর্য্যাদা দিয়ে নেতৃত্বে বসাবেন।

বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ গত নির্বাচনের সময়ে ড. কামাল হোসেনকে বিশ্বাস করে তাঁর উপর যে দায়িত্বভার অর্পন করেছিলেন তার প্রতিফল হিসেবে পেয়েছিলেন কপালে কলঙ্ক লেপন। যার খেসারত গত ১৪ বছর ধরে দিতে হচ্ছে বিএনপি’কে। শুধু জোটের নেতৃবৃন্দরাই নন, তিনি তাদের জোটে আরও নিয়েছিলেন এক সময়ে সারা বাংলাদেশের গর্ব, বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা বঙ্গবীর বাঘা কাদের সিদ্দিকী এবং এক সময়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোর ছাত্রলীগ নেতা সাবেক ভিপি বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকেও। তারা ড. কামাল হোসেনকে বিশ্বাস করে তার জোটে যোগ দিয়ে তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করেছেন। বঙ্গবীর বাঘা কাদের সিদ্দিকী একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দেশবাসীর কাছে তিনি একজন শ্রদ্ধার পাত্র। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু পরিবারের সাথে তাঁর গভীর সম্পর্ক। কিছুদিন আগে স্বপরিবারে তিনি তাঁর বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করে বিগত দিনে তার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। বঙ্গবীর সব সময়ই শেখ হাসিনাকে বোন হিসেবেই দেখে আসছিলেন, সেটা তিনি দেশবাসীর কাছে প্রমাণ দিলেন সেদিনের সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে।

আমার সবচেয়ে আনন্দ লাগছে যে, এত বড় মাপের একজন মানুষ হয়েও তিনি নির্দ্ধিধায় তাঁর ভুলের কথা অকপটে স্বীকার করে নিলেন তাঁর বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে, এর চেয়ে বড় মনের মহৎ কাজ আর কি হতে পারে?

আমার সবচেয়ে আনন্দ লাগছে যে, এত বড় মাপের একজন মানুষ হয়েও তিনি নির্দ্ধিধায় তাঁর ভুলের কথা অকপটে স্বীকার করে নিলেন তাঁর বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে, এর চেয়ে বড় মনের মহৎ কাজ আর কি হতে পারে?

ড. কামাল হোসেন এখন ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের সাথে সুর মিলিয়ে বক্তব্য দিয়ে যদি আবারও তাদের দলে ভিড়তে চান? আমার মনে হয় তাদের কাছে আর তাঁর জায়গা হবেনা। ’ন্যাড়া একবারই বেল তলায় যায়’।
বিএনপি’র এই আন্দোলন এবং তাদের ইস্যুগুলো বিশ্বের সব দেশের নেতৃবৃন্দরাই গুরুত্ব দিয়ে পর্য্যবেক্ষণ করছেন। তারা ভালো করেই এখন বুঝতে পারছেন যে, বিএনপি যেসব ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করছে সেগুলো মূল্যহীন। তাদের ইস্যুগুলোতে তারা যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে দেশ কিভাবে চালাবে, দেশের সাধারণ মানুষের জন্য তারা কি কি কাজ করবে, দেশের উন্নয়নের কোন রূপরেখা নেই অথবা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকারের সাথে তাদের কুটনৈতিক সম্পর্ক কেমন হবে তার কোন ব্যাখ্যা নেই। তাদের একটা লক্ষ্যই হলো ক্ষমতায় যাওয়া।

গত কয়েক মাসে বিশ্বের কয়েকটি দেশের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ যারা বাংলাদেশ সফর করে গেছেন, তারা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে তাদের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে গেছেন।

উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছাতে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশন) এক্সেল ভন টর্টসেনবার্গ। এ সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও প্রসংশা করেন তিনি।

গত ২১ জানুয়ারী ইউকেবিডিটিভি’তে প্রকাশিত খবরে প্রকাশ, উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছাতে বাংলাদেশের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অপারেশন) এক্সেল ভন টর্টসেনবার্গ। এ সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও প্রসংশা করেন তিনি। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক সভায় এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের বিভিন্ন সময়োচিত পদক্ষেপেরও প্রসংশা করেন। বাংলাদেশের উচ্চমধ্যম আয়ের দেশের অভীষ্টে পৌঁছাতে বিশ্বব্যাংকের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সভায় বিশ্বব্যাংকের খসড়া কান্ট্রিূ পার্টনারশীপ ফ্রেমওয়ার্ক (সিপিএফ) নিয়েও আলোচনা হয়। এক্সেল ভন টর্টসেনবার্গ জানান, সিপিএফ-এ বাংলাদেশকে উচ্চমধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এর পুর্বে আইএমএফের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক অন্তোনিয়েতে মোনসিও সাইয়েহ বলেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং উচ্চ আয়ের দেশে প্িরণত হতে চায়। এই আকাঙ্খা পূরণে আইএমএফ পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, আইএমএফ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করছে। আমি এই সম্পর্ককে আরও জোরদার করতে এসেছি।

এছাড়াও জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝিতে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডোনাল্ড লু । ১৪ জানুয়ারী রোববার রাতে ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার আগে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের সঙ্গে বাইডেন প্রশাসন খুব ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে উন্মুখ হয়ে আছে। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, মুক্তভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা এবং এক বা সম্মিলিত ভাবে মতামত, আইডিয়া কিংবা চিন্তা জনসমক্ষে শেয়ার করার স্বাধীনতার পক্ষেই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সচিবের বক্তব্যের মাঝামাঝি সালাম দিয়ে শুরু করা বক্তব্যে ডোনাল্ড লু বাংলায় বলেন, মনোমুগ্ধকর নদীমাতৃক এবং অতিথিপরায়ন মানুষের দেশ বাংলাদেশে আসতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি এখানে এসেছি, আমাদের দুই দেশের বন্ধুত্বকে শক্তিশালী করতে, যখন বিশ্ব শান্তি ও ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম চলছে।

একদিকে চলছে বিএনপি সহ তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর আন্দোলন আর অন্যদিকে বিশ্বের বিভিন্ন সেক্টরের নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশ সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে একজন সৎ এবং ন্যায়পরায়ন, আরাম আয়েশকে প্রাধান্য না দিয়ে বরং দেশের মানুষের মানোন্নয়নে কাজ করে তাঁর অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছার এক সংগ্রামী নেত্রী বলেই স্বীকার করে নিয়েছেন। এ কারনেই তারা সবাই বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত রাষ্ট্রে উত্তরণে সর্বাত্মক সাহায্য প্রদানের আশ্বাস দিয়ে গেছেন।

বিএনপি যদি শান্তিপূর্ণ ভাবে তাদের আন্দোলন চালিয়ে যায় তাহলে একদিন হয়তো বিশ্বনেতৃবৃন্দের কাছে তারাও দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে উপযুক্ত সম্মান পাবে আর যদি বিশৃঙ্খলার পথে যায় তাহলে তারা হবে ধিকৃত। তাই বলছিলাম, বিরোধী দলের আন্দোলনে সুবাতাস বইছে আওয়ামী লীগে।

লেখকঃ দেওয়ান রফিকুল হায়দার (ফয়ছল), কলামিষ্ট, সিনিয়র সাংবাদিক ও সদস্য লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাব

দয়া করে খবরটি শেয়ার করুন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

এই ক্যাটাগরিতে আরো যেসব খবর রয়েছে
All rights reserved © UKBDTV.COM
       
themesba-lates1749691102